logo
আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৩৯
সিলেটকে নিজের ‘লাকি গ্রাউন্ড’ বললেন তৃষ্ণা
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে

সিলেটকে নিজের ‘লাকি গ্রাউন্ড’ বললেন তৃষ্ণা

নিজেদের চেনা-জানা মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সারা বছরের বেশিরভাগ খেলাধুলা এখানেই হয়। এই মাঠেই ঘরোয়া ক্রিকেট ১৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঁহাতি ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। জাহানারার চোটে বদলী হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে। তবে খেলা হয়নি সেখানে। অভিষেকটা হলো নারী এশিয়া কাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে। তাতেই হ্যাটট্রিক নিয়ে করলেন বাজিমাত। তাই সিলেটের মাঠকে নিজের জন্য ‘লাকি গ্রাউন্ড’ বললেন এই পেসার।

ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বল। বাঁহাতি পেসার তিনটা বলই ফেললেন এক জায়গায়। তিন বলেই উড়ল তিনজনের স্টাম্প। তাতেই অভিষেকে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন তৃষ্ণা।

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এমন কীর্তি গড়ার পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন এই টাইগ্রেস বোলার। এসে তিনি বললেন, ‘আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেশি ছিল। কারণ এটা আমাদের হোম গ্রাউন্ড। এখানে আমরা অনুশীলন ক্যাম্প, এনসিএলসহ অনেক ধরণের ম্যাচ খেলেছি। আর এই উইকেটটা আমার জন্য অনেক লাকি বলে মনে করি। কারণ আমি যখনই এখানে খেলি, তখনই ভালো কিছু হয়। এজন্য আমার অভিষেক ম্যাচে বিশ্বাস ছিল আজ ভালো কিছু একটা হবে।

তৃষ্ণার ডেলিভারিতে লেন্থ থেকে ভেতরে ঢোকা বলে সুইং হয়েছিল। সেগুলো মিস করেছেন ব্যাটাররা। প্রতিটি বলেই হয়েছে সুইং। যা তার স্বভাবজাতই বলে জানালেন তৃষ্ণা, ‘ন্যাচারালি যেটা আমার সুইং হয়। আর আমার লক্ষ্য থাকে জায়গায় বল করার। আজ সেটাই করেছি। কোনো ভেরিয়েশনের কথা মাথায় আনিনি। নরমালি জায়গায় বল করার চেষ্টা করে গিয়ে সফল হয়েছি।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষেই যে অভিষেক হবে সেটা তৃষ্ণা জানতে পেরেছেন আজ সকালে। অল্প সময়ে সাধারণত প্রস্তুত হওয়া যায় না। বড় পরিসরে খেলার আগে মানসিক প্রস্তুতির জন্য পেতে হয় অনেকটা সময়। তৃষ্ণা তাই নিজেকে প্রতিটা ম্যাচের আগেই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত রেখেছিলেন, ‘প্রথমত আমি দলের সঙ্গে ছিলাম। চেষ্টা ছিল যেদিনেই খেলব, সেদিনই ভালো কিছু একটা করার। আজ সকালে অভিষেকের বিষয়ে জানলেও প্রস্তুতিটা প্রতিটি ম্যাচের আগে থেকেই ছিল।’

ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আলোচনায় থাকলেও প্রথমে ছিলেন না বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের দলে। তবে জাহানারা আলমের চোটে দলে জায়গা হয় তার। কিন্তু কোনো ম্যাচেই খেলা হয়নি। অবশেষে সিলেটে অভিষেকের দিনে সেই জাহানারার কাছ থেকেই ক্যাপ নিলেন তৃষ্ণা। অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উনার কাছ থেকে ক্যাপ নিতে পেরে অনেক খুশি। উনি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, শুরু থেকে ক্রিকেটে আছে। বাংলাদেশের সেরা পেস বোলার। উনার কাছ থেকে ক্যাপ নিতে পেরে খুশি লেগেছে। উনি উইশ করেছে যেন ভালো করতে পারি।’