logo
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:১৩
সন্তান জন্মদানে অস্ত্রোপচারে সবচেয়ে বেশি ব্যয় সিলেটে
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্তান জন্মদানে অস্ত্রোপচারে সবচেয়ে বেশি ব্যয় সিলেটে

অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে বেসরকারি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় সিলেটে ও সবচেয়ে কম বরিশালে। সিলেটে ব্যয় হয় ৩০ হাজার ৫৫৭ টাকা ও রাজশাহীতে ব্যয় হয় ১৫ হাজার ৭০৫ টাকা। 

আবার সরকারি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় সিলেটে ১৭ হাজার ৮৩৭ টাকা। আর সববেচেয়ে কম হয় রংপুরে ৭ হাজার ৩১ টাকা। 

নন-গভার্নমেন্ট অর্গানাইজেশন- এনজিওতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় ২১ হাজার ৪৭৬ টাকা সিলেটে ও কম রংপুরে ১২ হাজার ৮১ টাকা।

বুধবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে নিজস্ব ভবনে দুপুর ২টায় ‘মেসিভ বোম অব সি-সেকশন ডেলিভারি ইন বাংলাদেশ: এ হাউজহোল্ড লেভেল এনালাইসিস ২০০৪-২০১৮’ শীর্ষক জরিপের ফল তুলে ধরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-বিআইডিএস। 

বিআইডিএস’র মহাপরিচাল ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে  জরিপের ফল তুলে ধরেন পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশন ও বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে প্রসব বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বাড়ার সঙ্গে সি-সেকশনের হার পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এক

জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে অপ্রয়োজনীয় সি–সেকশন হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার। প্রতি ১০টি সি-সেকশনের মধ্যে অন্তত ছয়টি অপ্রয়োজনীয় ছিল। সি-সেকশন বাড়ার ফলে অনেক পরিবারকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবে ১ হাজার ৩০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাভাবিক প্রসবে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার বেশি এবং সি–সেকশনে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে-বিডিএইচএস ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অপারেশন করা নারীদের থেকে তথ্য নেয়। ২৭ হাজার ৩২৮ হাজার নারীর মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। তাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
জরিপে জানানো হয়, দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে ডেলিভারিতে সরকারি হাসপাতালে ঢাকায় ১৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ৮৩১, বরিশালে ১৬ হাজার ৮৪৬, খুলনায় ১১ হাজার ৮৯৩, রাজশাহীতে ১০ হাজার ৯৪১, সিলেটে ১৭ হাজার ৮৩৭, রংপুরে ৭ হাজার ৩১, ময়মনসিংহে ১১ হাজার ৫১৬ টাকা।

বেসরকারি হাসপাতালে ঢাকায় ২৩ হাজার ১৬৮, চট্টগ্রামে ২৫ হাজার ৫০৭, বরিশালে ২৮ হাজার ৯৫৯, খুলনায় ১৫ হাজার ৭২৯, রাজশাহীতে ১৫ হাজার ৭০৫, সিলেটে ৩০ হাজার ৫৫৭, রংপুরে ১৮ হাজার ২৩০, ময়মনসিংহে  ১৯ হাজার ৯৭৩ টাকা। এনজিও’র হাসপাতালগুলোতে ঢাকায় ২০ হাজার ৪৯৮, চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ২৬৯, বরিশালে ১৫ হাজার ৮২৩, খুলনায় ১৪ হাজার ৭১০, রাজশাহীতে ১০ হাজার ৩৪৬, সিলেটে ২১ হাজার ৪৭৬, রংপুরে ১২ হাজার ৮১, ময়মনসিংহে ১৫ হাজার ৬১ টাকা নেয়া হয়।

এই অপারেশন ২০০৪ সালে ছিল ৩ দশমিক ৯৯ ভাগ থেকে ২০১৭-২০১৮ সালে ৩৩ দশমিক ২২ ভাগ। 

অনলাইনে যুক্ত হয়ে নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন হক বলেন, গ্রামেও সি–সেকশন বেড়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে চিকিৎসকদের চাপ। এর মধ্যে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের সংখ্যা বেশি। 

শিরিন হক বলেন, আমাদের দেশের ধাত্রী প্রথা ছিল। সেটা হারিয়ে গেছে। অথচ সন্তান জন্ম নেয়ার আগের লক্ষণগুলো এসব ধাত্রী ভালোভাবে ধরতে পারেন, চিহ্নিত করতে পারেন। আবার অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তারকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়। না হলে তারা আসতে চান না। 

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকনির্দেশনা হচ্ছে, অপারেশন ১৫ শতাংশ হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশে সেটি ৩৩ শতাংশ ২০১৭-১৮ সালে। একই সময়ে ভারতে ২২ শতাংশ, পাকিস্তানে ২২ শতাংশ, নেপালে ১৬ ও মিয়ানমারে তা ১৭ শতাংশ। 

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশে ২০০৪ সালে সি-সেকশন প্রায় ৪ শতাংশ ছিল। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি। গ্রামের চেয়ে শহরের নারীদের বেশি সি-সেকশন হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এ প্রবণতা বেশি।

বিডিএইচএস ২০১৭-১৮ প্রতিবেদন অনুসারে, শহরের ৪৪ শতাংশ এবং গ্রামে ২৯ শতাংশ মায়ের সি-সেকশন হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে প্রসবের ৫২ শতাংশ এবং সরকারি হাসপাতালে ১১ শতাংশ সি-সেকশন হচ্ছে। ২০ বছরের  নিচের বয়সী থেকে ৪৯ বছর বয়সী পর্যন্ত সব বয়সী নারীদের মধ্যে সি-সেকশনের হার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে। সি-সেকশনে সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন মায়েদের প্রায় ৬০ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেশি পড়াশোনা জানা।