logo
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৪৮
শোকে কাতর বোদার বিভিন্ন গ্রাম, মৃতদের পরিবারে চলছে পিণ্ডদান
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

শোকে কাতর বোদার বিভিন্ন গ্রাম, মৃতদের পরিবারে চলছে পিণ্ডদান

নৌকা ডুবির ঘটনায় কেউ হারিয়েছে বাবা, কেউ মা, কেউ ভাই কেউ বোন। এসব পরিবারে থামছে না আহাজারি। ঘটনার কথা মনে হলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন তারা।

একদিকে নৌকা ডুবির ঘটনার আতঙ্ক অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনায় এসব পরিবারে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। সমবেদনা জানাতে আসা প্রতিবেশীরাও বাকরুদ্ধ।

অনেকে আাবার শোকে কাতর হয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন। এ অবস্থাতেই গ্রামে গ্রামে চলছে মৃতদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান অনুষ্ঠান।

স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ১২/১৩ দিনের মধ্যে এসব অনুষ্ঠান করা হতো। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণে ৩/৪ দিনের মধ্যে করতে হচ্ছে এই অনুষ্ঠান বলছেন স্বজনরা। 

জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর বটতলী গ্রামের বাসিন্দা বেংঠু রাম। তার দুই ছেলে হেমন্ত রায় ও বাসুদেব রায়।

হেমন্ত রায়ের  স্ত্রী কবিতা রানী। কবিতা রানীর তিন মেয়ে আলো, অর্পিতা ও শ্যামলী রানী এবং আলো রানীর দুই মেয়ে জয়া ও জ্যোতি আর বাসুদেব রায়ের স্ত্রী রুপালী রানী ও তার মেয়ে নন্দিনী নৌকা করে মহালয়ায় যাচ্ছিলেন।

নৌকা ডুবিতে এই দুই পরিবারের ৫ জনই ডুবে যান। চারজনের লাশ উদ্ধার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন জয়া রানী। তিনি এখনো বাসায় ফিরে আসেননি।

সেদিনের সেই নৌকা ডুবির ঘটনায় বেঁচে যান হেমন্ত রায়ের দুই মেয়ে আলো ও অর্পিতা।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা জানান, নৌকা মাঝ নদীতেই তলিয়ে যায়। দুই বোন মানুষের নিচে চাপা পড়ে যাই। সেখান থেকে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নদীতে ভাসতে ভাসতে উদ্ধারকারী নৌকায় ওঠানো হয় আলো রানী (২৩) ও অর্পিতাকে (১৫)। সেখানে হারাতে হয় পরিবারের আরও তিনজনকে। বেঁচে ফিরলেও মা ও বোনকে হারানোর যন্ত্রণায় থামছে না আহাজারি।

বাসুদেবের ৬ বছরের মেয়ে নন্দিনী অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও হারাতে হয় স্ত্রী রুপালী রানীকে। শুধু হেমন্ত ও বাসুদেব নয় এমন অন্য পরিবারগুলোতেও চলছে শোকের মাতম।

মঙ্গলবার যেসব পরিবারের নিখোঁজদের উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার যেসব পরিবারে চলছে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। অর্পিতা ও নন্দিনীদের বাড়িতেও এমন আয়োজন চলছে।

আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশীদের একটু স্নেহ মায়া মমতা পেলেই মায়ের কথা স্মরণ হলে হাউমাউ করে কান্না করছেন। শুধু বাড়ি নয়, গ্রামে গ্রামে এখন চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নৌকা ডুবি থেকে বেঁচে ফেরা অর্পিতা রানী শুধুই কান্নাকাটি করছেন। প্রতিবেশীদের গলা জড়িয়ে ধরে শুধুই মা কবিতা রানীকে খুঁজছেন। তার কথাই বলছেন। কান্না করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন।

স্ত্রীকে হারিয়ে নির্বাক বাসুদেব জানান, মেয়ে নন্দিনী ফিরে এলেও স্ত্রীকে হারিয়েছি। এখন আমার কিছুই ভালো লাগে না।

আর হেমন্ত রায় জানান, বদেশ^রী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে গিয়ে নৌকা ডুবিতে সবকিছু হারিয়েছি। স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী, নাতি নাতনিকে হারিয়েছি। আমি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের বিষাদে রূপ নিয়েছে।