logo
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০
জেলেনস্কি গুতেরেস এরদোয়ান বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সূত্র মেলেনি
রূপান্তর ডেস্ক

জেলেনস্কি গুতেরেস এরদোয়ান বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সূত্র মেলেনি

জাতিসংঘ আর তুরস্কের মধ্যস্থতায় মাসখানেক আগেই কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানির চুক্তি করে মস্কো ও কিয়েভ। চুক্তির শর্ত মেনে ইউক্রেনের তিনটি বন্দর থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে। আগস্টের প্রথমার্ধে ৫ লাখ ৬৩ হাজার টন খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্য নিয়ে ইউক্রেনের বন্দর ছেড়েছে। এ অবস্থায় ফের যখন জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান উদ্যোগ নিয়ে ইউক্রেন গিয়েছেন, তখন আশা করা হচ্ছিল যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত আসতে পারে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির জেলোনস্কির সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধবিরতির তেমন কোনো কূটনৈতিক সূত্র মেলেনি।

গতকাল ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের শহর লিভিভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসেন গুতেরেস ও এরদোয়ান। তবে ওই বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো সমাধানের পথ হয়নি। তবে খাদ্যশস্য রপ্তানি ও খারকিভের জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবাই বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের ওই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে।

মার্চ মাস থেকে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নামে ইউরোপের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেনে পশ্চিমা নেতারা। ইউক্রেনের অভিযোগ, রুশ সেনারা ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। সেখানে তারা ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেনি। সেখানে শুধু পাহারা দেওয়ার জন্য সেনা রয়েছে। তারা কিয়েভের বিরুদ্ধে ওই কেন্দ্রে হামলার উসকানির অভিযোগ এনেছে।

অন্যদিকে জেলেনস্কি জাপোরিঝিয়া এলাকা থেকে রুশ সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে অস্ত্র ও রুশ সেনাদের সরতে হবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার ইউক্রেনে পৌঁছেছেন গুতেরেস। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর এটা তার দ্বিতীয় ইউক্রেন সফর। গত এপ্রিলে তিনি ইউক্রেনে গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। তার আগে মস্কোয় গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন সফরে এরদোয়ান। গতকাল লভিভে জেলেনস্কি তাদের স্বাগত জানানোর পর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তুর্কি প্রেসিডেন্টের ইউক্রেন সফর একটা শক্তিশালী দেশের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’

আর জাতিসংঘ মহাসচিব রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষকেই শান্ত থেকে যুদ্ধ থামানোর একটা উপায় খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এরদোয়ানও জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে কিছু ঘটা মানে আত্মহত্যা করা। নিরবচ্ছিন্ন শস্য রপ্তানির বিষয় নিশ্চিতের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান সংঘাতের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এরই মধ্যে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল, আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করতে অবদান রেখেছেন তিনি।

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কারণে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে ফের খাদ্যশস্যের রপ্তানি শুরু হয়। এখন কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে নিয়মিত খাদ্যবোঝাই জাহাজ বিভিন্ন দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে আজ শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ ওদেসা বন্দর সফরে যাবেন গুতেরেস। এরপর তিনি তুরস্কে স্থাপন করা জয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে (জেসিসি) যাবেন। জেসিসি মূলত ইউক্রেন, রাশিয়া ও তুরস্কের কর্মকর্তারা জাহাজ পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।