
উত্তরের হুমকি উপেক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের সেনাবাহিনী ১৩-২৩ মার্চ এই যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ করবে। এর লক্ষ্য হলো উভয় দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা সামর্থ্য শক্তিশালী করা।
আল জাজিরা বলছে, ফ্রিডম শিল্ড বা মুক্তির ঢাল নামের মহড়াটি এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুসারে, যৌথ কম্পিউটার-সিমুলেশন কমান্ড পোস্ট অনুশীলন থাকবে এই মহড়ায়।
দুই দেশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুক্তির ঢাল মহড়ার পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে করে জোটের প্রতিরক্ষা ও পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে, নিরাপত্তা পরিবেশের বদল হয়।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তিনটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সবগুলোতে ‘জয়’ পেয়েছে বিজেপি। ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে জোটের সঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি। অথচ ভোটের আগে অনেকেরই ধারণা ছিল ভিন্ন ফলাফলের। তবে রাজ্যগুলোতে কংগ্রেস, তৃণমূল কিংবা বামফ্রন্ট মিলে বিজেপিবিরোধী যে জোট গড়েছিল তাতে সমন্বয়হীনতার অভাবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবির মেতেছে জয়োল্লাসে।
তিন রাজ্যের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি ৩৩টি আসন পেয়ে গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যদিও তা গতবারের ৪৪ আসনের চেয়ে অনেকটাই কম। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত দেববর্মার নতুন দল তিপ্রা মোথা পেয়েছে ১৩টি আসন, আর বামপন্থি ও কংগ্রেসদের জোট ১৪টি আসনে জিতেছে। নাগাল্যান্ডে বিজেপি ১২টি ও তাদের পুরনো শরিক দল এনডিপিপি ২৫টি আসন পেয়েছে, ফলে ৬০ আসনের বিধানসভায় তারা সরকার গড়ছে অনায়াসেই। মেঘালয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সঙ্গে বিজেপির জোট ভেঙে গিয়েছিল ভোটের আগেই, কিন্তু ভোটে একক গরিষ্ঠতা না-পাওয়ার পর এনপিপি নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করেন। বিজেপিকে নিয়েই তিনি সরকার গঠন করতে চান।
বিবিসি বলছে, ভারতে ২০২৩ সালজুড়ে মোট দশটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে, এরপর আগামী বছরের প্রথমার্ধেই হবে দেশব্যাপী লোকসভা নির্বাচন।
বলা যেতে পারে, চলতি বছরে দেশে ভোটের মৌসুম শুরুই হলো এই তিন রাজ্য দিয়ে, আর তার ফল অবশ্যই বিজেপির মনোবল বাড়াবে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই তিন রাজ্যেই খুবই খারাপ ফল করেছে; যা তাদের জাতীয় রাজনীতির মাঠে আরেকটু ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের যেসব রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, সেখানে বিজেপিবিরোধী শক্তিগুলো যদি জোট বেঁধে লড়তে পারে, তাহলে তারা বিজেপিকে চাপে ফেলতে পারবে। আর না-হলে তাদের আটকানো যাবে না। ত্রিপুরার ফল সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।
দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমন শর্মার ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে বহুবারই দেখা গেছে যখনই রাজ্যেবিরোধী শক্তিগুলো জোট বেঁধে বিজেপির মোকাবিলা করেছে, তখনই বিজেপি বেশ বেকায়দায় পড়েছে। ২০১৫ সালের বিহারের নির্বাচন ছিল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ত্রিপুরাতেও এবার বিরোধী বামপন্থি ও কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়েছিল। তবে সেখানেই নিজেদের সবচেয়ে ভালোভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে বিজেপি।
আমন শর্মার মতে, তিনটি রাজ্যের ফলাফলের মধ্যে ত্রিপুরার ফল বিজেপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা প্রমাণ করতে পেরেছে ২০১৮ সালে বামপন্থিদের হারিয়ে তাদের ত্রিপুরায় জেতাটা কোনো ফ্লুক ছিল না!
