logo
আপডেট : ৪ অক্টোবর, ২০২২ ২১:৪৫
‘শেখ হাসিনা অধিক গণতন্ত্রমনা তাই বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছেন’
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘শেখ হাসিনা অধিক গণতন্ত্রমনা তাই বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছেন’

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিক গণতন্ত্রমনা তাই এখনও বিএনপি-জামায়াতকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগ করতে হবে, এমনকি গয়েশ্বর রায়কেও দেশ ত্যাগ করতে হবে। যারা আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থন করি তাদের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না।

মঙ্গলবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র উত্তরণ আয়োজিত ‘সবার আপনজন’ শীর্ষক কথা, গান, কবিতা, আবৃত্তি ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শামা রহমানের ‘আমার মুক্তির আলোয় আলোয়’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘শেখ হাসিনা কোটি প্রাণের ভালোবাসা’ শীর্ষক তথ্য চিত্র পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরণের সম্পাদক ও প্রকাশক মুক্তিযোদ্ধা ড. নূহ-উল-আলম লেনিন।

মুনতাসীর মামুন বলেন, দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা ধারাবাহিকভাবে থাকলে একদিন আর এসব উন্নয়নকে উন্নয়ন নয় জনগণ অধিকার হিসেবে জানবে। সেদিন উন্নয়নের জন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের নাম মনে থাকবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের একটি মৌল পরিবর্তনের যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তার জন্য তিনি যুগে যুগেও দেশের মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পরে একটি পক্ষ দেশকে পাকিস্তান রাষ্ট্র আর পাকিস্তানী দর্শনের দিকে নিয়ে গেছেন। দেশের ৩৫ শতাংশ মানুষ জিয়াউর রহমান-এরশাদ-খালেদা জিয়া আর নিজামীর সমর্থক। তারা দেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিরোধিতা করেছে। মির্জা ফখরুলের মতো লোক পাকিস্তানী শাসনের গুনগান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিক গণতন্ত্রমনা তাই এখনও বিএনপি-জামায়াতকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।

এই ইতিহাসবিদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে এখনও স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তি আছে। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে না আসত তবে বিএনপি-জামায়াত দেশকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলত। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসায় তারা আর সেটা পারেনি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি ধার্মিক ও অসাম্প্রদায়িক তাই সব ধর্মের লোক দেশে মিলেমিশে আছে। 

তিনি বলেন, ৭০ বছর ধরে অমীমাংসিত স্থল ও সমুদ্র জলসীমা শেখ হাসিনা ঠিক করেছেন। গঙ্গা চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করেছেন। গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছেন যা বিশ্বের অন্য দেশে হয় নাই। দেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি আর অসাম্প্রদায়কিতা বজায় রাখতে আগামীতেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সামনে নির্বাচন ঘিরে হানাহানি ও সাইবার আক্রমণ বাড়বে এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সারাবিশ্বে যখন মন্দা তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার জন্যই দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার বিস্তার হয়েছে। এখন এসব কিছুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তার ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বলেন, এখন যদি কোনো দল বলে তারা নির্বাচনে আসবে না, তাহলে তারা পলিটিক্যাল সিস্টেমের বাইরে চলে যাবে। তাই দেশের পলিটিক্যাল সিস্টেম ধরে রাখতে সকল দলকে নির্বাচনে আসতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে বুলবুল ইসলাম, শারমিন সাথী ময়না, মকবুল হোসেন সংগীত পরিবেশন করেন। 

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অসীম সাহা, নাসির আহমেদ, কামাল চৌধুরী, আনিসুল হক, তারিক সুজাত, মাসুদ পথিক স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। 

এ ছাড়া জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কর বন্দোপ্যাধ্যায়, রূপা চক্রবর্তী, শিমুল মোস্তফা, মো. আহআম উল্লাহ আবৃত্তি করেন।