logo
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:৪২
‘ছোট দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে কীভাবে বাঁচবো’
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

‘ছোট দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে কীভাবে বাঁচবো’

স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধ মাসহ ৫ সদস্যের পরিবার জগদীশের (৩৫)। অভাবের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। জীবিকার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করলেও তার স্বপ্ন ছিল অসীম। সামনের শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন নিয়েও ছিল নানা পরিকল্পনা। কিন্তু সব স্বপ্নই ভেসে গেল করতোয়ার স্রোতে।

গত রবিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান তিনি।

ওই দিন আউলিয়ার ঘাটেই জগদীশের লাশ পাওয়া যায়। মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের ধর্মসভায় যোগ দিতে অন্যদের মতো জগদীশও যাচ্ছিলেন।

জগদীশের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বটতলী এলাকায়। তিনি সেখানকার মৃত প্রবিন্দ্রনাথের ছেলে। বটতলির এই জগদীশ ছিলেন তার পরিবারের বটবৃক্ষ।

এদিকে, স্বামীকে হারিয়ে ছেলে কৌশিক রায় (৭) এবং ১৯ মাস বয়সী শিশু রাধিকা রানীকে নিয়ে দিশেহারা ফুলমতি রানি। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

একমাত্র আশ্রয়স্থল ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক জগদীশের মা ষাটোর্ধ্ব নুনী বালা।

নুনী বালা বলেন, ‘মা হয়ে ছেলেকে চিতায় পাঠানোর কষ্ট কীভাবে সহ্য করব? আমাদের এখন কে আগলে রাখবে? খুব কষ্ট করে ছেলেটাকে বড় করছি, তার এমন মৃত্যু মানতে পারছি না’।

জগদীশের স্ত্রী ফুলমতি রানি বিলাপ করে বলেন, ‘মন্দিরে আমিও যেতে চাইছিলাম, ‘আমাকে না নিয়ে একাই গেল। আর ফিরে এলো লাশ হয়ে। আমি এই ছোট ছোট দুই সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব’?