logo
আপডেট : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৫৮
অনুদানের কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুদানের কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৫

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা বলে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। 

চক্রটি গত ছয় মাসে তাদের নয় বিকাশ ও নগদ নম্বরের হিসাবে ২৫ লাখ ১২ হাজার ৩০৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী (৩৬), রপন চৌধুরী (৪৩), শরিফুল সিকদার (১৮), আহসান মাতুব্বর (১৮) ও তাফসীর চৌধুরী (১৬)। 

সোমবার তাদের গ্রেপ্তারে নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। 

রবিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে সাধারণ চিকিৎসা, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা, শিক্ষাবৃত্তি যৌথবীমা ও দাফন-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বাবদ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনরায় অনুদান দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। শতাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের কাছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু ভুক্তভোগী ডিএমপির বিভিন্ন থানায় অভিযোগ করেন। 

ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেপ্তার আসামি তাফসীর চৌধুরী অনলাইন থেকে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া অনুদানের বিজ্ঞপ্তির তথ্য ডাউনলোড করে গ্রেপ্তার রিপন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করতো। রিপন চৌধুরী এ তথ্য গ্রেপ্তার রেজাউল করিম চৌধুরী ও শরিফুল সিকদারের কাছে পৌঁছে দিত। রেজাউল করিম চৌধুরী ও শরিফুল সিকদার বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহকারি পরিচালক পরিচয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফোন করত। চক্রটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য নাম, এনআইডি, পূর্বে বরাদ্দকৃত অর্থ, বাড়ির ঠিকানা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করে। তারা নতুন অর্থবছরে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পুনরায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলে প্রলোভন দেখায়।

ডিবি প্রধান আরো বলেন, চক্রটি ফোন করে টার্গেট ব্যক্তিকে বলতো নতুন করে বরাদ্দকৃত অর্থ নিতে হলে ক্রেডিট কার্ড অথবা ভিসা কার্ড থাকতে হবে। ক্রেডিট কার্ড অথবা ভিসা কার্ড না থাকলে নতুন বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে চলে যাবে। এভাবে সুকৌশলে খুব দ্রুত সময়ে ক্রেডিট কার্ড অথবা ভিসা কার্ড এর নম্বর, মেয়াদ, সিবিএন ও ওটিপি নিয়ে ক্রেডিট কার্ড টু বিকাশ অপশনের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। পরবর্তীতে ওই টাকা আহসান মাতুব্বর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তুলে তা রেজাউল করিম চৌধুরী ও শরিফুল সিকদারের কাছে হস্তান্তর করত। 

চক্রটির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, চক্রটি বিগত ৩-৪ বছর ধরে বিকাশ প্রতারণার কাজ করে আসছে। বিগত ৬-৭ মাস দরে চক্রটি বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুদানের তথ্য ডাউনলোড করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রটি গত ৬ মাসে নয় বিকাশ ও নগদ নম্বরের হিসাবে ২৫ লাখ ১২ হাজার ৩০৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  এ ছাড়া চক্রটির আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এমএফএস (মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস একাউন্ট) আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব এবং কার্ড সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য যাতে ফাঁস না হয় সে বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করার ওপর জোর দেন ডিবি প্রধান। 

এ ছাড়া ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) শেয়ার না করা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনো ওটিপি জানতে চায় না এ সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকদের সচেতনতামূলক  প্রচারণা বাড়ানো, অপরিচিত ওয়েবসাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য প্রদান না করা, যেকোনো জালিয়াতের শিকার হলে দ্রুত ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ এ যোগাযোগ করার কথা বলেন তিনি।