logo
আপডেট : ৫ অক্টোবর, ২০২২ ২৩:১৯
হত্যা ও লাশ গুমের ৫ বছর পর রহস্য উন্মোচন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

হত্যা ও লাশ গুমের ৫ বছর পর রহস্য উন্মোচন

ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনার পাঁচ বছর পর মাটি খুঁড়ে কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কানুদাশকাঠি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদের পাশে কবরস্থানের ভেতর বাঁশ ঝাড়ের নিচ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি জানায়, ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে খায়রুল মীরকে অপহরণ করের এ মামলার আসামি মনিরের বাড়িতে নিয়ে খুন করে লাশ বাড়ির পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ ঘটনায় খুন হওয়া খায়রুলের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজাপুর থানায় কানুদাশকাঠী এলাকার সৈয়দ জেহাদুল ইসলাম, রিয়াদ, কাজল, পলি বেগম, রুস্তমসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ কিছুদিন মামলা তদন্ত করার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

সিআইডি আরো জানায়, খায়রুল হত্যায় জড়িত ছিলেন কানুদাসকাঠি এলাকার ফোরকান, সোহাগ, মনির ও গিয়াস ওরফে দুলালসহ চারজন। খায়রুল হত্যায় ফেঁসে যাওয়ার শঙ্কায় থেকে লাশটি পূর্ব কানুদাসকাঠি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদের পাশে কবরস্থানে স্থানান্তর ও পুতে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয় মিজান হাওলাদার ওরফে মিজুকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বাবুল হোসেন একাধিক সোর্স নিয়োগ করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রাম থেকে মিজান হাওলাদার ওরফে মিজুকে (৪৫) সোমবার গভীর রাতে আটক করে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ।

মিজুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব কানুদাসকাঠি গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন একটি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে বাঁশ ঝাড়ের নিচ থেকে বুধবার বিকেলে খায়রুলের দেহের কঙ্কাল, পরনের জিন্সের প্যান্টের অংশ বিশেষ ও বেল্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাতে সিআইডির ঝালকাঠির বিশেষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হত্যা ঘটনা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন সিআইডি ঝালকাঠি ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার মো. এহসানুল হক ।

তিনি বলেন, এটি ছিল একটি ক্লু লেস হত্যাকাণ্ড। মিজুকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে এবং উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল তারা হত্যায় কেউ জড়িত ছিল না। এ হত্যার মাস্টার মাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী ফোরকানকে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে থেকে পলাতক।