logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০
সাবিলার নতুন ক্যারিয়ার প্ল্যান
মাসিদ রণ

সাবিলার নতুন ক্যারিয়ার প্ল্যান

ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। প্রায় দুই মাস যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এখনো ছুটির আমেজেই আছেন। তারই মধ্যে পেলেন বিশেষ অর্জন। পেয়েছেন ২০২২ সালের সেরা টিভি অভিনেত্রীর পুরস্কার। এশিয়ান কালচারাল কমিউনিটি বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন প্রথমবারের মতো ‘এশিয়ান স্টার অ্যাওয়ার্ড’-এর আয়োজন করে। সেই আসরে পুরস্কার জিতেছেন সাবিলা। অবাক করা বিষয় হলো সাবিলা সেই পুরস্কার নিজ হাতে গ্রহণ করেছেন। সাধারণত সাদামাটা সাজে থাকতে পছন্দ করা সাবিলা এদিন একেবারে জমকালো সাজে হাজির হন। পরেছিলেন বৈচিত্র্যময় কাটিংয়ের কালো ভেলভেটের ওপর ভারী জারদৌসির কাজ করা ব্লেজার, সঙ্গে কালো প্যান্ট।

ঢাকায় এখন চারিদিকে অনেক মানহীন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। সেখানে আবার অনেক জনপ্রিয় তারাকা উপস্থিতও হন। কিন্তু সাবিলা এসব এড়িয়ে চলেন। তাকে দেশের হাতে গোনা দু-একটা অ্যাওয়ার্ড শোতে দেখা যায়, তাও যদি পারফরম্যান্স কিংবা মনোনয়ন থাকে। এ প্রসঙ্গে সাবিলা বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানা ধরনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেতাম। কিন্তু আমি বরাবরই একটু বুঝেশুনে সব জায়গায় যেতে চেষ্টা করি। তা ছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে অত ভিড়বাট্টার মধ্যে ঠিক কমফোর্ট ফিল করি না। একধরনের জড়তাও কাজ করে। যার ফলে এখন আর আমাকে সেভাবে কেউ আমন্ত্রণও করেন না, কারণ তারা জানেন যে আমি উপস্থিত হব না। কিন্তু এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মানসম্মত অর্গানাইজেশনের আয়োজনে যে অনুষ্ঠানগুলো হয় সেখানে আমি উপস্থিত থাকার চেষ্টা করব।’ পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আসলে যে কোনো পুরস্কারই মানুষের পরিশ্রম ও মেধার ফসল। তাই পুরস্কার আমাকেও অনুপ্রাণিত করে। কারণ বিশেষ জুরিবোর্ড কিংবা দর্শক আমার কাজ দেখেই সিদ্ধান্ত নেন যে আমি পুরস্কারটি পাচ্ছি কি না। তবে পুরস্কার না পেলেও আমার কোনো দুঃখবোধ থাকে না। যদি দর্শকের অ্যাপ্রিসিয়েশন পাই। কারণ দর্শকের জন্যই তো শিল্পীরা কাজ করেন। সেদিক থেকে আমি খুব বেশি পুরস্কার না পেলেও খুশি। কারণ বিগত কয়েক বছর ধরে আমার কাজ নিয়ে দর্শকের অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি।’

তাইতো দর্শকের প্রতি সাবিলার দায়বদ্ধতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই আগের চেয়ে অনেক কম কাজ করি। এখন থেকে কাজের সংখ্যা আরও কমিয়ে দেব। কারণ টিভি নাটকের এখন যে অবস্থা তাতে নিয়মিত কাজ করা সম্ভব নয়। দেখা যায় ১০টি স্ক্রিপ্ট আসলে তারমধ্যে একটি হয়তো ভালো লাগে। কোনো গল্পেই খুব একটা গভীরতা পাই না। আমি যেহেতু ছোটপর্দায় কাজ করি, তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করব আপনারা গল্প নিয়ে ভাবুন। নয়তো টিভি নাটক থেকে দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবে।’

টিভি নাটকের দৈন্যদশার সময়েই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখন দারুণ সব কনটেন্ট উপহার দিচ্ছে। কিন্তু সাবিলাকে সেভাবে এই মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এখন ওটিটি নিয়ে খুবই সিরিয়াস। আগে নিয়মিত টিভি নাটক করার কারণে হাতে শিডিউল থাকত না। তাই ওটিটির বেশকিছু ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে যেহেতু গল্পনির্ভর ও ভালো কাজই করব, ফলে আমার হাতে সময়ের অভাব হবে না। তাই ওটিটির প্রস্তাব পেলে আমি দুই-তিন মাস আগে থেকেই সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রস্তুতি নিতে পারব। তবে এমন নয় যে, শিগগিরই আমাকে ওটিটিতে দেখা যাবে। কারণ ওটিটির একটি কাজের জন্য কয়েক মাসের পরিকল্পনা হয়। তারপর সেটি দর্শকের কাছে পৌঁছায়।’

সিনেমার ব্যাপারে সাবিলা এখন দারুণ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘হাওয়া, পরাণ কিংবা বিউটি সার্কাসের মতো ভিন্ন ধাঁচের ছবি এখন মুক্তি পাচ্ছে, দর্শক গ্রহণ করছে। এর চেয়ে ভালো দিক আর নেই। এমন ভালো গল্প পেলে আমিও সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহী।’

টানা দুই মাস যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আসলেন।

কোথায় কোথায় ঘুরলেন? জানতে চাইলে সাবিলা বলেন, ‘ওখানে অনেক বছর ধরে আমার বড় বোন থাকেন। তাই আমরা বছরে অন্তত একবার যেতে চেষ্টা করি। এবারও মা, বাবা ও আমি গিয়েছিলাম। আমার স্বামী ছুটি পায়নি বলে যেতে পারেনি। তাকে মিস করা ছাড়া পুরো সময়টা দারুণ কেটেছে। টেক্সাসেই বেশিদিন ছিলাম। এর ফাঁকে গিয়েছিলাম এলে ট্রিপে। স্পেশালি ওয়ার্নার্স ব্রাদার্সের স্টুডিওতে হলিউডের অনেক বিখ্যাত ছবির স্ক্রিপ্ট, জনপ্রিয় চরিত্রের পোশাক নিজ চোখে দেখার অনুভূতিই অন্যরকম। এ ছাড়া ডিজনি ওয়ার্ল্ডেও ঘুরেছি। অসম্ভব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম সেখানে।’