logo
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:৩০
সব ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ নিতে চায় ইসি
অনলাইন ডেস্ক

সব ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ নিতে চায় ইসি

ইভিএমে আঙুলের ছাপ মেলার সমস্যা দূর করতে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সব ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ নিয়ে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজের দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামনে যেসব নির্বাচন রয়েছে ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে।

“নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন বা প্রতিষ্ঠান ঠিক করে দেওয়া হবে, সেখানে এসে ভোটাররা বায়োমেট্রিক ডেটা দেবে। গাইবান্ধা ও ফরিদপুরে কার্ড ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে। বায়েমেট্রিক নিয়ে নেবে এখন। সঙ্গে স্মার্ট কার্ড দেব।”

২০০৭-২০০৮ সালে লেমিনেটেড এনআইডি কার্ড চালু হলেও ২০১৬ সাল থেকে নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যা এখনও সব ভোটারের হাতে পৌঁছেনি। লেমিনেটেড কার্ডের সময় চার আঙ্গুলের ছাপ নিলেও স্মার্ট কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে দশ আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও কয়েক কোটি নাগরিককে কার্ড দেওয়া যায়নি, ফলে তাদের ১০ আঙুলের ছাপও নেওয়া হয়নি।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার সময় স্মার্টকার্ড যাচাই করে ভোটার শনাক্ত করা যায়। তা না থাকলে আঙ্গুলের ছাপ মেলানো হয়। অনেকক্ষেত্রে বয়স্ক ও ভারী কাজ যারা করেন, তাদের আঙুলের ছাপ মেলে না।

নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “দশ আঙুলের ছাপ থাকলে একটি না একটি মিলবেই। পাঁচ কোটির মত ভোটারকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সামনে রংপুরে সাকসেস হব, ফরিদপুরে একটু চ্যালেঞ্জ হবে।”

বর্তমানে দেশের ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৩ লাখের মত। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকার কাজও চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ইভিএমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ভোট নেওয়ার মধ্যে আঙ্গুলের ছাপ মেলানো নিয়ে অনেক ভোটারকে বেশ জটিলতায় পড়তে হয়েছে।

সামনে গাইবান্ধা ও ফরিদপুর উপ নির্বাচন রয়েছে। বছরের শেষে রংপুর সিটিসহ আগামী বছর স্থানীয় সরকারের আরও সিটি ভোট রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন।

আলমগীর বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে সবার কার্ড দিতে পারব আশা করি। নির্বাচনের আগে আমাদের টার্গেট হল- দশ আঙুলের ছাপ নিয়ে নেব। ইতোমধ্যে সচিব ও এনআইডি ডিজি বলেও দিয়েছেন, যাতে আঙুলের ছাপ নিয়ে ঝামেলা না হয়।”

ভোটকেন্দ্রে আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটারের পরিচিতি শনাক্ত করে কেন্দ্রের এক শতাংশ ভোটারের ভোটদানের অনুমতির বিধানেরও আর প্রয়োজন থাকবে না বলে মনে করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

“এক শতাংশ যেটা আছে, তাও যেন ব্যবহার করতে না হয়। আমাদের টার্গেট হল-সবাইকে এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট দিয়ে দেব। স্মার্ট কার্ড দিতে পারি বা না পারি, দশ আঙুলের ছাপ নিয়ে নেব। সম্ভব হলে স্মার্ট কার্ড যতখানি পারি দিয়ে দেব।”