এক দরে ডলার বিক্রি হবে সব এক্সচেঞ্জ হাউজে|362680|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
এক দরে ডলার বিক্রি হবে সব এক্সচেঞ্জ হাউজে
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক দরে ডলার বিক্রি হবে সব এক্সচেঞ্জ হাউজে

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা বেঁধে দেওয়া হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দামের পার্থক্যের কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব এক্সচেঞ্জ হাউজে এক দরে ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অথরাইজড ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে তারল্য (ডলার বিক্রি) সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে। রপ্তানিকারকের ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানিমূল্য ডিসকাউন্টটিংসহ রপ্তানি মূল্য ওই ব্যাংকেই বিক্রি করতে হবে। বাফেদা এবং এবিবি একত্রে এক্সচেঞ্জ হাউজের জন্য ইউনিফর্ম এক্সচেঞ্জ রেট (এক দর) নির্ধারণে কাজ করবে। যা দেশের সব এডি ব্যাংক মেনে চলবে। বাফেদা আন্তঃব্যাংক দর প্রস্তাব করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করবে। এ সিদ্ধান্ত আগামী রবিবারের মধ্যে জানানো হবে।

এর আগে ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিরসনে গত ১৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাফেদা চিঠি দিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বৈধভাবে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা, বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ডলার সরবরাহ করা, বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা। আর সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ‘একক বিনিময় হারে’ লেনদেন করবে এবং সেই হার আন্তঃব্যাংকের মধ্যে লেনদেনের থেকে কমপক্ষে শূন্য দশমিক এক শতাংশের কম হবে। এই একক বিনিময় হার কঠোরভাবে তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চিঠিতে বাফেদার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কর্তনমূল্যের সুযোগ নিশ্চিত এবং রপ্তানির কাগজপত্র যাচাই করবে। এছাড়া একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির ঋণপত্র (এলসি) বিল ও সরকারি বাধ্যতামূলক পাওনা পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাহিদার তারল্য সরবরাহ করবে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত এডি ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে শুধু সরকারের বাণিজ্য ও বাধ্যতামূলক পাওনা বড়জোর তিন মাসের জন্য পরিশোধ করবে।

বাফেদার এক সদস্য জানান, দেশে এখন আমদানির জন্য যে পরিমাণ অর্থ বা ডলার খরচ হচ্ছে, তা রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে মিটছে না। এর ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

বর্তমানে খোলাবাজারে ডলারের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমে এসেছে। রাজধানীতে গতকাল প্রতি ডলার ৯৭-৯৮ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান, এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আরএফ হোসেন, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামস-উল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংকের এমডি মনিরুল মাওলা ও মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।