logo
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:০৪
ভারতের নতুন প্রতিরক্ষা প্রধান কে এই অনিল চৌহান
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের নতুন প্রতিরক্ষা প্রধান কে এই অনিল চৌহান

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন সর্বাধিনায়কের (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত বিপিন রাওয়াতের জায়গায় সশস্ত্র বাহিনীর নতুন সর্বাধিনায়ক করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল চৌহানকে। বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুর নয় মাস পর তাকে নিয়োগ দেওয়া হল।

গত বছরের (২০২১) মে মাসে সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড চিফ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ৬১ বছর বয়সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌহান। এরপর তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রায় ৪০ বছর ভারতীয় সেনার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর এবার তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে বসলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌহান। একই সঙ্গে তিনি সেনা সচিব হিসেবেও কাজ করবেন। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করতে ২০১৯ সালে ভারত চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বা প্রতিরক্ষা প্রধানের পদটি সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই পদে অসীন হলে ৬১ বছর বয়সী অনিল চৌহান হবেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং ভারত সরকারের সামরিক বিষয়ক বিভাগের সচিব।

ভারতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানের মত চিফ অব ডিফেন্স স্টাফও একজন চার তারকা জেনারেল, তবে জ্যেষ্ঠতার বিচারে তিনিই সবার চেয়ে এগিয়ে। ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌহান সিডিএস পদে দায়িত্ব পালন করবেন বুধবার এক আদেশে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তার আগে জেনারেল বিপিন রাওয়াত আমৃত্যু চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌহানকে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বসানোর আগে সিডিএস নিয়োগের বিধিসংশোধন করেছে ভারত সরকার। আগে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নিয়োগ করা হতো শুধু কর্মরত লেফটেন্যান্ট জেনারেলদের মধ্যে থেকে।

কিন্ত জেনারেল রাওয়াতের মৃত্যুর পর সেই নিয়ম সংশোধন করা হয়। সরকার জানায়, শুধু কর্মরত লেফটেন্যান্ট জেনারেলরা নন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেলরাও এই পদে বসতে পারবেন। শুধু তাদের বয়স ৬২ বছরের কম হতে হবে। সেই নিয়মেই অনিল চৌহান দেশের সামরিক সর্বাধিনায়ক হলেন।

চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার থাকে সিডিএসের ওপর। 

সামরিক বাহিনীতে চার দশকের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে আসা অনিল চৌহানের উত্তর-পূর্ব ভারত এবং জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমনে ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে পরিচিতি আছে।

১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করা অনিল চৌহান ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১১ গোর্খা রাইফেলসে কমিশন পান ১৯৮১ সালে। খড়কওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি এবং দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।

মেজর জেনারেল হিসেবে অনিল চৌহান নর্দার্ন কমান্ডের বারামুলা সেক্টরে একটি পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হওয়ার পর তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হন।

২০২১ সালের মে মাসে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। সেনাবাহিনীতে কাজের স্বীকৃতিতে পরম বিশিষ্ট সেবা পদক ও উত্তম যুদ্ধ সেবা মেডালসহ বিভিন্ন সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।

১৯৯৯ সালে কার্গিলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের পরে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনে একজন ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট অ্যাডভাইজার’ নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যিনি সকল বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।

সে অনুযায়ী ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ পদ সৃষ্টির পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম সেই পদে আসেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত, যিনি এর আগে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসম্বরে তামিলনাড়ুতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান জেনারেল রাওয়াত ও তার স্ত্রী। এরপর নয় মাস ওই পদটি শূন্যই ছিল।