logo
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০
পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত যশোর
শিকদার খালিদ, যশোর

পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত যশোর

প্রায় ২৭ মাস পর রাজনৈতিক জনসভায় সশরীরে অংশ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। শেখ হাসিনা সর্বশেষ ৫ বছর আগে জেলাটিতে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। আর তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫০ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে ভাষণ দিয়েছিলেন বলে এ সমাবেশকে ঐতিহাসিক বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, এটি হবে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা। অন্তত ৮ লাখ লোকসমাগম হবে তাতে। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশকে সফল করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা। যশোর শহর সেজেছে বর্ণাঢ্য নানান সাজে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন, জনসভা ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন।

জেলার ৮ উপজেলা-পৌরসভা ও ৯৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা গণসংযোগ চালিয়েছেন জনসভা সফল করার জন্য। তারা যশোর উন্নয়নের নানা প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করারও উদ্যোগ নিয়েছেন।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘২০১৭ সালের পর প্রথম যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক এ জনসভা। ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একই স্টেডিয়ামে ভাষণ দিয়েছিলেন।’

যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দলের সভাপতি ও উন্নয়নের সফল কারিগর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উৎসবের আমেজ যশোরজুড়ে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ।’ তিনি বলেন, ‘সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যশোরসহ খুলনা বিভাগের প্রতি জেলা থেকে ব্যাপক নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটবে। স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও এ প্রস্তুতিতে অংশ নিয়েছেন। তারা এখন যশোরে অবস্থান করছেন।’

কাজী নাবিল জানান, অধিক জনসমাগমের কথা চিন্তা করে সমাবেশস্থলের বাইরেও কয়েকটি বড় পর্দায় ভাষণ দেখানো হবে।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর জেলাকে ইতিমধ্যে অনেক কিছু দিয়েছেন। আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন, আমাদের মেডিকেল কলেজ দিয়েছেন, আমাদের ভৈরব নদ খনন করা শুরু করেছেন, এখানে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার আইটি পার্ক তিনি দিয়েছেন।’

নাবিল বলেন, ‘আমাদের আরও দীর্ঘদিনের একটি দাবি আছে, যশোরকে বিভাগ করা, যশোর শহরকে সিটি করপোরেশন করা, ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করাসহ কিছু দাবি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব। আমরা আশা করব তিনি সেগুলো বিবেচনাসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আগামীতে সেটার বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাব।

গত মঙ্গলবার রাতে জনসভার স্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যশোরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি নয়। আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলেই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২৪ নভেম্বর যশোর শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে। শুধু স্টেডিয়ামের ভেতর জনসভা সীমাবদ্ধ থাকবে না, সমগ্র যশোর শহর একটি জনসভাস্থলে রূপ নেবে। এই জনসভা আওয়ামী লীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ২৭ মাস পর জনগণের সামনে সরাসরি কোনো জনসমুদ্রে উপস্থিত হবেন।’

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আবহাওয়া নিয়েই যশোর দিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনী জনসভা শুরু হচ্ছে। অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে তা দেখানোর জন্য নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে যশোর কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ জানান, মঞ্চ সাজানো হয়েছে লালগালিচা দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী যে পথ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করবেন সেই পথ থেকে শুরু করে মঞ্চ পর্যন্ত লালগালিচায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের ব্যাক স্ক্রিন করা হয়েছে চারুকলার ছাত্রদের দিয়ে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে জেলা পুলিশের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারেডে সভাপতিত্ব করা পুলিশ সুপার বলেন, যশোর জেলা ইতিমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।