logo
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:২২
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবি কমান্ডো
অনলাইন ডেস্ক

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবি কমান্ডো

হিজাবে ঢাকা গোটা শরীর। সাদা গ্লাভস পরা হাতে ধরা অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল। ইরানের রাস্তায় নেমেছেন এমনই হাজার হাজার মহিলা কম্যান্ডো। হিজাব-বিরোধীদের দমন করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ২২ বছরের তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা ইরান। গত ১১ দিনের বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ মাহশাকে তুলে নিয়ে যায় ইরানের পুলিশ। দুদিন ধরে পুলিশি হেফাজতে তার উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। তাতেই মৃত্যু হয় মাহশার।

মাহশার মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। হিজাবের বিরোধিতায় হাজার হাজার নারী বিক্ষোভকারী গর্জে উঠেছেন অভিনব প্রতিবাদে। তাদের কেউ মাথা কামিয়ে ফেলেছেন। কেউ বা আবার ইরান সরকারকে ‘একনায়কের’ তকমা দিয়ে মৃত্যুকামনা করে স্লোগান তুলেছেন। পোড়ানো হয়েছে কুশপুতুল, পুলিশের গাড়ি এব‌ং হিজাব। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাথরের বৃষ্টিও হয়েছে। বিক্ষোভ চলছে ইরানের অন্তত ৮০টি শহরে। সমাজমাধ্যমের দৌলতে সে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে।

 

প্রতিবাদীদের দমাতে সক্রিয় হয়েছে ইরান পুলিশ। রাস্তায় নামার হুমকি দিয়েছে সেনাবাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিক্ষোভকারীদের দমনে আরও একটি পন্থা নিয়েছে ইরান সরকার। রাস্তায় নামানো হয়েছে ৭ হাজার হিজাবধারী সশস্ত্র নারী কম্যান্ডো। এসবই নাকি ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির নির্দেশে করা হয়েছে।

‘দ্য সান’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ধরে ধরে জেলে পুরতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন ওই নারী কম্যান্ডোরা। যদিও সংবাদমাধ্যমের কাছে ওই বিশেষ কম্যান্ডো ইউনিটের প্রধান কর্নেল হাইদারির দাবি, ‘আমাদের ইউনিটের সমস্ত মহিলা কম্যান্ডোর লক্ষ্য দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা’।

দেশজুড়ে চলমান হিজাব-বিরোধিতা যে বেআইনি, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কর্নেল হায়দারি। তার কথায়, ‘আমি দুঃখিত, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি যে এ সব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সবই বেআইনি কার্যকলাপ। এগুলি আমাদের সমাজের সঙ্গে খাপ খায় না’।

তার ইউনিটের নারী কম্যান্ডোদের লক্ষ্য কী, সেটিও স্পষ্ট জানিয়েছেন কর্নেল হায়দারি। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক মূল্যবোধ অনুযায়ী কার্যকলাপের যারা বিরোধী, তাদের দমন করাই আমাদের কাজ’।

কীভাবে নিজেদের কাজ করছেন, তা-ও খোলসা করেছেন কর্নেল হায়দারি। তিনি জানিয়েছেন, যারা ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ লঙ্ঘন করবেন, তাদের ছবি তুলে রাখাই এই মহিলা কম্যান্ডোদের কাজ। এ ছাড়া, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করাও তাদের কাজের অঙ্গ বলে জানিয়েছেন কর্নেল। যদিও বিক্ষোভকারীদের দমনে শুধুমাত্র এটুকুতেই যে ওই কম্যান্ডোরা থেমে নেই, সে দাবি করেছে বিদেশি সংবাদমাধ্যম।

 

বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দেখা গিয়েছে, দড়ির সাহায্যে দেওয়াল বেয়ে উঠানামার মতো মহড়া থেকে শুরু করে ইরানের রাস্তায় একে-৪৭ বা এমপি-৫ হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হিজাবপরিহিতা মহিলা কম্যান্ডোরা। বিক্ষোভকারীদের ‘দমনপীড়নের’ জন্য কি এত সাজ সাজ রব? প্রশ্ন সংবাদমাধ্যমের।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসানের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র গঠিত হওয়ার বহু বছর পর নারীরা দেশের সেনাবাহিনীতে ঢোকার সুযোগ পান। সেনাবাহিনীতে গঠন করা হয়েছিল ফারাজা পাবলিক সার্ভিস অর্গানাইজেশন। যারা দেশের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত। ওই সংগঠনই নারী কম্যান্ডোদের এই ইউনিটটি গড়ে তোলে।

বস্তুত, ২০০৩ সালে ইরানের পুলিশ বাহিনীতে প্রথম বার নারীদের ঢোকার সুযোগ হয়েছিল। এই ইউনিটের নতুন সদস্যদের প্রত্যেককেই তিন বছরের কড়া ট্রেনিং দেওয়া হয়। তাতে জুডো, ফেন্সিং, বিস্ফোরক সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াও শেখানো হয় অস্ত্রচালনা।

ইউনিটের ট্রেনিংয়ের পর এই নারী কম্যান্ডোদের স্নাতক হওয়ার অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। তাতে দেখা গিয়েছে, সোনালি-সবুজের রঙের ছোঁয়া রয়েছে এমন চিরাচরিত কালো হিজাবে ঢাকা কম্যান্ডোরা অস্ত্র হাতে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে।

সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই নারী কম্যান্ডোরাই ইরানের রাস্তায় মহিলাদের ওপর নীতি পুলিশি করে বেড়ান। হিজাব ছাড়া রাস্তায় নামা মাহশাকে গ্রেফতারির পেছনেও নাকি এদেরই হাত ছিল।

সূত্র: দ্য সান, ডেইলি ট্রেলিগ্রাফ

আরও পড়ুন...

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৭৬

সেদিন মাহশা আমিনির সঙ্গে আসলে যা করেছিল পুলিশ

হিজাব পরতে বা খুলতে বাধ্য করলেই প্রতিবাদ করব: মালালা

নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবিকারীদের ফাঁসি চায় ইসলামপন্থীরা

শতশত নারীকে গ্রেপ্তারেও থামছেনা আন্দোলন, নতুন কৌশল ইরানের

ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান