জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘অর্থনৈতিক’ কূটনীতি সপ্তাহ|362682|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২ ০০:০০
জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘অর্থনৈতিক’ কূটনীতি সপ্তাহ
উম্মুল ওয়ারা সুইটি

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘অর্থনৈতিক’ কূটনীতি সপ্তাহ

দেশে প্রথমবারের মতো ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনে একযোগে এ সপ্তাহ পালনের কর্মযজ্ঞ চলছে। আগামী ৯ থেকে ১২ জুন এ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় চেয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময়ও চাওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নতুন দ্বার খুলবে। দেশ যখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির ধারাবাহিক প্রোগ্রাম করছে, ঠিক একই সময়ে সামগ্রিক এ আয়োজন নতুন মাত্রা যোগ করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে দুই বছর ধরে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও কম হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে না হতেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে দেশে দেশে অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববাজারের মন্দার ধাক্কা লেগেছে। ফলে এই উদ্যোগ সব দিক থেকেই ইতিবাচক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৮১টি মিশন ছাড়াও ঢাকায় হবে এর কেন্দ্রীয় আয়োজন। যার আওতায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্লেষক এবং বিদেশি প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে সিরিজ মতবিনিময় সভা হবে। থাকবে সেমিনার, আলোচনা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায় উদ্বুদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। তা ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো নিজ নিজ অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় দেশের জন্য সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলো বিবেচনায় অনুরূপ কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানমালা গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিভিন্ন দিক, কৃষি উদ্ভাবন ও বিদেশে চুক্তিভিত্তিক কৃষি খামারের সম্ভাবনা, খাদ্য নিরাপত্তা, সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক, বিশ্ববাণিজ্য ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুষমীকরণ, মুক্ত চলচ্চিত্র শিল্প ও সংগীতের বিভিন্ন সম্ভাবনা, কাঠামোগত বিনিয়োগ সম্ভাবনা, চামড়া, মসলিন ও হাই ফ্যাশন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্নমুখী পর্যটন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিভিন্ন দিক এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ও তৈরি পোশাক খাতের দিকগুলো তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবেদনে এ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে সচেষ্ট রয়েছে। সরকারের এ প্রচেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অর্থনৈতিক কূটনীতি কার্যক্রম পরিচালনা। বিদেশে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মানবসম্পদ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশি উন্নত প্রযুক্তি দেশীয় খাতে সংযুক্তকরণ এ কার্যক্রমের অগ্রাধিকার হিসেবে ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে এ কার্যক্রম অধিকতর বেগবান করতে আগামী ৯-১২ জুন ঢাকায় ও বাংলাদেশ মিশনগুলোতে একযোগে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ উদযাপন একটি কার্যকর ও সময়োচিত পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ সপ্তাহ বাংলাদেশের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যায়।’ ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ সংক্রান্ত সব ব্যয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কার্যক্রম ‘অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন’ থেকে নির্বাহ করা হবে বলেও এতে জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালি উর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই উদ্যোগটায় মিশনগুলোতে গতিশীলতা আসবে। বিশ্বে অস্থিরতা চলছে, এ সময় দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার তৈরি হবে। কোথায় কোন সম্ভাবনা সেই বিষয়গুলো উঠে আসবে।’