logo
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০
নীরবে ‘পকেট কাটে’ বহুজাতিক কোম্পানি
তাওসিফ মাইমুন

নীরবে ‘পকেট কাটে’ বহুজাতিক কোম্পানি

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বল্গা হরিণের মতো ছুটছে। নিয়মিত বিরতিতে বাড়ছে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ব্যবহার্য সব জিনিসপত্রের দাম। ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই নানা অজুহাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ফেলছেন বিপাকে। সরকার নানা সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েও বাজারের এই নৈরাজ্য থামাতে পারছে না। খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোক্তা অধিকার বা খাদ্য অধিদপ্তরের অভিযানের পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও সংবাদ প্রকাশের পর নির্দিষ্ট এলাকা বা পণ্যে কিছুটা প্রভাব পড়লেও সামষ্টিক ফলাফল প্রায় শূন্য। বিশেষ করে জ্বালানি ছাড়া খাদ্যপণ্যের বাইরের অন্য পণ্যের দাম নিয়ে আলোচনাও হয় কম। আর এরই সুযোগ নেন সংশ্লিষ্টরা। দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে দেন তারা। এই সুযোগ নেওয়া ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে দেশি ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনেক বহুজাতিক কোম্পানিও। তবে টয়লেট্রিজ সামগ্রীর দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। হুইল সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার, রিন ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে অনেকটা নীরবেই সাধারণ জনগণের পকেট কাটছে। ডিটারজেন্টে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে আবারও এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

বাজারদর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন-চার ধাপে বেড়েছে টয়লেট্রিজ পণ্যের দাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইউনিলিভার কোম্পানির ডিটারজেন্ট পাউডার হুইল, রিন এবং কাপড় কাচা হুইল সাবানের দাম। ১৮-২০ টাকার ১২০ গ্রাম হুইল সাবানের দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, ১ কেজির ডিটারজেন্ট হুইল পাউডারের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা ও ১২০ টাকা কেজির ডিটারজেন্ট পাউডারের মূল্য বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই মাসের ব্যবধানেই ইউনিলিভারের ১০০ গ্রাম ওজনের একটি লাক্স সাবানের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই ওজনের ৪০ থেকে ৪৫ টাকার লাইফবয় সাবানের দাম এখন ৫০ টাকা, হুইল সাবান ৩০ টাকা, এক কেজি রিন ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দোকানি ও ক্রেতারা বলছেন, মাত্র দুই-তিন মাসের ব্যবধানে একটি কাপড় কাচা সাবানের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন করে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। ব্যবসার নামে মানুষ ঠকানোর বিষয় কোনোভাবে মানা যায় না। প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইচ্ছেমতো পণ্যের গায়ে দাম বসিয়ে জনসাধারণকে জিম্মি করে তাদের পকেট লুটে নিচ্ছে। হয় এসব কোম্পানি তাদের পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনবে, না হয় মূল্যবৃদ্ধিতে লাগামহীন কোম্পানির পণ্য বর্জনের সময় এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজারের এক দোকানি দেশ রূপান্তরকে জানান, কয়েক মাসের ব্যবধানের প্রসাধন সামগ্রীর মধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ইউনিলিভার কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ডাকাতি করছে।

অপূর্ব নামের মোহাম্মদপুর বাজারের আরেক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে সব ধরনের খাদ্য ও ব্যবহার্য নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় কোম্পানিগুলো একপ্রকার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেকর্ড দামে হুইলের ডিটারজেন্ট ও সাবান বিক্রি করছে ইউনিলিভার কোম্পানি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার শফিক নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংসসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। সঙ্গে বাড়ছে দৈনন্দিন ব্যবহারের সাবান, ডিটারজেন্ট ও টুথপেস্টসহ অন্যান্য পণ্যের দামও। এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের হিসাব মেলে না।

তবে ইউনিলিভাবের দাবি, বিশ্ববাজারে এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া ও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও তা উৎপাদন খরচ বাড়ার চেয়ে তুলনামূলক কম।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর শামীমা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, মার্কেটে আমাদের প্রায় ৩০০ প্রডাক্ট রয়েছে। এর মধ্যে কোন প্রডাক্টের দাম কখন বাড়ছে তা বলা সম্ভব নয়। আমরা দেশের সাধারণ জনগণের বিষয় মাথায় রেখে পণ্যে মূল্য নির্ধারণ করে থাকি। তবে সাবান উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি থাকায় আমাদের উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। দাম বাড়িয়েও আমাদের লাভ হচ্ছে না।