
শিক্ষার্থীদের দাবি ও অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ষে শিক্ষার্থীদের প্রমোশনের ক্ষেত্রে জিপিএ-সিজিপিএ শর্তে পরিবর্তন আনছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ এবং সাত কলেজ অভিন্ন নীতিতে চলবে। তবে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমোশন দিতে নারাজ ঢাবি কর্র্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় জিপিএ-সিজিপিএ শর্তের বিষয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে সর্বনিম্ন ২.০০ জিপিএ-সিজিপিএ পেলে পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া ২.২৫ করার আলোচনাও রয়েছে, যা বর্তমানে অনুষদ ও বর্ষভিত্তিক ভিন্ন রয়েছে। প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উঠবে এবং সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার ঢাবির সিনেট ভবনে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাবি ও কলেজ প্রশাসনের যৌথ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সাত কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধিরাও এ প্রস্তাবনা দেন। পরে সাত কলেজেও অভিন্ন নীতির বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাবির বিভিন্ন অনুষদে এক বর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনের জন্য সিজিপিএর বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। কলা অনুষদের সব বর্ষেই প্রমোশনের জন্য সর্বনিম্ন ২.০০ পেতে হয়, বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষে ২.০০ এবং অনার্স ডিগ্রিপ্রাপ্তির জন্য সিজিপিএ ২.৫০ পেতে হয়। বাণিজ্য অনুষদে প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে জিপিএ ২.০০, দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় বর্ষে ২.২৫ এবং চতুর্র্থ বর্ষ এবং ডিগ্রিপ্রাপ্তির জন্য সিজিপিএ ২.৫০ পেতে হয়। এ ছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে জিপিএ ২.০০, দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় বর্ষে ২.২৫, তৃতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষে ২.৫০ এবং অনার্স ডিগ্রি লাভের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ২.২৫ পেতে হয়। প্রস্তাবনা চূড়ান্ত রূপ লাভ করলে সব অনুষের জন্য অভিন্ন নীতিমালা থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সব অনুষদের শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে পাস করে বের হতে পারে সেজন্য জিপিএ-সিজিপিএর শর্ত অভিন্ন এবং সহজ করা হচ্ছে। সব অনুষদে এটি ২.০০ কিংবা ২.২৫ করা হতে পারে। ডিনস কমিটির সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পর্যালোচনা করা হবে এবং সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
সিজিপিএ শর্ত শিথিল করে তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমোশন দেওয়ার দাবিতে কিছুদিন ধরে আন্দোলন করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট তারা। আন্দোলনের মাঠ থেকে পুরোপুরি সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের মানোন্নয়নের সুযোগের জন্য অনুরোধ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে সাত কলেজ আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাহমুদ অপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের জন্য সিজিপিএ শর্ত শিথিল করার কথা জানিয়েছেন সাত কলেজের সমন্বয়ক। এটা আমাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত। আমরা চাই এটা কার্যকর হোক। তবে তিন বিষয় মানোন্নয়নের সুযোগ চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ সমস্যাটা দূর হলে আমাদের অনেক কিছুর সমাধান হয়ে যাবে।
সাত কলেজের সমন্বয়ক ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য্য বলেন, সাত কলেজের বিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে এক বর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনের জন্য সিজিপিএর বিভিন্ন শর্ত ছিল। গতকালের মিটিংয়ে সাত কলেজের পক্ষ থেকে সব বর্ষে অভিন্ন সিজিপিএর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটি হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সিজিপিএর অনুরূপ, যা প্রাথমিকভাবে সবার আলোচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা প্রমোশনের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ২.০০ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন একেক অনুষদে একেক নিয়ম রয়েছে। ফেলের সংখ্যা বেড়ে গেছে, জরিমানা দেওয়া এসব ভোগান্তি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এগুলো বহুলাংশে কমে যাবে। সাত কলেজের জন্যও একই সিদ্ধান্ত থাকবে। তবে তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমোশনের সুযোগ নেই।
রাজধানীতে বাসাভাড়া পেতে ভোগান্তিতে পড়েন ব্যাচেলর শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। সমস্যাটি অনেক দিনের। এখন ব্যাচেলরদের বাসা পাওয়া নিয়ে নতুন ভোগান্তি ‘তৃতীয় পক্ষ’ বা থার্ড ফ্যাক্টর।
ঢাকা ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অন্তর এমন একজন ভুক্তভোগী। স্নাতক সম্পন্ন করে কয়েক বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মেসে সিটভাড়ায় থাকছেন। তিন বছরে ঢাকার মেসে থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। এলাকা অনুযায়ী মেসের নিয়ম একেক রকম। তবে সব নিয়মেই একটি কমন ফ্যাক্টর আছে। কম টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চক্রাকারে বাড়তি ভাড়া আদায় করা মেসওয়ালাদের লক্ষ্য। অন্তরকে প্রতি মাসেই ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। মাসের গড় হিসাবে তিন বছরে অন্তত সাড়ে ২১ হাজার টাকা বাড়তি দিয়ে মেসে থাকতে হয়েছে তাকে।
জানা গেছে, এলাকাভেদে একটি ফ্ল্যাট কয়েক হাত বদল হয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। প্রথম পক্ষ বাড়ির মালিক। তারা দ্বিতীয় পক্ষকে নির্ধারিত হারে ফ্ল্যাট ভাড়া দেন। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভে তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেন দ্বিতীয় পক্ষ। ব্যাচেলরদের কাছ থেকে রুমের ভাড়া ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সিটপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি আদায় করে ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তৃতীয় পক্ষ। এ ব্যাপারে মালিকরা কিছুই জানেন না বলে তাদের দাবি।
রাজধানীর মেসভাড়া বিড়ম্বনা নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অন্তর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকায় ব্যাচেলর-রুম পাওয়া যে কতটা কষ্টের তা একমাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। জানা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় সিট অথবা রুম নিতে হয়েছে। মূল ভাড়ার বাইরে গত তিন বছরে ২০ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া দিয়েছি। ব্যাচেলরদের প্রতি বাড়িওয়ালাদের বিরূপ ধারণা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় ভুগেছি আমরা। এ শহরে ব্যাচেলর-পরিচয় বড় অপরাধ। সিটি করপোরেশনের এলাকাভিত্তিক বাড়িভাড়ার নিয়ম আছে কি না আমার জানা নেই। সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল বাড়িভাড়া পদ্ধতি এবং এলাকাভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। শুধু আইন করলেই হবে না। সে আইন জনসাধারণকে জানাতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তি কোচিং প্রভৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীর মহাখালী, ফার্মগেট, ধানম-ি, নীলক্ষেত ও মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়পড়া ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা সাধারণত এসব এলাকায় থাকেন। এ সুযোগে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ঘনবসতিপূর্ণ মহাখালীর এক বাসা থেকে আরেক বাসা এত কাছে যে, জানালা দিয়ে উঁকি মারলে পরস্পরকে দেখা যায়, খুব কাছের মনে হয়। এ এলাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজ ও বেসরকারি ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়। তাই বাসার চাহিদা বেশি সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছেই। তবে ভাড়ানৈরাজ্য সৃষ্টিকারী তৃতীয় পক্ষের কারণে ফ্ল্যাটে/মেসে থাকা রীতিমতো একটা যন্ত্রণার নাম।
আল-মামুন নামের তিতুমীর কলেজের এমএ শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিতুমীর কলেজে ভর্তি হই ২০১৬ সালের শেষের দিকে। সে সময় ক্যাম্পাসে হলে থাকায় বাইরের বাসাভাড়া নিয়ে যে প্রতারণা হয় তা জানতাম না। করোনার পরে ২০২১ সালে মেসে থাকতে শুরু করি। প্রথম বছর প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৭০০ টাকা সিটভাড়া দিচ্ছিলাম। এ হিসাবে আমাদের ফ্ল্যাটের ভাড়া পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার টাকা। পরে জেনেছি, বাসার ভাড়া মাত্র ২৩ হাজার টাকা নিচ্ছে বাড়ির মালিক। তখনই মেসের পরিচালকের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা হয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক যেন জানতে না পারেন সেজন্য পরিচালক বাসা ছেড়ে দেন। বছরে প্রায় ৮ হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে আমাকে।’
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ রয়েছে। প্রচারের অভাবে বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া কেউ আইনটি সম্পর্কে অবহিত নন। বাড়ির মালিকরা জানলেও স্বীকার করেন না। ভাড়ানৈরাজ্য রোধে আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, বাড়িভাড়া বাবদ ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না। বাস্তবতা ভিন্ন। কোথাও কোথাও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মহাখালী ও মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের বাসাভাড়া বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মহাখালী এলাকার চেয়ে মিরপুর এলাকার বাসাভাড়া কিছুটা কম। মহাখালী এলাকায় ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করতে অধিকাংশ মালিককে ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। এর বাইরে বিদ্যুৎবিল ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা, গ্যাসবিল ১০৮০ ও পানির বিল ১০০০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৩ রুম ও এক ড্রইংরুমের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া ২১ হাজার থেকে ২৩ হাজার ৭০০ টাকা। ইউটিলিটি বিলসহ মিরপুর এলাকায় ফ্ল্যাট বেশ কম ভাড়ায় পান ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা।
মিরপুরে মহাখালীর চিত্র নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। মিরপুর ১০ নম্বর আবাসিক এলাকার ৬ তলা নয়ন ভিলার ৪ তলায় ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা থাকেন। সি ব্লকের ৩ রুমের ফ্ল্যাটটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সিটপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ২৪ হাজার টাকা আদায় করছে তৃতীয় পক্ষ। অথচ মালিক বাড়িভাড়া পান ১৭ হাজার টাকা।
ব্যাচেলর মেসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের বিষয়ে বাড়ির মালিকরা বলেন, ঢাকায় বাড়ির মালিক হওয়া যেমন ভাগ্যের তেমনি ভোগান্তিরও। নানা ঝামেলার মুখে পড়তে হয়। মালিকরাই কেবল তা টের পান। তবে অধিকাংশ মালিক বাড়িভাড়ার ব্যাপারে মধ্যস্বত্বভোগীদের বিষয়ে জানেন না।
মিরপুর ১০ নম্বর আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সরদার আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি একটি নির্ধারিত হারে বাসাভাড়া দিয়েছি। যার কাছে ভাড়া নিয়ে চুক্তি হয়েছে কেবল তার সঙ্গে আমার লেনদেন হয়। তবে যাকে ভাড়া দিয়েছি তিনি বা ওই ফ্ল্যাটে থাকা কোনো ভাড়াটিয়া আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে অভিযোগ দেননি। যাকে ভাড়া দিয়েছি তিনি অন্য কাউকে ভাড়া দিয়ে অপরাধ না করলে আমার আপত্তি নেই। আমি নির্ধারিত ভাড়া পেলেই খুশি।’
মহাখালী ওয়্যারলেস গেটের ‘ছ’ ব্লকের বাড়ির মালিক মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে প্রায় একই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয় আমাদের নজরে আসেনি। যে ছেলেটি ভাড়া নিচ্ছে তার পক্ষ থেকেই ভাড়ার বা অন্যান্য অনুষঙ্গিক বিষয়ে আমাদের যোগাযোগ হয়। বাড়িওয়ালা হিসেবে আমরা সব সময় চাই, বাসাভাড়া দেওয়ার পরে যেন কোনো ঝামেলা না হয়। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের অভিযোগ জানাননি। জানালে সমাধানের পথে হাঁটতে পারি। আমরা চাই না কেউ জুলুমের শিকার হোক।’
ভাড়াটিয়া ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. আশরাফ আলী হাওলাদার বলেন, ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ অনুযায়ী এটি একেবারে নিষিদ্ধ। কেউ করে থাকলে তা অবৈধ। বাড়ির মালিক যেমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারেন না ভাড়াটিয়াও তেমন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতে পারেন না।’
তিনি বলেন, ‘মেসবাণিজ্যের বিষয়টি আমরা শুনিনি। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা তা নিয়ে কথা বলতে পারি। বাড়ির মালিকদের সতর্ক হতে হবে। নাহলে এই ‘তৃতীয় পক্ষ’ থেকে শিক্ষার্থী ও ব্যাচেলররা রেহাই পাবেন না।’
বাংলাদেশের লোকসাহিত্য আয়নার মতো স্বচ্ছ। এতে প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের আশা-আকাক্সক্ষা, ধ্যান-ধারণা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, বিভিন্ন আচার, অনুষ্ঠান ও ধাঁধা। যাতে বিধৃত হয়েছে সামগ্রিকভাবে লোকায়ত বাংলাদেশের মানস চিত্র।
লোকসাহিত্যে ধাঁধা বহু প্রাচীন। নৃ-তাত্ত্বিকদের মতে, আদিম অধিবাসী থেকে শুরু করে বর্তমান শতাব্দী পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধাঁধার প্রচলন আছে। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধাঁধার বিকাশ ঘটেছে মঙ্গলকাব্যের ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে তার ভিন্নতা দেখা যায়। লোকসাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ধাঁধা সে অঞ্চলের সজীব প্রাণের সরল ও জীবন্ত উৎস।
নোয়াখালী অঞ্চলের হাটঘাট, প্রান্তর, আর গ্রামগঞ্জ ভরে আছে লোকসাহিত্যের নানা ধাঁধায়। এ অঞ্চলের মানুষের মনে আজও কচিৎ-কদাচিৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মতো এসব ধাঁধা জ্বলে ওঠে। কোনো বিবাহ অনুষ্ঠানে, গ্রামীণ বৈঠক আর মজলিসে মানুষের মুখে শোনা যায়। নোয়াখালীর গ্রামের মানুষ আজও ধাঁধার মাধ্যমে তাদের অঞ্চলের সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখেছে, বিস্মৃতির অতলে ডুবিয়ে দেয়নি।
নোয়াখালী অঞ্চলের ধাঁধা বাংলা লোকসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। এর স্বাধীন সত্তাটি লোকশ্রুতিবিদের কাছে স্বীকৃত। এ অঞ্চলের ধাঁধা সরস, অন্তর্নিহিত পরিচয় অপ্রত্যক্ষ হলেও বুদ্ধিগম্য। স্থানীয় ভাষায় বলেÑ শোল্লক।
‘বসলে চন্দ ছেঁচলে কড়ি।
এই শোল্লকগা ভাঙ্গাই দিতে
দোয়াদশ ঘড়ি।’
এর মানে হলো মরিচ।
ওই অঞ্চলের আরেকটি বহুপ্রচলিত ধাঁধা
‘জল কুমকুম হানিত ভাসে।
আড্ডি নাই তার মাংস আছে।’
এই ধাঁধাটির উত্তর হলো জোঁক।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ অঞ্চলের ধাঁধার সন্ধান মেলে আনুষ্ঠানিক ধাঁধা জিজ্ঞাসার আদলে। যেমন :
‘গাছ গা কালা ফুল গা ধলা
গাছের নাম রক্তমালা’
এর মানে হলো মোস্তাক (পাটিবেত)।
নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত ধাঁধার শব্দপ্রয়োগ, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, রূপক ও চরণ বিন্যাসে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন :
‘ওরে ভাই চুড়িয়াক মনা,
গাছের আগায় হৈল হোনা।’
এই ধাঁধার অর্থ হলো খেজুর।
ফেনী থেকে সংগৃহীত একটি ধাঁধা আছে :
‘এক বৈরাগীর এগার ছেলে
চার ছেলে তার কাতুর কুতুর
চার ছেলে তার ঘি মধুর
দুই ছেলে তার সেগুন কাঠ
এক ছেলে তার পাগল নাথ।’
এর ধাঁধায় বোঝাচ্ছে গাই বা গাভী
প্রচলিত কতকগুলো ধাঁধার মধ্যে প্রচ্ছন্ন গল্প লুকিয়ে থাকে। বাস্তব উপলব্ধি, পরিবেশ ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে লতিয়ে উঠেছে এসব ধাঁধা। এর গল্পের ভেতর একদিকে যেমন থাকে লুকানো সংস্কার, রসিকতা, তেমনি থাকে বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার মারপ্যাঁচ। এই দুইয়ে মিলে প্রত্যেকটি গল্পমূলক ধাঁধাই স্বকীয়তায় উজ্জ্বল আর হাস্যরসিকতায় ভরপুর। যেমন : এ অঞ্চলে প্রচলিত গোঁসা গানের মধ্যে কিছু শোল্লক প্রতিপক্ষের সামনে উত্তরের জন্য হাজির করা হয়। সে রকম একটি ধাঁধা
‘উরু উরু বুরু বুরু রমণী দেখায় না তার উরু
রমণী দেখায় না তার লজ্জার কারণ!
রমণীরে দেখে সে করিল গ্রহণ।
রমণীকে ধরে যে করল লন্ড ভন্ড ।
তাহা হতে মুক্তি পেতে লাগে দোয়াদশ দন্ড।’
এই ধাঁধার উত্তর হলো বাডিয়া, নিলুজী, চোরকাঁটা বা প্রেমকাঁটা।
এভাবে নিসর্গ, জীবজন্তু, নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রভৃতি জানা বস্তুকে অজানার মতো করে উপস্থাপিত অনেক শোল্লক আজও টিকে আছে।
ধাঁধার কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। ধাঁধা কখনো গদ্য, অমিত্রাক্ষর পদ্য বা যেকোনো রূপেই ধাঁধা রচিত হতে পারে। ধাঁধার বিষয়বস্তু প্রাকৃতিক, গার্হস্থ্য ও জীবনের ব্যবহারিক দিককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে। তবে ধাঁধার সবচেয়ে বড় কথা হলো ধাঁধার প্রচ্ছন্ন ভাব, ইঙ্গিত ও রসোজ্জ্বল চিত্র। এসবই ধাঁধার প্রাণ। ধাঁধার চিত্রধর্মীগুণই ধাঁধাকে সব সমাজে সবকালে আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক করে তোলে।
নোয়াখালী অঞ্চলের সব ধাঁধায় এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যাতে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের কথা মনে করতে পারি।
গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভাঙচুর ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌরশহরের মাওনা চৌরাস্তা ও মাওনা বাজার আঞ্চলিক সড়কের প্রশিকা মোড়ের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় এ গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।
এদিকে বুধবার রাতে মাওনার গোলাগুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল দুপুরে দুজনকে আটক করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা-পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে মাওনা চৌরাস্তা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন মো. হৃদয় শেখ (২৩)। সে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়লের অনুসারী। অন্যদিকে আটক শিহাব হাসান (২৫) ছাত্রলীগ কর্মী ও আজিজুর রহমান জনের অনুসারী।
এ ঘটনায় বিকেলে দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল ও স্বঘোষিত জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য আজিজুর রহমান জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এর জের ধরেই এ গুলির ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য (স্বঘোষিত) আজিজুর রহমান জন তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে। এ সময় তার সঙ্গে অস্ত্রধারী বেশ কজন অনুসারীও ছিল। তখন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল তার অনুসারীসহ যুবলীগ নেতা জনের বাসার সামনে তাদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জনের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। মধ্যরাতে এমন মুহুর্মুহু গুলির শব্দে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ এ সড়কে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে থাকে। তারা আরও জানান, কোনো একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে আজিজুর রহমান জনের লোকজন আচমকা গুলি ছোড়তে থাকে। এ সময় বেশ কটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে উচ্চশব্দে হর্ন বাজিয়ে এসে তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ির কাছে থামে। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই গাড়িগুলোতে আচমকা ভাঙচুর চালায়। এরপর সেখানে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে মোটরসাইকেল ও গাড়ি ভাঙচুর।
আজিজুর রহমান জন দাবি করেন, ‘আমি আমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমার লোকজন নিয়ে। এ সময় গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল ও তার অনুসারীরা এসে আচমকা এ হামলা চালায় আমাদের ওপর। এ সময় হামলাকারীরা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমার অনুসারী আল আমিন ও মইনুল আহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া ও বিভিন্ন সময় দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা করেছে নাছির মোড়লের লোকজন।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আজিজুর রহমান জনের লোকজন সন্ধ্যারাতে আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরে রাতে এ বিষয়ে জানতে তার বাড়ির সামনে গেলে তার লোকজন আচমকা আমাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাদের লোকজনই নিজেদের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে ষড়যন্ত্র করছে আমাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
ঘটনাস্থলে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আজিজুর রহমান জন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। সে নিজেকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য দাবি করে আধিপত্য বজায় রাখে। সে ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলে এলাকায়। এ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তারা আরও বলেন, সে সময় আজিজুর রহমান জনের একান্ত অনুসারী রুবেল, আল আমীন, শিহাব, কাইয়ুম অন্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়েছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ফুটেজে স্পষ্ট চেহারা বোঝা যাচ্ছে ওদের। এমন স্পষ্ট ভিডিও থাকার পরও তারা ঘটনা অস্বীকার করছে। পুলিশ ভিডিও বিশ্লেষণ করলেই সব বের হয়ে আসবে।
শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কমর উদ্দিন জানান, আজিজুর রহমান জন যুবলীগের কোনো পদে নেই। সে নিজেকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে এলাকায় প্রচার করে তার আধিপত্য বিস্তারের জন্য। জেলা যুবলীগের পাঁচজন আহ্বায়ক সদস্য আছেন, তাদের আমি ভালো করে চিনি। জন নানা অপরাধ কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ কৌশল অবলম্বন করে যুবলীগের পরিচয় দিয়ে চলে। এ ঘটনায় জড়িত দুজনই সংসদ সদস্যের একনিষ্ঠ অনুসারী বলে এলাকায় বেশ পরিচিত।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যেই এ হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্লেষণ করছি ফুটেজ। সেখানে গোলাগুলির বিষয়টি আরও তদন্ত করে বলা যাবে।’
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার সদ্য বিদায়ী ওসি রাকিবুল ইসলাম খান সরকারি অর্থে স্থাপিত যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) খুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বরাদ্দ এসেছিল গ্রামীণ আবকাঠামো উন্নয়নের (টিআর) বরাদ্দ থেকে। গতকাল হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ দেশ রূপান্তরকে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। টিআরের টাকায় এসব দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই স্বীকার করে তিনি বলেছেন, ওসি আবদার করেছিলেন বলেই তিনি এসি কেনার টাকা দিয়েছিলেন। এসি খুলে নিয়ে ওসি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।
ওসি রাকিবুল ইসলাম খান বদলি হওযার পর এসি খুলে নিয়ে যাওয়ার খবর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরে প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। টিআর এর অর্থ থানায় এসি কেনার জন্য এমপি বরাদ্দ দিতে পারেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল এমপিকে প্রশ্ন করা হলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওসি সাহেব আবদার করেছিলেন বলে বাহুবল থানায় দুটি এসি দিয়েছিলাম। একটি ওসি অপরটি এএসপি (সার্কেল) অফিসে ব্যবহার করবেন। মনে করেছিলাম অফিসে বসে আরামে কাজ করবেন।’
টিআরের টাকায় এসব দেওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন ওসি আবদার করলে তো না বলতে পারি না। তবে টিআরের টাকায় এসব দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিআর কর্মসূচির আওতায় ১৯টি কাজে অর্থ ব্যয় করা যাবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, গ্রামীণ রাস্তা, বাঁধ, খাল, নালা সংস্কার ও সংরক্ষণ, বাঁশ বা কাঠের সাঁকো নির্মাণ, স্বল্প খরচে সাইক্লোন সহনীয় গৃহ নির্মাণ, মসজিদ, মন্দির, উপসনালয়ের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারের উন্নয়ন বা সংস্কারের মতো কয়েকটি খাত।
বাহুবল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন বলেন, প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ সংসদ সদস্য দিয়ে থাকেন। এগুলো জেলা থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর বাস্তবায়ন করা হয়। টিআর নীতিমালায় যাই থাকুক কোনটি অনুমোদন দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু করার থাকে না।
তিনি জানান, তার যোগদানের আগে বাহুবল থানায় এসি স্থাপন করা হয়েছে। তার প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন বাহুবল সদর ইউপি মেম্বার সামায়ুন কবীর চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ইত্যাদি গ্রামের সাধারণ মানুষের উপকারের জন্য। অথচ জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থের জন্য তা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছেন। বিষয়টি ভাবতেই কষ্ট হয়। পুলিশ প্রশাসনও বিলাসিতার জন্য এ ধরনের আবদার কীভাবে করে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টির ভালো তদন্ত হওয়া উচিত।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, টিআরের অর্থ দিয়ে বাহুবল থানায় এসি দিয়ে আইনত ঠিক করেননি এমপি মহোদয়।
বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খয়ের বলেন, এমপি সাহেব বাহুবল থানায় দুটি এসি দিয়েছিলেন। এর একটি আমার সরকারি কোয়ার্টারে আছে। ওসি সাহেব রুমে লাগানোর এনটাইটেল নেই। তাই সেটিও তার বাসায় লাগিয়েছিলেন। এখন কোথায় আছে জানি না। আর এমপি সাহেব সরকারি না ব্যক্তিগত অর্থে দিয়েছেন সেটা আমার জানা নেই।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে উত্ত্যক্ত করার পর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীর নাম আলিফা খানম জুঁই। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের মটরা সাহাপাড়া এলাকায় বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে গ্রামের আসাদুজ্জামানের মেয়ে ও উপজেলার লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জানা যায়, উপজেলার লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফা খানম জুঁইকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বাঁধন নামে এক বখাটে। সম্প্রতি উত্ত্যক্তের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে অ্যাসিড দিয়ে মুখ জলসে দেওয়ার হুমকি দেয় বাঁধন। এ নিয়ে গত বুধবার বিকেলে বাঁধনসহ তার পরিবার এবং ওই ছাত্রীসহ তার পরিবারকে ডেকে নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে ফেরার পরপরই ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ওই ছাত্রীকে।
ওই ছাত্রীর মা রূপা বেগম বলেন, ‘আমি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকি। আমার মেয়ে গ্রামে তার দাদা-দাদির সঙ্গে থেকে লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে বখাটে বাঁধন জ্বালাতন করে আসছিল। বিদ্যালয়ের সালিশে আমার মেয়ের ওপরেও দোষ চাপানো হয়। সালিশ থেকে ফিরে মনের কষ্টে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষক ও দুই পরিবারের লোকজন নিয়ে বসেছিলাম। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল আমরা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঁধনের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বাসাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই বেদনাদায়ক। খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে বখাটে বাঁধনের উত্ত্যক্তের বিষয়টি উঠে এসেছে।’
বাসাইল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু বখাটে বাঁধন নয়, শিক্ষকদেরও দোষ রয়েছে।’
দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকার অভিযোগে কিছু ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়ে বলা হয়, তারা সরকারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগের সদস্য এবং নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য।
যাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে, সেসব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যরা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সেখানে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে আরও কোনো ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষুন্ন করা বা এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তারাও একই ভিসানীতির আওতায় পড়তে পারেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমাদের আজকের পদক্ষেপ বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ যারা সারা বিশ্বে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চান তাদের প্রতিও সমর্থন।’
সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে। ওই সময় দেওয়া বিবৃতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাধা হওয়া ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা এ নীতির আওতায় পড়বে বলে জানানো হয়েছিল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তিন মাস আগে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ শুরুর কথা জানাল।
ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বাংলাদেশের কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এ ভিসানীতি ঘোষণা করেছি, তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘটনাবলির ওপর গভীর দৃষ্টি রাখছে। সতর্কতার সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আমরা এসব ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি।’
ব্রায়ান শিলারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের নাম যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ করবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এসব ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় আসা ব্যক্তিদের নাম আমরা প্রকাশ করব না।’ কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ভিসা রেকর্ড গোপনীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকাদের সঠিক সংখ্যা না জানালেও এটি খুব বড় নয় বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় তার সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা। এ সময় শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটার বিষয়ে দুদিন আগেই জানিয়েছিল। এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তারা কথা বলেছে। আমাদের সংখ্যা সম্বন্ধে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। তারা যদি না বলেন, মার্কিন দূতাবাস হয়তো বলতে পারবে। তবে সংখ্যাটি বড় নয়, ছোট এটা বলতে পারি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আমরা আশা করব সেটা সঠিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই নেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকারের কেউ এটার আওতায় পড়লে আমরা এটা জানব। এতে সরকারের কাজে সমস্যা তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলব। এর আগেও, অন্তত তিনজনের বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। আমরা সাকসেসফুল হয়েছি। কাজেই এ নীতির ফলে কার্যক্রমে সমস্যা হলে, সেগুলো আমরা জানলে, সেটা নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না, এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি না যে নির্বাচনের আগে আর কোনো ধরনের বিবৃতিও আপনারা দেখতে পাবেন। কারণ, আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, এ সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর) সময়ে এই ধরনের পদক্ষেপ বা বিবৃতি ইন্টারফারেন্স (হস্তক্ষেপ) হিসেবে মনে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র না চাইলেও বাংলাদেশে ভোটের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলবে সে বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান শাহরিয়ার আলম। এরপর এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কয়েকজন কর্মকর্তা ও র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের গতকালের বিবৃতি সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করল। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিঠি দিয়ে নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি রয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন বাধাগ্রস্তের বিষয়ে যে কথা বলেছে, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তাদের এখতিয়ারের ব্যাপার। এটাকে খারাপ বা ভালো হিসেবে নেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই।’
ভিসানীতি প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে যেহেতু সরকারি দল, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিরোধী দল রয়েছে, তাই শুধু আমরা চাপ অনুভব করব কেন? আর এখানে চাপ অনুভব করার কারণ নেই। তারা যদি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ নীতিমালা প্রয়োগ করতে চায় বা করে, তাদের চাওয়া এবং আমাদের চাওয়ার মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই। কারণ আমরা তো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘আমেরিকা যেমন স্যাংশন দিতে পারে, চাইলে আমরাও তো দিতে পারি। নির্বাচনে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাতে আওয়ামী লীগের বা সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমেরিকা চায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরাও তাই চাই।’
ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না কোনো চাপ আমাদের ওপর আছে। কারণ আমাদের একটাই কথা আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আমরা সেটাই করব।’
শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘আমি মনে করি এমন ভিসানীতি তারা যদি ২০১৪ ও ’১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে দিত, তাহলে বিএনপি দেশজুড়ে জ¦ালাও-পোড়াও করতে পারত না। করতে ভয় পেত।’
বিএনপি নেতারা বলেছেন, তারা সবসময় সরকারকে সতর্ক করে আসছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু সরকার তাতে গুরুত্ব না দিয়ে আবারও একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে। তার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধুই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কার কার বিরুদ্ধে দিয়েছে, সে বিষয়টি তারা স্পষ্ট করেনি। খোঁজখবর নিয়ে পরে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাব।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রয়েছে বলে শুনেছি। চলতি মাসে আরও নাম আসবে বলে শুনতে পাচ্ছি।’
বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যতদূর জানতে পেরেছি ভিসা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দল।’
যে শহরে উপমহাদেশের প্রথম টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ কার্যক্রম হয়, সেই শহরে ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটিরও প্রধান কার্যালয় নেই। বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য ব্যবসায়ীদের ঢাকায় দৌড়াতে হয়। সে কারণে একসময় অনেক বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকলেও এখন আর নেই। বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও বন্দরনগরী ক্রমেই জৌলুস হারাচ্ছে। যদিও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার কথা হয়েছিল।
সাগর-নদী-পাহাড়ের চট্টগ্রাম শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে কি, নালায় পড়ে মারা যায় মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টি ছাড়াও নালা আটকে গুরুত্বপূর্ণ জিইসি মোড়ে দুদিন রাস্তায় পানি জমে থাকে। পাহাড় কাটা, সবুজ বিনাশ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম যেমন প্রাকৃতিকভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে, তেমনিভাবে অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি জেরিনা হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছার অভাব কিংবা তাদের অবহেলাও হতে পারে। এ শহরের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। একটি শহরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলো দিন দিন তলানিতে চলে যাচ্ছে। আমাদের কর্তৃপক্ষগুলো চেয়ারে বসে কিছুই করতে পারছে না। অপরিকল্পিত উন্নয়নের বলি হচ্ছে চট্টগ্রাম।’
জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০ হাজার ৮০২ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্প চলমান থাকলেও বৃষ্টি হলেই কেন নগরবাসীকে ডুবতে হবে? এ তিন প্রকল্পের মধ্যে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হওয়ার পরও জলাবদ্ধতার তেমন কোনো উন্নতি নেই। এখন প্রশ্ন উঠছে সমন্বয়হীনতার কথা। এ সমন্বয় কে করবে?
জিইসি মোড় বর্তমানে চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি। এ মোড়েই গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর টানা দুদিন পানি জমা ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই এ শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যায়, অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিন পানিবন্দি থাকে মানুষ। চলতি বছর একাধিকবার ডুবেছে নগরী।
পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থাকায় প্রতি বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটছে। গত কয়েক বছরে ছয়জনের প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে নালা ও খালে পড়ে। এসব সমস্যা কে সমাধান করবে তা নিয়ে নগরীর দুই প্রধান সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একে অন্যকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত।
পরিবেশকর্মী শরীফ চৌহান বলেন, ‘এ শহরের পাহাড় কাটা বন্ধ করা গেলে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন অটুট থাকবে, তেমনিভাবে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগও কমে আসবে। কারণ পাহাড় কাটা মাটি নালা ও খালে গিয়ে তা ভরাট করে ফেলছে। ভরাট হয়ে যাচ্ছে কর্ণফুলী নদী। ফলে পানি নামতে পারছে না।’
কিন্তু পাহাড় কাটা তো বন্ধ হয় না, গত ৪০ বছরে সাবাড় হয়েছে ১২০টি পাহাড়। এর মধ্যে সিডিএ নিজেই কেটেছে ১৬টি পাহাড়।
চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলকে ব্যবহার করে গড়ে উঠেছিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। কিন্তু জাহাজ কাটতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি অর্থেরও অপচয় হয়ে থাকে। যত আগে জাহাজ কাটা যায়, অর্থনৈতিকভাবে ততই লাভবান হওয়া যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এবং পিএইচপি রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিংকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৮ সালের শিপ রি সাইক্লিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড চট্টগ্রামে হওয়ার কথা। আর এটা হলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এ বোর্ডে থাকবেন। তখন আর অনুমোদনের জন্য ঢাকায় বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।’
শুধু শিপ রি সাইক্লিং ক্ষেত্রই নয়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কাস্টমসের বিভিন্ন কায়িক পরীক্ষা, বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা ঢাকা থেকে করাতে হয়। এ বিষয়ে চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক এবং নাহার অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক হাব হলেও সবকিছু অনুমোদন ঢাকা থেকে নিতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাংকিং লেনদেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব ব্যাংকের সদর দপ্তর ঢাকায়। যথারীতি অবহেলিত চট্টগ্রাম।’
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিল্পকারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাকে বারবার ঢাকায় যেতে হয়। ব্যাংকঋণ থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুমোদনের জন্য ব্যবসায়ীদের এ দৌড় এখনো থামেনি। একটিরও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নেই। একসময় পূবালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকলেও এখন নেই। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকের প্রথম শাখাও ছিল চট্টগ্রামে। বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রথম শাখা ছিল চট্টগ্রামে। বহুজাতিক কোম্পানি ইস্পাহানি গ্রুপ কলকাতা থেকে প্রথম চট্টগ্রামেই তাদের ব্যবসা স্থানান্তর করেছিল। বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বার্জার, ডানকান ব্রাদার্সসহ অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ছিল চট্টগ্রামে। শুধু বহুজাতিক কোম্পানি নয়, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামের সিআরবিতে। এখন পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান অফিস চট্টগ্রামে থাকলেও রেলওয়ের প্রধান অফিস ঢাকায়। অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি সবদিক দিয়েই পিছিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম।
দেশে পোশাক খাতের যাত্রা এ চট্টগ্রামের কালুরঘাটের দেশ গার্মেন্টসের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবের কারণে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা এখন ঢাকাকেন্দ্রিক। এ ছাড়া রড তৈরির প্রথম কারখানাও ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামে হয়েছিল। ঢেউটিন তৈরির জন্য কোল্ড রোল মিলস, বিলেটসহ ইস্পাত কারখানা চিটাগং স্টিল মিলস ছিল চট্টগ্রামেই। মোটরগাড়ি, ফ্রিজ, পেপার মিলস অনেক কারখানার গোড়াপত্তন চট্টগ্রাম থেকে হলেও এখন সেই সুদিন আর নেই।
সম্ভাবনার চট্টগ্রাম : ৩০ হাজার একর জায়গায় গড়ে উঠছে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। এখানে প্রায় ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। জাপান ও চীনের সরাসরি বিনিয়োগ থাকছে এ শিল্পনগরে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর দেশের আগামীর অর্থনীতির ভিত্তি। এখানে চীন ও জাপান সরাসরি বিনিয়োগ করছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশও এগিয়ে আসছে। চালু হচ্ছে কর্ণফুলীর নিচ দিয়ে টানেল। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
চট্টগ্রামকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক কর্মকা- হচ্ছে, এতে বিনিয়োগকারীদের চট্টগ্রামে আসতেই হবে। এখন আমাদের প্রয়োজন কানেকটিভিটি বাড়ানো।’
একই মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিরসরাইয়ে যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হচ্ছে এর সঙ্গে সাগরের পাড় ঘেঁষে টানেল হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে চট্টগ্রামের কার্যকারিতা বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম, আনোয়ারা, মহেশখালী ও কক্সবাজার ঘিরে যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেগুলো চালু হলে চট্টগ্রামই হবে দেশের আগামীর অর্থনীতির ভিত্তি।’
আকাশপথে পিছিয়ে চট্টগ্রাম : দেশের দ্বিতীয় প্রধান নগরী চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর থাকলেও চট্টগ্রাম থেকে মাত্র সাতটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে। এর মধ্যে কলকাতা ছাড়া বাকি সব গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। কিন্তু আগে এখান থেকে ভারতের একাধিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট ছিল। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ব্যাংকক রুটেও ফ্লাইট চলাচল করত। বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইট কমে যাওয়ায় ঢাকা হয়েই চট্টগ্রামে আসতে হয় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের। আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ছাড়া অভ্যন্তরীণ অন্য রুটেও যাতায়াত করা যায় না। এতে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। দেশের দ্বিতীয় প্রধান নগরী হলেও একমাত্র র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ ছাড়া অন্য কোনো পাঁচতারকা হোটেল নেই এ শহরে।
চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। কানেকটিভিটি না বাড়ালে বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা সহজে আসা-যাওয়া করতে পারবে না। বিশেষ করে জাপান ও চীনের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর এতেই বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগ দেখা যাচ্ছে।’
আগামী ২৮ অক্টোবর উপমহাদেশের প্রথম টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে চালু হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু টানেলকে কেন্দ্র করে নদীর ওপারকে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘আমরা নদীর ওপারকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করছি। এজন্য ওই এলাকায় ডিটেইল সার্ভে করা হয়েছে। আবাসন, বাণিজ্যিক ও শিল্পায়নের হাবও করা যায় কি না, সেটাও বিবেচনা করছি।’
দেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম নামের আগে নানা বিশেষণ জুড়ে দেওয়া হয়। বলা হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, দেশের অর্থনীতির সিংহদ্বার, প্রাচ্যের সৌন্দর্যের রানী, বাণিজ্যিক রাজধানী ইত্যাদি। নদী-পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত এবং প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর চট্টগ্রাম পর্যটন ও শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের সবার কাছেই দারুণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এ চট্টগ্রামেই। তাই চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে দেশের আগামীর অর্থনীতির ভিত্তি, এটাই আশা করে চট্টগ্রামের মানুষ।
রান্না সুস্বাদু করে তুলতে লবণ হল অপরিহার্য উপাদান। তবে খাবারে লবণের পরিমাণটাও সঠিক হওয়া অনেক জরুরি। একটু এদিক-সেদিক হলেই অনেক স্বাধের রান্না বিফলে যায়।
তবে অনেক সময়ে দেখা যায় মাংস রান্নায় পরিমাণে বেশি লবণ পড়ে যায় বেকায়দায়। পরবর্তীতে স্বাধের মাংসটা নোনতা বা তেতো হয়ে যায়, দেখা যায় যে খাবারটা খাওয়ারই উপযোগী থাকে না। তবে রান্নায় লবণ কমানোর কয়েকটি কৌশল জেনে নিলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক মাংস রান্নায় লবণ কমানোর কয়েকটি পদ্ধতি,
একটি পেঁয়াজ খোসা ছাড়িয়ে কেটে দুই টুকরা করে নিন। তারপর সেগুলি রান্নায় দিয়ে দিন। পেঁয়াজ রান্নার অতিরিক্ত লবণ টেনে নেবে। অবশ্য ভাজা পেঁয়াজও ব্যবহার করতে পারেন। তাতে রান্না সুস্বাদু হবে।
বাড়িতে টক দই থাকলে রান্নায় লবণ বেশি পড়ে গেলেও চিন্তা নেই। একটি ছোট্ট পাত্রে দই ভাল করে ফেটিয়ে নিন। তার পর সেটা রান্নায় দিয়ে দিন। রান্নার নোনতা স্বাদ কেটে যাবে। ঝোলেও অন্য রকম স্বাদ আসবে।
রান্নায় বেশি লবণ হয়ে গেলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং চিনি এবং সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে নিন। লেবুর রসও দিতে পারেন ভিনিগারের বদলে। এগুলো খাবারের নোনতা ভাব কাটাতে সাহায্য করে।
মাংসের পাতলা ঝোল রেঁধেছেন, কিন্তু লবণ বেশি পড়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে লবণ বেশি হলে একটি সহজ উপায় রয়েছে। কিছু আলুর খোসা অথবা বড় বড় আলুর টুকরা রান্নায় দিয়ে দিন। নিমেষে সব বাড়তি লবণ টেনে নেবে। স্বাদ স্বাভাবিক হয়ে গেলে আলুর খোসাগুলো তুলে ফেলে দিন।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ শুরু
দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকার অভিযোগে কিছু ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়ে বলা হয়, তারা সরকারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগের সদস্য এবং নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য।
অতীত বঞ্চনার আগামী সম্ভাবনার
যে শহরে উপমহাদেশের প্রথম টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ কার্যক্রম হয়, সেই শহরে ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটিরও প্রধান কার্যালয় নেই। বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য ব্যবসায়ীদের ঢাকায় দৌড়াতে হয়। সে কারণে একসময় অনেক বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকলেও এখন আর নেই। বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও বন্দরনগরী ক্রমেই জৌলুস হারাচ্ছে। যদিও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার কথা হয়েছিল।
আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান সবার মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। সবাইকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান ও সুবিচার নিশ্চিতকরণে গত এক দশকে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে, জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় আমরা সম্পূর্ণরূপে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আমরা সারা বিশ্বের আপামর জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণে অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আজ এ অধিবেশনে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করতে চাই যে, বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যাব।
এত খরচ তবু কেন ডুবছে ঢাকা
ছুটির দিন তো বটেই, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অন্যান্য দিনেও থাকে মানুষের ভিড়। তবে গতকাল শুক্রবার ক্রেতা-বিক্রেতার বদলে সেখানে ছিল হাঁটুপানি। আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা গতকালও ভুগিয়েছে রাজধানীবাসীকে। বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক-গলিতে জমে থাকা পানি নামেনি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কুইক রেসপন্স টিম জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করলেও গতকাল বিকেলে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় মূল সড়কে হাঁটুসমান বা তার চেয়েও বেশি পানি দেখা গেছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকাসহ নিচু এলাকার অলিগলি এবং ঘরের ভেতরেও পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।
বাবা-মা-বোনকে হারিয়ে বেঁচে আছে ৭ মাসের শিশু
রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ সড়কের ফুটপাত ধরে বাসার পথে হেঁটে যাচ্ছিল এক পরিবারের তিন সদস্য। তাদের সঙ্গে ছিল পরিবারটির আরেক সদস্য সাত মাস বয়সী শিশু হোসাইন। কিন্তু বিদ্যুতের ছেঁড়া তার পড়েছিল ওই পথে। সেখানে আচমকাই বিদ্যুতায়িত হন তারা। এ সময় তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন এক তরুণ। তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারান। তবে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় সবাইকে অবাক করে প্রাণে বেঁচে গেছে শিশু হোসাইন। জানা গেছে, বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর হোসাইনের মা যখন পানিতে পড়ে যান তখন হোসাইন মায়ের কোল থেকে ছিটকে কিছুটা দূরে পড়ে যায়। তা দেখে তাদের সাহায্য করতে আসা ওই তরুণ হোসাইনকে উদ্ধার করে এক নারীর কাছে রেখে আবার এগিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান।
