logo
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০
আর্জেন্টিনার হার থেকে শিখতে হবে ব্রাজিলকে
হুয়ান ভেরন

আর্জেন্টিনার হার থেকে শিখতে হবে ব্রাজিলকে

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচটা ছিল হতাশাজনক, স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। খেলা শুরুর ১৫-২০ মিনিট পর থেকেই তারা আস্তে আস্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছিল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে ছিটকেই গেল। এখন এই জায়গা থেকে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া, সেজন্য মেসি ও তার দলকে দ্রুত নিজেদের ঘাটতির জায়গাটা বের করতে হবে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে হার আর্জেন্টিনা দলটাকে নিয়ে অনেক সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। যে সংশয়টা দলের ভেতর থেকেই দূর করতে হবে। দলের সবাইকে নিজেদের ভেতর আলাপ করতে হবে, একটা করে ম্যাচ ধরে ধরে চিন্তা করতে হবে আর পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে হবে। আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটা কঠিন হয়ে উঠেছিল কারণ ওরা আর্জেন্টিনাকে খেলার জায়গাই দেয়নি। আর্জেন্টিনা নিজেদের ছন্দটাই খুঁজে পায়নি। সৌদি আরব সেভাবেই খেলেছে যেভাবে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এবং তারা ভালো খেলেই ম্যাচটা জিতেছে। লো সেলসোকে ছাড়া কৌশলটা কী হবে, স্ক্যালোনিকে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। আর্জেন্টিনাকে অবশ্যই আলেসান্দ্রো গোমেজ, রদ্রিগো ডি পল ও লিয়ান্দ্রো পারাদেসকে মাঝমাঠে খেলাতে হবে। সঙ্গে মেসি আর অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া থাকবে সামনে।

আর্জেন্টিনা যদিও গোল পেয়েছে, তারপরও মেসি কিন্তু প্রথমার্ধে ভালো খেলেনি, তাকে সৌদি আরবের ফুটবলাররা কড়া পাহারায় রেখেছিল। বাকি সময়টাতেও আমরা তার সেরা পারফরম্যান্সটা পাইনি। গোলটা করার পর আর্জেন্টিনা শুধু দুই প্রান্তের ভেতর বল পাস দিয়ে দিয়ে সময় নষ্ট করেছে, চেষ্টা করেছিল প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলতে। আর্জেন্টিনা গোল করার বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু অফসাইডের জন্য সেসব বাতিল হয়ে যায়। এটাই ছিল সৌদি রক্ষণের কৌশল এবং তারা সফলতার সঙ্গেই আর্জেন্টিনাকে অফসাইডের ফাঁদে ফেলতে পেরেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আশা করেছিলাম,আর্জেন্টিনা তাদের কৌশল আর খেলার ধরনে পরিবর্তন আনবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেই পরিবর্তন তাদের খেলায় খুঁজে পাইনি যেটা আমরা আশা করেছিলাম। তারা খেলা থেকে একদমই ছিটকে গিয়েছিল, ফলে সৌদি আরব আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে এবং আর্জেন্টিনার গোলবারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আর্জেন্টিনা আসলে প্রতিপক্ষকে বুঝে উঠতে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে। কীভাবে সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে হয়, সেটা তারা ভুলেই গেছে। আসলে তারা প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিয়েছিল, বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ার পর যেটা ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

রেনাঁর দল খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের ভেতরেই গোল আদায় করে নেয়, যখন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল একেবারে বিভ্রান্ত। আর্জেন্টিনা অনেকবার বল হারিয়েছে। তারা খেলতে শুরু করে পেছনের দিক থেকে আর সেই সুযোগে সৌদি আরব ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে। যখন দ্বিতীয় গোলটা তারা হজম করে বসে, তখন মহাবিপর্যয় ঘটে যায়। স্ক্যালোনি চেষ্টা করেছিল দলে পরিবর্তন এনে খেলায় ফিরে আসতে, কিন্তু ততক্ষণে খেলা অনেক জটিল হয়ে গেছে। সৌদিরা ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে লিড ধরে রাখার জন্য সবাই মিলে রক্ষণে নেমে যায় আর ওদের গোলরক্ষকও খুব দারুণ খেলেছে। গোটা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে এক মুহূর্তের জন্য আর্জেন্টিনাকে স্বস্তিতে থাকতে দেখা যায়নি। অথচ গ্রুপে সৌদি আরবই ছিল সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ। এখন মেসিদের জন্য কঠিন হবে মানসিকভাবে এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে এসে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা।

আর্জেন্টিনাকে হারতে দেখার পর গোটা লাতিন আমেরিকা এখন তাকিয়ে আছে ব্রাজিলের দিকে। ব্রাজিল খুব সহজেই বাছাই পর্বের শীর্ষ দল হয়ে কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যদিও তারা কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল। ব্রাজিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল, অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমি আশা করছি আর্জেন্টিনাকে হারতে দেখে ব্রাজিল সতর্কভাবেই আসর শুরু করবে। কারণ যে কোনো আসরেই প্রথম ম্যাচটা, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রথম ম্যাচটা জয় দিয়ে শুরু করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রাজিল দলটাকে বেশ নির্ভার আর শান্ত দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকাটাও যে কোনো বড় আসর জেতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার সঙ্গে শেষ দেখায় তাদের হার দলের অনেকগুলো দুর্বল জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তাদের দলের শুরুর একাদশে কারা থাকবে, এই নিয়ে কারও মনে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই। হয়তো ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে একটু দ্বিধা থাকতে পারে। ব্রাজিল এমনিতেই খুব আকর্ষণীয় ফুটবল খেলে, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউরোপিয়ান প্রভাব। ফলে দলটা আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠেছে। তিতের খেলার ধরন হচ্ছে ৪-৩-৩, তাদের আক্রমণভাগটা খুবই শক্তিশালী। তবে যখন রক্ষণে সবাইকে নামতে হয়, তখন একটা দুর্বলতা থেকে গেছে। তাই শেষ পর্যন্ত যেতে হলে, তাদের সতর্ক হয়েই শুরু করতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে আর্জেন্টিনার হার থেকে।