logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৩৯
ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা

নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্কটা নিজের বাড়ির মতো। করোনা মহামারির পর গত বছরের জানুয়ারিতে মাঠে ফিরেছিল মেয়েরা। তাদের সেই অনুশীলনটি শুরু হয়েছিল সিলেটে। শুধু এই অনুশীলনই নয়, অতীতেও সিলেটে মেয়েদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে শুরু করে অনেক খেলা হয়েছে। কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে মেয়েদের জাতীয় ক্রিকেট লিগ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের লিগটিও হয়েছে এখানে। এজন্য সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছে মেয়েদের হোম ভেন্যু হিসেবে। যার পুরো সুবিধাটা মাঠের খেলায় নিতে চায় বাংলাদেশ।

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপ। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের অষ্টম আসটি এবার হচ্ছে বাংলাদেশে। শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচই হবে সিলেটে। উদ্বোধনী ম্যাচে থাইল্যান্ডকে মোকাবেলা করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার গ্রাউন্ডে সকাল ৯ টায় শুরু হবে ম্যাচটি। নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে খ্যাত এই মাঠ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাটাই নিতে চান টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

সকালে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, সিলেটে আমরা অনেক বেশি ম্যাচ খেলি। অনুশীলন ক্যাম্প ও লিগ খেলার কারণে সিলেট আমাদের হোম ভেন্যু হয়ে উঠেছে। তাই এর সর্বোচ্চ সুবিধাটাই আমরা নিতে চাইব। এখানে বেশি ম্যাচ খেলার কারণে কন্ডিশন সম্পর্কেও আমরা অবগত। তাই এই অভিজ্ঞতাটাও আমরা কাজে লাগাতে পারব।

চার বছর পর মাঠে গড়ানো এশিয়া কাপে এবার বাংলাদেশের মেয়েরা নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে। সেটাও আবার ঘরের মাঠেই। তাই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত টাইগ্রেসরা! কিন্তু ঘরের মাঠে খেলাতে কোনো চ্যালেঞ্জই থাকে না বলে মনে করেন জ্যোতি।

তাই চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় না নিয়ে ম্যাচ ধরে চিন্তা করছেন জ্যোতি, নিজের ঘরের মাঠে কখনও চ্যালেঞ্জ থাকে বলে আমি আসলে কখনও মনে করি না। আমরা এখানে নিজেদের সেরা খেলাটা নিয়েই ভাবছি। আমাদের লক্ষ্য ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে খেলা।

গত চার বছরে নিজেরাসহ প্রতিটা দল উন্নতি করেছে জানিয়ে জ্যোতি যোগ করেন, ‘২০১৮ সালে যেমন আমরা লড়াই করে শিরোপা জয় করেছি, তেমন এবারও সেরাটা উজার করে দিয়ে লড়াই করতে হবে। এই কয় বছরে প্রতিটা দল উন্নতি করেছে। আমরা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি। তাই আমরা নিজেদের পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করে সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’

সালমা-রুমানাদের সেরা ক্রিকেট খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সিলেটের তীব্র দাবদাহ। তাপমাত্রাটা গতকালের চেয়েও প্রায় ১ ডিগ্রি বেশি। আজ বেলা দেড়টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ছিল ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার যা ছিল ৩৩.৫ ডিগ্রি। যদিও এখানে আসার আগেই তারা বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েকদিন আগেই তারা সেখানে গিয়ে ক্যাম্প করেছিলেন।

সিলেটের তীব্র গরম তাই তাদের মাঝে তেমন কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন না অধিনায়ক, ‘আবহাওয়া নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তা করছি না। যেহেতু আমরা মাত্রই আবুধাবিতে খেলে এসেছি। সেখানে তাপমাত্রাটা আরও বেশি ছিল। সেখানে ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের হয়েছে। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, সেখানকার তীব্র গরমেও কেউ পেশিতে টান কিংবা অসুস্থতা বা চোটে আক্রান্ত হননি। সব ক্রিকেটারই ফিট আছে। এখানেও আমরা সেটাই আশা করছি, এবং নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতেই মুখিয়ে আছি।’

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার গ্রাউন্ডে সকাল ৯ টায় শুরু হবে উদ্বোধনী ম্যাচটি। টুর্নামেন্টের সব খেলাই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিনা টিকেটে তারা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন।