logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৫৪
বিভক্তি-সংঘাত কখনোই কল্যাণ আনতে পারে না: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভক্তি-সংঘাত কখনোই কল্যাণ আনতে পারে না: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকে সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখন তাদের সে দৌরাত্ম কমে গেছে, এখন কিন্তু তারা এসব কথা বলে না। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্যে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পূজা উদযাপন কমিটির কাছে সরকারি অনুদানের অর্থ বিতরণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আফছানা কাওছারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন‍্যান‍্যের মধ‍্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুজন সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রমাকান্ত রায়, বিরল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শফিউল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকার, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মো. মনসুর আলী, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলার ৯৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রত্যেকটিতে জিআর অনুদানের অর্থ এবং ব্যক্তিগত উপহার সামগ্রী তুলে দেন এবং উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের আওতায় গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের সুপারভাইজার ও এলসিএস মহিলা কর্মীদের সঞ্চয়ের অর্থের চেক বিতরণ করেন। সুপারভাইজারকে এক লাখ ৪২ হাজার ও এলসিএস মহিলা কর্মীদের প্রত্যেককে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লাখ ২২ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত হয়েছেন কারণ বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিভক্তি আর সংঘাত কখনোই কল্যাণ আনতে পারে না। আজকে বাংলাদেশ সংঘাতের পথ থেকে চলে এসেছে। বাংলাদেশ সম্পীতির পথে হাঁটছে, অসাম্প্রদায়িকতার পথে হাঁটছে, মানবতার পথে হাঁটছে বলেই বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পৃথিবীতে খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশের  উন্নয়নে যে বড় বড় বাধাগুলো ছিল তার মধ্যে আইনের শাসন অন‍্যতম। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। যে দেশে জাতির পিতাকে হত্যার পরে বিচার হবে না- এরকম আইন করা হয়, সে দেশে কখনো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হতে পারে? যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের অপরাধীরা, যারা মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, লুণ্ঠন করেছে গণহত্যা সংঘটিত করেছে, তাদের কাছে যদি আইন থাকে, আইন যদি তাদেরকে নিরাপত্তা দেয় তাহলে সে দেশে আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠা হয়?

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে খুনিদের বিচার করেছি, অপরাধীদের বিচার করেছি। তাই মানুষ আইনের প্রতি ভরসা পেয়েছে। কারণ অপরাধীর কোন ধর্মীয় পরিচয় হয় না। অপরাধী না হয় হিন্দু না হয় মুসলিম, অপরাধীর পরিচয় সে শুধুই অপরাধী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বাংলাদেশের ৭২'র সংবিধান আমাদেরকে আলো দেখায় এবং অসম্প্রদায়িক চলার পথ তৈরি করার জন্য শক্তি যোগায়। সেই পদযাত্রা স্বাধীনতা বিরোধীরা ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যেমে থামিয়ে দিয়েছিল। ৭৫ পরবর্তী ক্ষমতালোভীদের কাছে আমরা জাতির কোনো কল্যাণ দেখিনি। আমরা দেখেছি লুটপাট, সংঘাত, হানাহানি, মিথ্যাচার, বিভক্তি ও শ্রেণী বৈষম্য। ফলে এদেশের উন্নয়সহ শিক্ষা স্বাস্থ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয়নি এবং দেশ এগিয়ে যাবার রুপকল্প কোনটাই হয়নি। শুধু দেখেছি সংঘাত আর সংঘাত। কীভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। কীভাবে একটি ধর্মের সাথে আর একটি ধর্মকে উসকে দিয়ে একটি সংঘাত তৈরি করে নিজের চেয়ারকে ঠিক রাখা যায়, এদেশের মানুষ সেটাই দেখেছিল। এখন সে পরিস্থিতি নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী পরে বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সকল পূজা উদযাপন কমিটির মাঝে সরকারি অনুদানের অর্থ বিতরণ করেন এবং বিরল উপজেলা সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।