আবারও ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষ আহত ৩০|362672|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
আবারও ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষ আহত ৩০
ঢাবি প্রতিনিধি

আবারও ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষ আহত ৩০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে ছাত্রলীগ বলছে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছে তারা। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও আগামীকাল মহানগর ও কলেজগুলোতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তারা।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ছাত্রদল সংবাদ সম্মেলন করতে ক্যাম্পাসে আসার পথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তাদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। হামলায় অন্তত ৪০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংগঠিত হয়ে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেয় ছাত্রদল। এ সময় দুই পক্ষ ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে ছাত্রলীগ পাল্টা ধাওয়া দিলে ছাত্রদল ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এ হামলার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দেয় সংগঠনটি। পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ করতে এসে আবারও মারধরের শিকার হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের বিক্ষোভকে প্রতিহত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছাত্রলীগের একটি অংশ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে অবস্থান নেয়। আরেকটি অংশ মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে হেলমেট, রড, স্টাম্প, চাপাতি, লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন এলাকায় ‘শোডাউন’ দেয়।

দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্ট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেয় ছাত্রদল। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রদল। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন দেশীয় দেখা যায়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ছাত্রদলকে লক্ষ করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তবে ওই ছাত্রলীগ কর্মীর পরিচয় জানা যায়নি।

হামলার পর সাড়ে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নাসিরুদ্দিন নাসির মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলাম। ছাত্রলীগ হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমি এখন কোর্টের মধ্যে আছি। আমরা আবারও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করব।’

এদিকে দুপুর ১টার দিকে হাইকোর্টের ভেতরে প্রবেশ করে হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগের একদল কর্মী। তাদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদারকে। তাদের সবার হাতেই রড, লাঠি, বাঁশ ও হকিস্টিক ছিল। হাইকোর্টের মাজারের সামনে ছাত্রদলের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যায় তাদের। পরে মারধরকারী কর্মীদের নিবৃত্ত করে আহত ছাত্রদল কর্মীকে রিকশায় তুলে দেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিব হোসেন। আহত ওই কর্মীর নাম নাহিদ চৌধুরী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে তারা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। আমিসহ অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’

সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়েছেন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক আবির আহমেদ। তার ওপর হামলার বিষয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তিন। এ সময় আবারও কয়েকজন ছাত্রলীগের কর্মীকে তারদিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিককে লক্ষ করে বলেন, ‘তুই শুধু আমাদের দেখিস, ছাত্রদলকে দেখিস না। দেখ ছাত্রদল আমাদের মেরে কী করছে। আমরা তো আগে তাদের মারিনি।’ তারপর ওই কর্মী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে আবির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ আমি ভিডিও করছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন ছাত্রলীগের কর্মী এসে আমার ওপর হামলা করে।’

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, ‘ছাত্রদল তাদের হামলা করলে তারা প্রতিহত করেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল তার পুরনো ইতিহাসের মতো ফের ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করতে চাইছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে শান্তিপূর্ণ রাখতে রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি আমরা ছাত্রলীগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মেধাবীর প্রাণ ঝড়েনি, কেন না সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। আমরা চাই না এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের মতো সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ ঝড়–ক মেধাবী শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চায় না। আর এ কারণেই এ প্রতিরোধ।’