তবে রাজ্যটিতে উপজাতীয়দের নতুন দল তিপ্রা মোথা ভোটে ভাগ বসানোর সুবিধা বিজেপি পেয়েছে উল্লেখ করে আমন শর্মা বিবিসিকে বলেন, ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই ত্রিপুরায় বিজেপির জেতা সম্ভব হয়েছে। গতবারের তুলনায় আসন কম পেলেও তারা রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে।
বিবিসি বলছে, আগামী এপ্রিল-মে মাসেই আর একটি বড় রাজ্য কর্নাটকে নির্বাচন। সেখানেও বিরোধী কংগ্রেস ও জনতা দল (সেক্যুলার) যাতে জোট বেঁধে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারে উভয় দলের পক্ষ থেকেই সে চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসের একাধিক প্রথম সারির নেতা কর্নাটকেও জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার কথা বলেছেন। আবার তৃণমূল বলছে, তারা আগামী ভোটে কোনো জোট না গড়েই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে। যে দল যাই করুক জোটের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব হলে ভোটে বিজেপিকে হারানোর সুযোগ এখনো নেই ভারতে।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অংশগ্রহণ বিপর্যয়কর পরিণতির ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। বৃহস্পতিবার জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক সম্মেলনে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ সম্মেলনে বলেন, ইউক্রেনে এবং এর আশপাশের এলাকায় সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নীতির কারণে এখন সবচেয়ে তীব্র কৌশলগত হুমকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চীনের ১২ দফা প্রস্তাব পশ্চিম গ্রহণ না করায় শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়েছে।
রিয়াবকভ বলেন, সশস্ত্র সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা বিপর্যয়কর পরিণতিসহ পারমাণবিক শক্তিগুলোর সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। রিয়াবকভের এই বক্তব্যের সময় সম্মেলনকক্ষ প্রায় খালি হয়ে যায়। পশ্চিমা কূটনীতিকরা তার বক্তব্য বর্জন করে বাইরে ইউক্রেনের পতাকায় মোড়া একটি ম্যুরালের সামনে ছবি তুলতে জড়ো হন।
তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভেনিয়া ফিলিপেনকো বলেন, একে রাশিয়ার উসকানিবিহীন ও অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জনগণের প্রতি একাত্মতা দেখানোর অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে মনে করি আমরা।
যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সিমন ম্যানলি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না ইউক্রেনের মাটি থেকে রাশিয়া তাদের ট্যাংক সরিয়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের সহকর্মীদের প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে যাব। তাদের যুদ্ধ মানে আমাদের যুদ্ধ।
বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রণী বহুপক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণ ফোরামের পক্ষ থেকে কনফারেন্স অন ডিজআর্মমেন্ট (সিডি) নামে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। স্নায়ুযুদ্ধের অস্ত্র প্রতিযোগিতা থামানোর চেষ্টা হিসেবে ১৯৭৯ সালে প্রথম এই ফোরাম গঠিত হয়। সিডি জাতিসংঘের কোনো অংশ নয়। তবে এর সদস্যরা জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করে। গত বছর ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে এই ফোরামে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। গত সোমবার সিডির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট বনি জেনকিনস নিউ স্টার্ট নামের চুক্তি স্থগিত করায় রাশিয়ার সমালোচনা করেন। বনি জেনকিনস বলেন, রাশিয়া আবার বিশ্বকে দেখাল যে, তারা দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি নয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সিডির সম্মেলনে ভিডিও বার্তা দেন। তাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে উচ্চস্তরের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা না জানানোয় চীনের সমালোচনা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। রাশিয়াকে তারা অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বরাবর অভিযোগ করে আসছে। পেইচিংয়ের দেওয়া শান্তি পরিকল্পনা সন্দেহের চোখে দেখছে ইউক্রেন। আর রাশিয়া এ পরিকল্পনায় স্বীকৃতি দিলেও দেশটির তরফ থেকে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে এই যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়।
যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সামনের এক যুগে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়বে; অর্থাৎ, তাদের ওজন হবে উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ফেডারেশন বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশে^র ৪০০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগবে। যার কারণে বিশ^ অর্থনীতি প্রতি বছর চার হাজার বিলিয়ন ডলার বা ৪৩ লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত খরচের চাপে পড়বে।
বিবিসি জানিয়েছে, আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি এই সমস্যা বাড়ার আভাস দেওয়া হয়েছে ফেডারেশনের এক প্রতিবেদনে। ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক লুইস বাউর বলেছেন, তাদের জরিপে যে ফলাফল এসেছে, তা বিশে^র দেশগুলোকে এই সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে, পরিস্থিতির ওইরকম অবনতি এড়াতে এখনই তাদের উদ্যোগী হওয়া দরকার।
ওবিসিটি ফেডারেশনের প্রতিবেদনে শিশু ও কিশোর বয়সীদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ছেলে-মেয়েদের স্থূলতার যে মাত্রা, ২০৩৫ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ হতে পারে। অধ্যাপক বাউর বলেন, বিশে^র জনসংখ্যার স্থূলতার প্রবণতা ‘বিশেষভাবে উদ্বেগজনক’। এর পেছনে মূল কারণগুলো পর্যালোচনা করে তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক খরচ এড়াতে বিশ্বব্যাপী সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের যথাসাধ্য সবকিছু করতে হবে।
বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতার প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে ওবিসিটি ফেডারেশনের প্রতিবেদনে। বিশে^ সবথেকে বেশি শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে নয়টি দেশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের; সবগুলোই হয় এশিয়ার, না হয় আফ্রিকা মহাদেশের।
শারীরিক এই স্থূলতার পেছনে প্রক্রিয়াজাত খাবার, শারীরিক ব্যায়াম বা অনুশীলনের অভাব, খাদ্য সরবরাহ, বাজারজাতকরণে দুর্বল নীতি, ওজন ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য শিক্ষার অনুন্নত ব্যবস্থাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ওবিসিটি ফেডারেশনের তথ্য বলছে, বিশ^জুড়ে স্থূলতার হার বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। বার্ষিক ক্ষতি যে পরিমাণের অনুমান করা হচ্ছে, তা বিশে^র মোট জিডিপির ৩ শতাংশ এবং একে কভিডের প্রভাবে ২০২০ সালের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে তুলনা করেছে সংস্থাটি। তবে শারীরিক স্থূলতার জন্য কোনোভাবেই মুটিয়ে যাওয়া মানুষদের দোষারোপ না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। আগামী সোমবার জাতিসংঘে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে সংস্থাটি।
কম্বোডিয়ার সুপরিচিত সরকারবিরোধী নেতা কেম সোখাকে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে ২৭ বছর গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গতকাল শুক্রবার রাজধানী নমপেনের একটি আদালত এ আদেশ দেয়। রায়ে আদালত বলেছে, এই দণ্ডের কারণে ৬৯ বছর বয়সী কেম সোখা সরকারি কোনো পদে থাকতে পারবেন না, পারবেন না নির্বাচন করতেও।
বিবিসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সরকারকে উৎখাতে বিদেশি শক্তির সঙ্গে চক্রান্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সোখার আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানানো হয়েছে।
২০১৩ সালের এক ভিডিওতে কেম সোখা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। ওই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই ২০১৭ সালে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সখা ও তার আইনজীবীরা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বিরোধীদলীয় এ নেতার বিরুদ্ধে করা মামলাকে ভিত্তিহীন বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশিদিন ধরে দেশ শাসন করে আসা ব্যক্তিদের তালিকায় উপরের দিকেই আছেন হুন সেন, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে কম্বোডিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন।
দেশটিতে এই বছরের জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। এতেও হুন সেন লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুরের দ্বিধা-বিভক্ত রাজনীতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই দফায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ভোটে পরাজিত করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী, দক্ষ, মেধাবী ও ভাবমূর্তি সম্পন্ন আজমত উল্লাকে বরং আরও ওপরে রাখতে চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতি টের পেয়েছেন মেয়র প্রার্থী আজমত হারেননি, তাকে গাজীপুরের দলীয় রাজনীতিতে জোর করে হারানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে পাঠান। আজমতের সঙ্গে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চক্রান্তের ব্যাপারগুলো শেখ হাসিনা জানেন এবং জানান। গণভবনে পরাজিত প্রার্থী আজমতকে বোঝান পরাজয়ের কারণ আমরাই। বিএনপি-জামায়াত তাদের প্রার্থী দেয়নি গাজীপুরের সিটি ভোটে। তারা নৌকা হারাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জাহাঙ্গীর আলম। এর সঙ্গে দলেরও কেউ কেউ রসদ জুগিয়েছে। এতে রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে এমন নয়।
গণভবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজমত উল্লা খানকে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) গত ১৫ মে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় ওই শূন্য আসনে আজমতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
এই নিয়ে ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভিন্ন কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের যেকোনো আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে গাজীপুর সিটির ভোটে যে সংসদ সদস্য দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার তথ্য মিলবে তাকেই বাদ দেওয়া হবে। এ সিটি ভোটে হারের কারণ জানতে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব একটি সংস্থাকে নির্ভুল তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারেন আজমত, ওই সূত্র দাবি করে। সূত্রটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী যার ওপর ক্ষুব্ধ হন তার যেমন শাস্তি দেন যার ওপর সন্তুষ্ট ও যিনি ধৈর্য ধারণ করেন তাকে একই সঙ্গে সব দেন। গত ১৫ বছরে বহুজন এর উদাহরণ। গাজীপুরে মেয়র পদে আজমতকে হারা বা হারানোয়, প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীরের ভোটকে ঘিরে যে নাটকীয় আচরণ করেছেন সে সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজমতকে নিয়ে যে খেলাধুলায় মেতেছে সে আজমতকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন আরও ওপরে।
প্রয়াত সংসদ সদস্য নায়ক ফারুক গাজীপুরের কালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আজমতও টঙ্গী কালিগঞ্জের। তা ছাড়া ঢাকা লাগোয়া এই জেলার বাসিন্দা আজমত। গাজীপুরের অনেক মানুষ ওই আসনে বসবাসও করেন। এসব মিলিয়ে আজমত প্রায়োরিটি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে।
আজমতের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠজনেরা এসব তথ্য দিলেও আজমত উল্লা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব ব্যাপারে তার কোনো কিছুই জানা নেই। চিন্তাও করেন না তিনি।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১৩ ধরনের জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। অন্যদিকে উৎপাদন পর্যায়ে তরল করা পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে ১৩ দশমিক ৭৫ টাকা করে শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ ছাড়া অন্যান্য জ্বালানি জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, লুব বেইজ অয়েল, কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এত দিন এসব জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল।
আমদানি করা পণ্যের যথাযথ মূল্য নির্ধারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্যের ট্যারিফ মূল্য ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে পেট্রোলিয়াম ও এর উপজাত দুটি হেডিংয়ের আওতায় ১২টি এইচএস কোডের বিপরীতে ট্যারিফ মূল্য এবং একটি হেডিংয়ের আওতায় একটি এইচএস কোডের বিপরীতে ন্যূনতম মূল্য বহাল আছে।
পেট্রোলিয়াম ও এর উপজাতগুলোর মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করার কারণে অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডারের বিষয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামাল ইস্পাতের পাত (স্টিল শিট) ও ওয়েল্ডিংয়ের তার আমদানির করছাড় সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদনকারীরা কাঁচামালে শুল্ককর ছাড় ১২ বছর ধরে ভোগ করে আসছে। তাই রাজস্ব আহরণের স্বার্থে শুধু দুটি উপকরণে ছাড় তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য করছাড়ের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে।
পেট্রোলিয়াম তেল এবং বিটুমিনাস খনিজ থেকে প্রাপ্ত তেলের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ৫ শতাংশ। নতুন বাজেট অনুযায়ী এসবের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ হাজার ১১৭ টাকা (লিটার প্রতি ৭.০২ টাকা) হতে পারে। প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের সুনির্দিষ্ট শুল্ক ৯ হাজার ১০৮ টাকা (লিটার প্রতি ৯.