logo
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২২ ১৬:৩৩
বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কবিতা
কামরুল হাসান সোহেল

বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কবিতা

বঙ্গবন্ধু ১০ই জানুয়ারি ১৯৭২ স্বাধীনভাবে স্বাধীনদেশে গৌরব নিয়ে ফিরে আসেন। বাঙালীর ত্যাগ, শ্রম, বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরুপ ঐদিনই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।

তিনি বলেন, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। তিনি আবৃত্তি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা,

সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,

রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আজ আর কবিগুরুর সে কথা বাংলার মানুষের বেলায় খাটে না। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছে,তারা বীরের জাতি,তারা নিজেদের অধিকার অর্জন করে মানুষের মত বাঁচতে জানে।

বঙ্গবন্ধু ৭ই ফেব্রয়ারি, ১৯৭২ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নিয়ে ভাষণ দেন। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে উচ্চারণ করেছিলেন,

নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি

দেবার কিছু নাই,

আছে শুধু ভালবাসা

দিলাম আমি তাই।

ঐ একই ভাষণে পাকিস্থান আর মার্কিনিদের সাম্রাজ্যবাদকে হুশিয়ার করে আবৃত্তি করেছিলেন, নাগিনীরা দিকে দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস

শান্তির ললিতবাণী শুনাইবে ব্যর্থ পরিহাস।

যাবার বেলায় তাই ডাক দিয়ে যাই

দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তঁরে

প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু বলেন, আমার পাটের দাম নাই, আমার চায়ের দাম নাই। আমরা বেচতে গেলে অল্প পয়সায় আমাদের বিক্রি করতে হয়,আর আমি যখন কিনে আনি, যারা বড় বড় দেশ, তারা তাদের জিনিসের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়। ঐ সকল অশুভ শক্তিকে তিরস্কার এবং সাবধান করে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি করেছিলেন,

হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,

অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।

লেখক: মো. কামরুল হাসান সোহেল; ইউএনও, জাজিরা, শরীয়তপুর