logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:২৮
টেকনাফে ৫ কৃষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, আহত অবস্থায় উদ্ধার ৩
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টেকনাফে ৫ কৃষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, আহত অবস্থায় উদ্ধার ৩

কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা হ্নীলা ও মরিচ্যাঘোনা থেকে পাঁচ কৃষককে অপহরণ করে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে দাবি করা হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। একটি ফোন নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও এখন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

স্বজনদের বরাতে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অপহরণ, হত্যা, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত। স্হানীয়দের অপহরণ করে তারা মুক্তিপণ দাবি করে, দিতে না পারলে প্রাণ দিতে হয়।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ দুইজন হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালীর মৃত উলা মিয়ার ছেলে নজির আহমদ (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (২৭)। তাদের শসাক্ষেত থেকে অপহরণ করে মরিচ্যাঘোনা পাহাড়ের দিকে নিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।

ওই পাঁচজন ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়ার পর ১০-১২ জন অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এর মধ্যে স্থানীয় আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. শাহজাহান (৩৫), ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (৪০) ও আবু বক্করের শিশুপুত্র মেহেদী হাসানকে (১২) ধানক্ষেত থেকে এবং নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসেনকে শসাক্ষেত থেকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। কৃষকদের স্বজনেরা দলবেধে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে আহত তিনজনকে ফেলে সন্ত্রাসীরা দুজনকে অস্ত্রের মুখে পাহাড়ের ভেতরের দিকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে মো. শাহজাহান, আবু বক্কর ও মেহেদী হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শাহজাহান গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত আবু বক্কর ও তার ছেলে মেহেদীকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ আছেন নজির আহমদ ও তার ছেলে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, হ্নীলার পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের ক্ষেতখামার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহাড়ের পাদদেশে যেতে হয়। ধান ও শসাক্ষেত থেকে পাঁচ কৃষককে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে।

এর আগে, রোহিঙ্গা 'সন্ত্রাসীরা' হ্নীলা ও হোয়াইক্যং পাহাড়ি এলাকা থেকে একাধিকবার কৃষকদের অপহরণ করেছিল।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি  মো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।’