logo
আপডেট : ৫ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:৩৫
সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের মিলন মেলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি

সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের মিলন মেলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে সৈকতের লাবণি পয়েন্টে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এ উপলক্ষে লাবণি সৈকতে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল।

সরকারি টানা ছুটিকে কেন্দ্রে করে সৈকতে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের দিন হওয়ায় সৈকতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় সৈকতে নামে লাখো পর্যটক। প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষণ পরিণত হয় মিলন মেলায়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে শামিল হন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও।

অশ্রুসজল চোখে আরও একটি বছরের জন্য দেবীকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আগামী বছর দেবীর পুনরাগমনের আশায় বুক বাঁধবেন তারা।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সমুদ্র সৈকতে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার কাজে মাঠে তৎপর ছিল র‌্যাব। এ ছাড়া আনসার, ভিডিপি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করে।

সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিরহের সুর বেজে ওঠে। এ সময় মাকে বিদায় দেওয়ার অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দেখা যায়। দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাক সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। পুরো শহরজুড়ে নেয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিকেল ৩টার পর থেকে সৈকতের লাবণি পয়েন্ট ভক্ত আর পর্যটকদের পদচারণায় লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাবণি পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী আর আগত পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

কক্সবাজার সৈকতের লাবণি পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান।

জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল করের সভাপতিত্বে সজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতাসহ নানা সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব।

মঞ্চ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ শেষে সমুদ্র সৈকতে শুরু হয় বিসর্জন। এরপর একে একে পূজা মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় সাগর সৈকতে।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর জানিয়েছেন, জেলায় ৩০৫টি পূজা মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৮টি প্রতিমা পূজা আর ১৫৭টি ঘট পূজা। প্রতিটি পুজো মণ্ডপে ছোট-বড় ৬টি প্রতিমা ছিল।

বিসর্জন দেখতে আসা সুবর্না বড়ুয়া বলেন, আমরা বন্ধু-বান্ধব প্রতিবছরই বিসর্জন দেখার জন্য সৈকতে আসি। গত বছর করোনার কারণে আসিনি। এবারে অনেক ভালো লাগছে।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুধর্ম ও প্রিয়া বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের এই দৃশ্যটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। কক্সবাজার সৈকতে এই মিলন মেলা না দেখলে বোঝা যাবে না বাংলাদেশ যে একটা সম্প্রীতির দেশ।

চট্টগ্রাম থেকে আসা রনজিত বড়ুয়া বলেন, সাপ্তাহিক বন্ধ ও পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। বিসর্জনের নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দেখে খুবই ভালো লাগছে।

সৈকতের বালিয়াড়িতে সরেজমিন দেখা যায়, ভক্ত, পুণ্যার্থী, দর্শনার্থী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও সব ধর্মের মানুষ বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন উপভোগ করেন। সৈকতের ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও দক্ষিণে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত  তিন কিলোমিটার বেলাভূমি জুড়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। এ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এক দৃষ্টান্ত।

জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশ জানান, এ বছর জেলায় ৩০৫টি মণ্ডপে পূজা উদ্‌যাপন হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সৈকতে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান জানান, তিন স্তরে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। শুধু সৈকত এলাকায় প্রায় কয়েকশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। যানজট নিরসনে সৈকতের কলাতলী থেকে আশপাশের সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।