logo
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০
আরও বরাদ্দ চেয়েছে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আরও বরাদ্দ চেয়েছে পুলিশ

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেটে দেওয়া বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা চেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এ বাহিনী। সম্প্রতি অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জ্বালানি, গোয়েন্দা, অপারেশনাল ও নিরাপত্তাসামগ্রী কেনার জন্য এ অর্থ প্রয়োজন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, পুলিশের চাওয়া অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।

অর্থ বিভাগে দেওয়া চিঠিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীর যেসব দাঙ্গা-দমনসামগ্রী ও অপারেশনাল সামগ্রী রয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। দাঙ্গা-দমনসামগ্রী ও অপারেশনাল সামগ্রী পুলিশে সংযুক্ত না হলে আগামী সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া দুরূহ হবে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের নিমিত্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার, অপারেশনাল ও নিরাপত্তাসামগ্রী ক্রয়ের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬১০ টাকা প্রয়োজন।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে জননিরাপত্তা খাতের জন্য সরকার ২৪ হাজার ৫৯৪ কোটি বরাদ্দ দিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বেশি প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ছিল ২১ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরের চেয়ে এবার ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। জননিরাপত্তা খাতে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, যার আওতায় রয়েছে পুলিশ, বর্ডার গার্ড, কোস্টগার্ড এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। রয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগও।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত যে অর্থ চেয়েছে পুলিশ তার মধ্যে ১৫৮ কোটি টাকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ, ৭৭ কোটি টাকার নিরাপত্তাসামগ্রী, ২২৬ কোটি টাকার মোটরযান, ৫৪০ কোটি টাকার অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি, ১২ কোটি টাকার তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জামাদি, ৪৪ লাখ টাকার কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, ৭ কোটি টাকার কম্পিউটার সফটওয়্যার, ২০৪ কোটি টাকার পেট্রোল, অয়েল, লুব্রিকেন্ট কেনা হবে।

এ ছাড়াও চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাতে বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছে পুলিশ। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের ৮০ ভাগ ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও রাজনৈতিক কর্মসূচি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পুলিশের তৎপরতা, নবসৃষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন হওয়ায় এবং মোটরযান বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় জ্বালানি খাতে বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।

চলতি অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।