১০ টাকা) করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নানা অব্যবস্থাপনায় এগোচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষা। প্রায় শতভাগ শিশু ভর্তির আওতায় এসেছে অনেক আগে। এরপর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের কাজ অনেকটাই আটকে আছে। খোদ সরকারি সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে প্রাথমিকে চরম দুরবস্থার কথা। গবেষয়ণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাক্সিক্ষত মানের চেয়ে শিশুরা অনেক পিছিয়ে আছে। কিছু শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা স্বউদ্যোগে কিছু কাজ করার চেষ্টা করলেও কথায় কথায় তাদের ওপর নেমে আসছে শাস্তির খড়গ। মানের উন্নয়ন না হলেও ঠিকই অধিদপ্তরে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সম্প্রতি এই গবেষণা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সেখানে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণের আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গড়ে ইংরেজি বিষয়ে যতটা শিখত, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে তা সাড়ে ১২ শতাংশ কমে গেছে। একই শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিখন অর্জনের হার কমেছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। আর তৃতীয় শ্রেণির বাংলায় কমেছে ১৫ শতাংশের মতো।
গবেষণার তথ্য বলছে, করোনার আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে শিখন অর্জনের গড় হার ছিল প্রায় ৪৯ শতাংশ। করোনাকালে বন্ধের প্রভাবে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশ। একই শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ^পরিচয় বিষয়ে শিখন অর্জনের গড় হার ৫১ শতাংশের বেশি, যা আগে ছিল ৬৮ শতাংশের মতো। পঞ্চম শ্রেণির বাংলা, গণিত ও বিজ্ঞানেও ক্ষতি বেড়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতি পূরণে এ ধরনের গবেষণার দরকার ছিল। আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখেই তা করা হয়েছে। আমরা এই গবেষণা প্রতিবেদন দু-এক দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আমরা অন্তত এক বছরের জন্য রেমিডিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছি। মন্ত্রণালয় সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা দিন দিন পিছিয়ে পড়লেও সেদিকে তেমন একটা নজর নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। তারা ব্যস্ত আছে লাখ লাখ শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নিয়ে। কেউ কথা বললেই তার ওপর নেমে আসছে শাস্তি। ফলে শিক্ষকরাও দিন দিন তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন; কোনো রকমে দিন পার করছেন।
জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষায় উদ্ভাবনী ও অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন রাজবাড়ী জেলার স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম। একই বছর রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিক নির্বাচিত হন। সাধারণত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব শিক্ষকের হাতে পদক তুলে দেন। শিক্ষকদের পাশাপাশি সেরা শিক্ষার্থীদের পদক দেওয়া হয় একই অনুষ্ঠানে। কিন্তু করোনাকালে তাদের হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষক পদক তুলে দেওয়া যায়নি। গত ১২ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তাই অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে স্বাভাবিকভাবে তারা দাবি তুলেছিলেন, দেরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তারা পদক নেবেন; যা তাদের সারা জীবনের স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঠিকই পদক নেন। তবে এর ৬৮ দিনের মাথায় এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার দাবি তোলায় চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই ঘটনায় জয়পুরহাটের হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারণ তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এ পদক নিতে ১১ মার্চ ঢাকা এসেছিল। ওই শিক্ষকও প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেওয়ার দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তাদের কাউকে শোকজ করা হয়নি; যা বিধিবহির্ভূত বলছেন শিক্ষকরা।
জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল আজিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্তের পরবর্তী যে প্রক্রিয়া আছে, সেদিকেই আমরা যাব।’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সঙ্গে এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য গতকাল একাধিকবার চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেওয়া একজন শিক্ষকের জীবনে সেরা প্রাপ্তি। এ জন্য শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। শিক্ষকদের যেভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা মোটেও ঠিক হয়নি বলে আমার মনে হয়। এর প্রভাব অন্যান্য শিক্ষকের মধ্যেও পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।’
শুধু তা-ই নয়, করোনাকালে বন্ধ থাকা প্রাথমিক শিক্ষা চালু রাখতে কিছু শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা স্বউদ্যোগে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেন; যাতে অনলাইন ক্লাস, শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনাসহ নানা কাজ করা হয়। এতে প্রতিটি ফেসবুক গ্রুপে লাখ থেকে হাজারো শিক্ষক যুক্ত হয়েছেন। এখনো সেসব গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু সেই গ্রুপগুলোকেই এখন শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের অজুহাত দেখিয়ে অনলাইনে যুক্ত থাকা অনেক শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকেই দেওয়া হচ্ছে কারণ দর্শানো নোটিস (শোকজ)। সরকার যেখানে শিক্ষকদের ডিজিটালি আপডেট হওয়ার কথা বলছে, সেখানে প্রায় অনেকটাই উল্টো পথে হাঁটছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষকরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আসন গেড়ে বসেছেন কিছু কর্মকর্তা। অনেকেই ৬ থেকে ১২ বছর ধরে একই দপ্তরে চাকরি করছেন। তাদের যে দায়িত্বই থাক না কেন যত লাভজনক কাজ আছে, সেগুলোতেই তারা হাত দিচ্ছেন। যোগ্য কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরে আনলে তাদের সরে যেতে হবে, এ জন্য তারা নানাভাবে ঊর্ধ্বতনদের ভুল বুঝিয়ে মাঠপর্যায়ে শাস্তি দিয়ে সবাইকে ভীত করে তুলছেন। এতে পিছিয়ে পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার মান।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত মার্চ-এপ্রিলে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি করা হয়। যদিও নিয়ম ছিল, অনলাইনে নির্দিষ্ট মানদন্ড পূরণ ছাড়া কেউ বদলি হতে পারবেন না। কিন্তু তা মানেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিয়ম ভেঙে কয়েক শো শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করা হয়। আর এই বদলি-পদায়নে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের; যা ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে। আবার অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বদলিতেও সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে। কাউকে ক্ষোভের বশবর্তী হয়েও অনেক দূরে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন।
জানা যায়, চলতি বছর থেকে প্রথম শ্রেণিতে চালু হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। আর আগামী বছর থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ২০২৫ সাল থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। কিন্তু তা পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেই অধিদপ্তরের। শিক্ষকদের নামমাত্র প্রশিক্ষণেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। আসলে এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীরা কতটুকু আত্মস্থ করতে পারছে বা এ জন্য আর কী করা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে তেমন নজর নেই।
এ ছাড়া এখনো প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকরা পান ১৩তম গ্রেডে। দুই ধরনের প্রায় চার লাখ শিক্ষকই ১০ম গ্রেডে বেতনের দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারাও দীর্ঘদিন ধরে নবম গ্রেডের দাবি করছেন। আর মাঠে কাজ করা এসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদোন্নতিও নেই বললেই চলে। কিন্তু এগুলো সমাধানেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের; যা প্রাথমিকের মান উন্নীতের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রবীণ শিক্ষক নেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এখনো মফস্বলে বা দুর্গম অঞ্চলের অনেক স্কুলেই এক-দুজন শিক্ষক। অনেক স্কুলে শিক্ষকের পদ তিন-চার বছর ধরে শূন্য। শিক্ষক না থাকলে এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিকে সাধারণত দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা আসে। তাদের একটু আলাদা যতœ নেওয়া প্রয়োজন। সেগুলোও হচ্ছে না। শিক্ষকরাও তাদের বেতন-ভাতায় সন্তুষ্ট নন। সব মিলিয়ে আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় কাক্সিক্ষত মান অর্জন করতে পারছি না।’
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে।
গণভবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজমত উল্লা খানকে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) গত ১৫ মে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় ওই শূন্য আসনে আজমতকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
গাজীপুরের দ্বিধা-বিভক্ত রাজনীতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই দফায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে ভোটে পরাজিত করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী, দক্ষ, মেধাবী ও ভাবমূর্তি সম্পন্ন আজমত উল্লাকে বরং আরও ওপরে রাখতে চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতি টের পেয়েছেন মেয়র প্রার্থী আজমত হারেননি, তাকে গাজীপুরের দলীয় রাজনীতি জোর করে হারানো হয়েছে।
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে পাঠান। আজমতের সঙ্গে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চক্রান্তের ব্যাপারগুলো শেখ হাসিনা জানেন এবং জানান। গণভবনে পরাজিত প্রার্থী আজমতকে বোঝান পরাজয়ের কারণ আমরাই। বিএনপি-জামায়াত তাদের প্রার্থী দেয়নি গাজীপুরের সিটি ভোটে। তারা নৌকা হারাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জাহাঙ্গীর আলম। এর সঙ্গে দলেরও কেউ কেউ রসদ জুগিয়েছে। এতে রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে এমন নয়।
সূত্রটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী যার ওপর ক্ষুব্ধ হন তার যেমন শাস্তি দেন তেমনি যার ওপর সন্তুষ্ট ও যিনি ধৈর্য ধারণ করেন তাকে একই সঙ্গে সব দেন। গত ১৫ বছরে বহুজন এর উদাহরণ। গাজীপুরে মেয়র পদে আজমতকে হারা বা হারানোয়, প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীরের ভোটকে ঘিরে যে নাটকীয় আচরণ করেছেন সে সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজমতকে নিয়ে যে খেলাধুলায় মেতেছে সে আজমতকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন আরও ওপরে।
প্রয়াত সংসদ সদস্য নায়ক ফারুক গাজীপুরের কালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আজমতও টঙ্গী কালিগঞ্জের। তা ছাড়া ঢাকা লাগোয়া এই জেলার বাসিন্দা আজমত। গাজীপুরের অনেক মানুষ ওই আসনে বসবাসও করেন। এসব মিলিয়ে আজমত প্রায়োরিটি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে।
আজমতের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠজনেরা এসব তথ্য দিলেও আজমত উল্লা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব ব্যাপারে তার কোনো কিছুই জানা নেই। চিন্তাও করেন না তিনি।
দুই দশকেরও বেশি ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক-টেলিছবি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন, উপহার দিয়েছেন হিট প্রোডাকশন। নিজেকে শুধু রোমান্টিক জনরায় আটকে না রেখে কাজ করেছেন বহুমাত্রিক ঘরানায়। নিজেকে প্রমাণ করেছেন সব্যসাচী নির্মাতা হিসেবে। নিজেকে শুধু টেলিভিশনেই আটকে রাখেননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও পাল্টেছেন প্লাটফর্ম এবং সেখানেও দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা।
সর্বশেষ গেল ঈদে তুমুল সাড়া ফেলেছে তার নির্মিত স্পিন অফ সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’। সাফল্যের পর কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এর সাকসেস পার্টি যেখানে উপস্থিত ছিলেন টিমের কলাকুশলী থেকে শুরু করে অন্যান্য নির্মাতা ও শিল্পীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নিয়ে আসছেন সিরিজটির সিক্যুয়াল। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে একাধিক সিরিজ ও ফিল্ম নিয়ে আসছেন জনপ্রিয় নির্মাতা।
শিহাব শাহীন বলেন, ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ নিয়ে এতটা প্রত্যাশা ছিল না কিন্তু সে সাড়া পেয়েছি তা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। দর্শকরাই কাজটিকে গ্রহণ করেছেন আর তাই এখন এর সিক্যুয়াল নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি। স্পিন অফে দেখিয়েছি অ্যালেন স্বপনের পেছনের গল্প। সিন্ডিকেটে তাকে আমরা দেখিয়েছিলাম ২০২২ সালে, সে ঢাকায় আসার পর এর মাঝের সময়টার গল্পই থাকবে সিক্যুয়ালে। যেটার সংযোগ থাকতে পারে ‘সিন্ডিকেট ২’-তে। ঈদের পরপর এটার শুট করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিক্যুয়াল ছাড়াও আরও বেশ কিছু সিরিজ ও ফিল্ম নিয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান এ নির্মাতা। তিনি বলেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকির তত্ত্বাবধানে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ সিরিজের একটা কনটেন্ট করবো। এখনও কাস্টিং চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া হইচইয়ের একটি সিরিজ ও বিঞ্জের একটি ফিল্ম করা হবে। নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুটোতেই জিয়াউল ফারুক অপূর্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঝে শোনা গিয়েছিল, আফরান নিশোকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট ২’ নাকি হবে না, এটা কতটুকু সত্য? এমন প্রশ্নে শিহাব শাহীন বলেন, এটা ভূয়া তথ্য। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ‘সিন্ডিকেট ২’ করবো তার আগে সেপ্টেম্বরে শুরু করবো ‘রসু খাঁ’।
জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন শিহাব শাহীন। দেশে ফিরবেন মাসের শেষ নাগাদ এরপর কাজে নামবেন।