logo
আপডেট : ৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৮:১২
বগুড়ায় প্রথমবার কুমারী পূজা
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় প্রথমবার কুমারী পূজা

শারদীয় দুর্গোৎসবে মহা অষ্টমীতে এবার প্রথমবারের মতো বগুড়ায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বগুড়ার পৌর এলাকার গণ্ডগ্রামে অবস্থিত রামকৃষ্ণ আশ্রমে প্রথমবারের মত দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীতে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। কুমারী সাজে আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন শুভশ্রী দাস (৮)। শুভশ্রী দাসের বয়স ৮ হওয়ায় তাকে পুরাণ মতে নাম দেয়া হয়েছে কুব্জিকা বা কুষ্ঠিকা। রাজশাহী ও দিনাজপুরের পর এবারই প্রথম বগুড়ায় এই কুমারী পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমারী আসনে থাকা শুভশ্রী দাস বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা জিমি কুমার দাস ও সরস্বতী দাসের কন্যা। সে বর্তমানে বগুড়ার মিলিনিয়াম স্কলাষ্টিকা স্কুলের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গনে সকাল ১১টায় ঢাকের তালে তালে শুভশ্রী দাসকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনা হয়। এরপর কোলে করে কুমারী আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। অধিষ্ঠিত করার পর পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জি মন্ত্রপাঠ করতে শুরু করেন। ঘন্টাব্যাপী চলে মন্ত্রপাঠ ও আচার অনুষ্ঠান। এসময় কুমারী শুভশ্রীকে জ্যান্ত দেবী দুর্গা রুপে পূজা অর্চনা করা হয়। এসময় কুমারীকে জল, মিষ্টান্ন খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে শাড়ি ও প্রসাধণী দিয়ে পুরাণ মতে বরণ করা হয়।

পূজা অর্চনা শেষে কুমারীর কাছে সহস্রাধিক ভক্তরা ছুটে যান, পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন এবং দক্ষিণা দেন।

পুরোহিত বাসুদের ব্যানার্জি বলেন, দেবী দুর্গা নিজেই বলেছেন আমি নারী রুপে বেশিরভাগ প্রকাশিত। কুমারী মেয়েরা নিষ্পাপ থাকে, পবিত্র থাকে, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে বাসনা স্পর্শ করছে না। আর এই পবিত্রতার মাঝে মায়ের প্রকাশটা ঘটে বেশি। তাই আমরা কুমারীকে আশ্রয় করে মা দূর্গাকে জীবন্ত জ্ঞান করে পূজা করি। কুমারী যেন স্বয়ং মা দুর্গা। আর তাই কুমারী শুভশ্রীকে জ্যান্ত দেবী দুর্গা রুপে পূজা করা হয়েছে।

কুমারী আসনে অধিষ্ঠিত শুভশ্রী দাস বলেন, আমি অনেক খুশি। আমি প্রার্থনা করি জগতের সকলের মঙ্গল হোক।

শুভশ্রীর বাবা জিমি কুমার দাস ও মা সরস্বতী দাস বলেন, আমরা অনেক আনন্দিত। বগুড়ায় প্রথমবারের মত কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর সেই কুমারীর আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মেয়ে শুভশ্রী।

রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. বিপ্লব কুমার বর্মণ বলেন, প্রথমবারের মতো বগুড়ার রামকৃষ্ণ আশ্রমে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। আর সেই আয়োজনে মহা অষ্টমীতে কুমারী পূজার আয়োজন হয়। এবারের পূজায় আমরা স্থানীয়  প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা পেয়েছি।

প্রসঙ্গত, এবার বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ৬৭৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে শাজাহানপুরে ৫৬টি, নন্দীগ্রামে ৪৬টি, শিবগঞ্জে ৬৩টি, আদমদিঘীতে ৬৫টি, সারিয়াকান্দিতে ২০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪২টি, ধুনটে ২৯টি, সোনাতলায় ৫০টি, শেরপুরে ৯০টি, গাবতলিতে ৭৩টি, কাহালুতে ৩৬টি এবং বগুড়া সদরে ১২০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২৮৯টি সাধারণ মণ্ডপ রয়েছে।