logo
আপডেট : ৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০
পরিবর্তনের উত্তরাধিকার রেখে গেলেন মরগ্যান
ক্রীড়া ডেস্ক

পরিবর্তনের উত্তরাধিকার রেখে গেলেন মরগ্যান

ইতিহাস কাকে কীভাবে মনে রাখবে তা ইতিহাসের হাতে নেই। কথাটা ইয়ন মরগ্যানের ক্ষেত্রে খুব সত্যি। কারণ তিনি ব্যতিক্রম। ইতিহাসের নির্মাতা।

ইংল্যান্ডের হয়ে ২২৫ ওয়ানডেতে ১৩টি সেঞ্চুরিসহ ৬৯৫৭ রান করেছেন মরগ্যান। ১১৫ টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ২৪৫৮ রান। ১৬টি টেস্টও খেলেছেন। সেখানে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৭০০ রান করেছেন। যা অনেকেই করে থাকেন। ইতিহাস মনেও রাখে না। মরগ্যানকে ইতিহাস মনে রাখবে। রাখতে বাধ্য। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২৩ আর ইংল্যান্ডের হয়ে ২৩ ওয়ানডেতে মোট ৭৭০১ রানের জন্য নয়। মরগ্যানকে মনে রাখবে ইংলিশ ওয়ানডে ক্রিকেট বিবর্তনে তার অবদানের জন্য।

সফলতম ইংলিশ অধিনায়ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন আয়ারল্যান্ডের জার্সিতেই। হাল্কা সবুজ জার্সি পরে প্রায় তিন বছর খেলেছেনও। এরপর ইংল্যান্ডে চলে আসেন। অনেকটা নাটকীয়ভাবে। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করা মরগ্যান সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি খেলেননি কুঁচকির চোটকে কারণ দেখিয়ে। এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ২০১২ সাল থেকে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ২০১৪ সালে অ্যালিস্টার কুকের হাত থেকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান যখন, বিশ্বকাপ আর কয়েকমাস দূরে তখন। দলের কোচ তখন ট্রেভর বেইলিস। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে প্রস্ফুটিত হয়নি ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের ৫ ম্যাচের চারটিতেই হার। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছেও হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। দলের পারফরম্যান্সটা মিলে যায় ব্যক্তি মরগ্যানের পারফরম্যান্সে (০, ১৭, ৪৬, ১৭, ০)। সমালোচনার শেল বিঁধতে থাকে। কিন্তু জেদি মরগ্যান নিজেই নিজেকে পাল্টে ফেলেন। খুঁজে বার করেন পাওয়ার হিটার। ফাস্টবোলার খুঁজে বার করেন। আর এ সবের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হয়ে ওঠে সীমিত ওভারে নড়বড়ে ইংল্যান্ড। নিয়মিতই তারা তিনশোর বেশি রান তুলতে শুরু করে। সেই বিবর্তন সফল্যে রূপ নেয় ২০১৯’র বিশ্বকাপে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭১ বলে ১৪৮ রানের ইনিংসে ওয়ানডেতে সর্বাধিক ১৭ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়ে মরগ্যান নিজে দেখিয়ে দেন। লর্ডসের ফাইনালের অবিশ্বাস্য এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে হাতে তুলে নেন বিশ্বকাপ, যার পেছনে ছুটছিল ইংল্যান্ড সেই ১৯৭৫ সালের প্রথম টুর্নামেন্ট থেকে। অবসরের সময় কীর্তির কথা নিজেই বলেছেন মরগ্যান, ‘আমি বিশ্বাস করি ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলটি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি উজ্জ্বল। আমরা এখন আরও অভিজ্ঞ, আরও শক্তিশালী ও দলের গভীরতাও যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

ইংল্যান্ডের হয়ে ১২৬ ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করেছেন মরগ্যান। একটা বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু ৭২টা ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে অল্পের জন্য দুটি বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া করেছেন। ২০১৬ সালে মরগ্যানের ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানার্স আপ হয়েছিল। ২০২২ সালে তারা সেমিফাইনাল খেলে। এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল শুধু মরগ্যানের জন্য। অবসর নেওয়ার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের এমডি রব কি ঠিকই বলেছেন, ‘মরগ্যানের মতো বড় মাপের ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক খেলাটাই পাল্টে দিয়েছিলেন। একটা প্রজন্মকেই পাল্টে দিয়েছেন তিনি। পরের প্রজন্ম কীভাবে খেলবে সেটার ওপরেও প্রভাব রয়েছে মরগ্যানের। আগামী দিনেও তার প্রভাব থাকবে।’

ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক গ্রেট অধিনায়কের জন্ম দিয়েছে। আর্চি ম্যাকলারেন, টেড ডেক্সচার, রে ইলিংওয়ার্থ, কলিন কাওড্রে, মাইক ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, অ্যালিস্টার কুক, জো রুট নামের শেষ নেই। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়কের নাম চাইলে মরগ্যান ছাড়া অন্য কারে কথা মনেই পড়বে না যিনি খেলাটার রূপান্তর ঘটিয়েছেন। খেলা ছেড়ে দিয়ে সেই পরিবর্তনের ঐতিহ্য তিনি জশ বাটলারদের মধ্যে রেখে গেলেই। যারা এখন ওয়ানডেতে ৫০০ রান করার যোগ্যতা রাখেন।