logo
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:৪৮
নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়ের সঙ্গে ঢাকায় রহিমা বেগম
অনলাইন ডেস্ক

নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়ের সঙ্গে ঢাকায় রহিমা বেগম

টানা ২৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া রহিমা বেগম তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের সঙ্গে খুলনা থেকে ঢাকায় চলে এসেছেন।

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনার মেট্রোপলিটন আদালতে ২২ ধরায় জবানবন্দি দেওয়ার পর রাতে মা-মেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গভীর রাত আড়ইটার দিকে তারা ঢাকায় পৌঁছান।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মরিয়ম মান্নান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রবিবার আদালত থেকে মাকে নিয়ে বের হওয়ার পর বয়রার বাসায় গিয়েছিলাম। মার জন্য খুলনা নিরাপদ মনে হয়নি। রাতেই মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসি।”

তাদের সঙ্গে ছোট বোন আদুরি বেগম ও বড় দুলাভাই রয়েছেন বলে জানান মরিয়ম। সবাই এখন রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার বাসায় রয়েছেন। মরিয়ম আরো বলেন, সোমবার মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন।

খুলনার মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট নিখোঁজ হন ৫৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম। এরপর থেকে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানসহ চার বোন। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের ফুলপুরে তার মায়ের লাশ পাওয়া গেছে বলে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক পোস্ট দেন। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তা আলোচনায় আসে।

নিখোঁজের ২৯ দিন পর শনিবার রাতে রহিমা বেগমকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে খুলনার দৌলতপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়। রহিমা বেগম পুলিশকে ‘অপহরণের’ কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি ‘অপহৃত’ হয়েছিলেন; নাকি ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়ে মরিয়ম মান্নান বলেন, “মায়ের আত্মগোপনে আমরা ভাইবোন জড়িত কি-না এ নিয়ে অনেকে সন্দেহ করছেন। আমরা যদি কোনোভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হই বা থাকি তাহলে তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই জানতাম না মা কোথায় গিয়েছেন।”

তিনি আরো বলেন, “আমার মা ভুল করে থাকলে সংশোধন করবো। আর মায়ের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে মায়ের পক্ষে লড়বো। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে, হোক। আমি মায়ের পাশে আছি। আর এখন মায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের ভাবতে হচ্ছে।”

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রহিমাকে আদালতে হাজির করে পিবিআই। শুনানির পর তাকে নিজ মুচলেকায় মামলার বাদী মেয়ে আদুরি বেগমের জিম্মায় দেন আদালত।