logo
আপডেট : ৩০ আগস্ট, ২০২২ ২০:৫৯
প্লাস্টিকের পাত্র শুকাতে চায় না কেন?
অনলাইন ডেস্ক

প্লাস্টিকের পাত্র শুকাতে চায় না কেন?

রান্নাঘরের প্রায় সব বাসনপত্র আধুনিক ডিশওয়াশারে শুকায়। সিরামিক, চীনামাটি কিংবা কাচের থালাবাসন থেকে শুরু করে স্টিলের চামচ, ছুরি সবই শুকায়। শুধু শুকায় না প্লাস্টিক।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯ শতকের মাঝামাঝি হাতে চালিত ডিশওয়াশার ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এর নবজাগরণ ঘটতে থাকে। প্রথমে বাণিজ্যিক রান্নাঘর, এরপর বাড়ির রান্নাঘরেও এর শোভা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তবে তখন থেকেই দেখা গেছে, তাপমাত্রা যত হোক না কেন, প্লাস্টিক শুকানোর ক্ষেত্রে ডিশওয়াশার বরাবরই ফেল মারতে থাকে। ডিশওয়াশারে প্লাস্টিকের পাত্র শুকাতে গেলে দেখা যায় তা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরছেই। সমস্যাটি এত প্রকট যে, কয়েক দশক ধরে ডিশওয়াশার নির্মাতাদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরছে।

এ জন্য তাপবিদ্যার পুরোনো প্রক্রিয়ার ওপর আংশিক দোষারোপ করে যেন তারা কিছুটা নিস্তার নিয়েছেন। কারণ, অধিকাংশ প্লাস্টিক ক্রোকারিজ বা ধাতব পাত্রের মতো ঘন নয়। তাই এটি তাপ ধরে রাখতে পারে না।

রয়্যাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ল্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক রজার কেম্প বলেছেন, প্লাস্টিকের থালাবাসন ও অন্যান্য তৈজসপত্র সিরামিক ও স্টেইনলেস স্টিলের তুলনায় অনেক হালকা। তাই প্লাস্টিকের মধ্যে তাপ সঞ্চিত হয় কম। ধাতব বা চীনামাটির বাসনগুলোর তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা বাতাসের চেয়ে সামান্য বেশি। তাই বাষ্পীভবন সহজ হয়।

তিনি বলেন, ডিশওয়াশারে রাখা প্লাস্টিকে পানি বাষ্পীভূত হয় না। পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের খাবারের ট্রে ধোয়ার ক্ষেত্রেও একই রকম সমস্যা রয়েছে। কারণ এগুলো খুব হালকা এবং তাপ সঞ্চয় করার ক্ষমতাও কম।

এখানে প্লাস্টিকের পাত্রের উপরিভাগের শক্তিও কাজ করে থাকে। প্লাস্টিকের ওপরে রাখা পানি মুক্তার মতো ফোঁটায় ফোঁটায় থাকে, যেখানে কাচের গ্লাসে একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি হয়। কাচের ওপর পানি জমলে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং বাষ্পীভবনের সহায়ক হয়ে ওঠে।

উপকরণ বিজ্ঞানী আন্না প্লসজাজস্কি বলছেন, এখানে আরেকটি বিষয় হলো, প্লাস্টিকের ভিত্তিটা হলো তেল। আর আমরা তো জানিই, তেল আর পানি কখনো মেশে না। পানি যখন প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসে তখন এটি না ছড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটায় জমে থাকে। অন্যদিকে গ্লাস, সিরামিক এবং অন্যান্য ধাতুগুলো খুব হাইড্রোফিলিক (পানি শোষণ ক্ষমতা), তাই পানি আরো ছড়িয়ে পড়ে।

তবে প্লাস্টিকের এ সমস্যা সমাধানের জন্য ডিশওয়াশার প্রকৌশলীরা নানা গবেষণা করছেন। তারা এগিয়েও যাচ্ছেন ক্রমশ। গবেষকরা প্লাস্টিকে তাপমাত্রা ও উপরিভাগের চেয়ে অন্য কিছুর দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছেন। বিড়ালের আবর্জনা থেকে শুরু করে পারমাণবিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত সমস্ত কিছুতে ব্যবহৃত খনিজ ‘জিওলাইটস’ এর দিকে ঝুঁকছেন তারা।

জানা যায়, একবিংশ শতাব্দীতে উচ্চমানসম্পন্ন জিওলাইটসের ব্যবহার শুরু হয় এবং প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে সবার নজর কেড়েছে। জিওলাইটসের পানি শোষণ করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানা যায়।

ডিশওয়াশারে জিওলাইটস ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে বিবিসি জানায়, জিওলাইটস ডিশওয়াশারের সামনের চেম্বারে রাখতে হয়। যখন শুকানোর পর্ব শুরু হয়, আর্দ্র বায়ু চেম্বারের ভেতরে সঞ্চালিত হয় এবং জিওলাইট পানি শোষণ করে তাপ ছেড়ে দেয়। নির্দিষ্ট তাপ আবার ডিশওয়াশারের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। পরে ডিশওয়াশার জিওলাইটকে উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর ভেতরের পানি বের করে দেয় এবং শুকানোর জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

যদি ডিশওয়াশারে জিওলাইট না থাকে, তাহলে কী করবেন?

এ ব্যাপারে ভোক্তা গাইডের হোম এবং পরিষেবা সম্পাদক নাটালি হিচেনস বলছেন, ডিশওয়াশারে প্লাস্টিকের পাত্র রাখার আগে তাহলে তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে নিতে পারেন। তারপর চেম্বারে রাখতে পারেন। তবে প্লাস্টিকের পাত্র অবশ্যই ওপর তাকে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।