আইন-সন্দেহে আটকা বিদেশযাত্রা
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দাবি করে আসছে দলটি। সেই সঙ্গে তার চিকিৎসায় গঠিত দলীয় চিকিৎসকদের বোর্ডও দাবি করছে, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা বিদেশে ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু তার বিদেশযাত্রা আটকে আছে আইনের প্যাঁচে। আবার ক্ষমতাসীন দলও মনে করছে, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি নেত্রীকে বিদেশ যেতে দিলে সেখানে বসেই তিনি সরকারবিরোধী রাজনীতি করবেন। তাই যত ঝুঁকিই থাকুক, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় না সরকার।
সাহিত্যের ছাত্রের প্রযুক্তিতে মন
পড়াশোনা বাংলা সাহিত্যে, কিন্তু প্রযুক্তির প্রতি অসম্ভব টান। কম্পিউটারে বাংলায় লিখতে বিজয় বাংলা কি-বোর্ড ও সফটওয়্যার তৈরি করেছেন তিনি। ইন্টারনেটে সহজে বাংলা লেখার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা, কর্মসূচির প্রকাশ এবং এই ধারণা কার্যকর করায় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি হলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম এই কারিগর। তার উদ্ভাবিত বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা আন্তর্জাতিক উইটসা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক লেখক, কলামিস্ট ও সমাজকর্মী মোস্তাফা জব্বার ২৯টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।
নদী ছিল দুই সেতুই সাক্ষী
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হরি নদীতে পলি পড়ে এখন মৃতপ্রায়। অথচ ৩০ বছর আগেও এই নদীতে জাহাজ আসত। হামকুড়া নদী নেই। কিন্তু দুটি সেতু এখনো সাক্ষ্য দেয় একসময় নদীটি প্রবহমান ছিল।
শুধু এই দুই নদী নয়, নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব-সংকটের মুখে পড়েছে খুলনার ১২ নদী। আর সেই সঙ্গে দখল ও দূষণে ধুঁকে ধুঁকে মরছে জেলার ৪৮৭টি সরকারি খাল।
নদী-খালের মৃত্যুদশা সামান্য বর্ষায় ডেকে আনছে জলাবদ্ধতা। তলিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও ঘরবাড়ি। চরম ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। ক্ষতির মুখে পড়ছে ফসলি জমি ও মৎস্যঘের।
আক্রান্ত সুমি দেখল মায়াহীন বাস্তব
‘মালিকের বাসায় কাজ করতাম। যখন যে কাজ বলত তা-ই করতে হতো। ওই বাসার কেউ আমাকে আদর করত না। কোনো ভুল করলেই ম্যাডাম আমাকে গালাগালি করত। একদিন রাতে ঠান্ডা লাগে। তারপর জ¦র আসলে একজনকে দিয়ে আমাকে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এখানে আমাকে যে নিয়ে আসছিল, তাকে আর পাইনি। আমার খুব ভয় লাগছিল, হাসপাতালে একা একা প্রতিদিন কান্নাকাটি করতাম। আম্মারে কেউ জানায়নি।’ রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১০ বছরের সুমি এভাবেই বলছিল তার দুর্দশার কথা।
জব্দ ৪৬ খন্ড রেলপাত উধাও
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেল পুলিশ ও রেল নিরাপত্তা বাহিনীর জব্দ করা ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেললাইন পথের প্রতিটি ৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে ৪৬টি রেলপাত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে রেলের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার দুপুরে পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রেলের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. আল আমিন। এ সময় পার্বতীপুরে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের কি-ম্যান, ওয়েম্যান, মেটসহ অর্ধশতাধিক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
বাবার শনাক্তের পরও ছেলের লাশ ‘বেওয়ারিশ’
চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা কারখানার এক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ওই শ্রমিকের বাবা মো. ইউনুচের অভিযোগ, মর্গে গিয়ে শনাক্তের পরও নৌপুলিশ তার ছেলে রাসেলের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছে। ৩ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি ওই শ্রমিকের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরীর চৈতন্যগলি করবস্থানে দাফনও করে ফেলেছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর রাতে সীতাকুণ্ড থানা এলাকার বাড়বকুণ্ড বেড়িবাঁধ থেকে ২৮-৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে কুমিরা নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। পরদিন এই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় ২৯ হাজার ৪৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শনাক্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬১ জনে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময়ে শনাক্তের হার ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। মোট পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৩ হাজার ২৬০ জনে।
শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।
উত্তরাধিকার সূত্রে বা পারিবারিক পরিচয়ে রাজনীতির চর্চা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ উপমহাদেশে। বাবার সূত্রে কিংবা দাদার সূত্রে রাজনীতিতে এসে অনেকে পূর্বসূরিকে ছাড়িয়ে গেছেন। আদর্শের যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। রাজনীতিতে হয়েছেন বটবৃক্ষ। আবার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও উত্তরাধিকার সূত্রে পদ-পদবি পেয়ে যাওয়ার উদাহরণও আছে। যারা এভাবে রাজনীতিতে এসেছেন, তারা কার্যত বনসাই হয়ে আছেন।
দেশের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সব দলেই উত্তরাধিকারের চর্চা রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে এমপি হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান একাদশ সংসদে এ সংখ্যা ৯৮। স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ জাগায় যে, আগামী দ্বাদশ সংসদে এ সংখ্যা কত হবে? যদিও বর্তমান সংসদের ৩৪টি উপনির্বাচনে উত্তরাধিকার সূত্রে এমপি হয়েছেন কমই।
রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের চর্চা যে খারাপ সেটা মোটেও বলা যাবে না। বরং উত্তরাধিকারের কারণে দেশের জন্য, জনগণের জন্য অবদান রাখা ঐতিহ্যবাহী দল আরও শক্তিশালী হওয়ার উজ্জ্বল উদাহরণও আছে। যেমন ভারতের রাজনীতিতে ইন্দিরা গান্ধী। বাবা নেহরু গান্ধীর উত্তরসূরি হলেও নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছেন। তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। টানা তিনবারসহ চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে পঁচাত্তর-পরবর্তী আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ঘটেছে। আরও শক্তিশালী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরেছে।
বিএনপির ক্ষেত্রেও বলা যায়, দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তাদের ছেলে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সংসদের ৩০০ আসনে উত্তরসূরি হিসেবে বা পারিবারিক পরিচয়ে মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি সংরক্ষিত ৫০ আসনেও এই চর্চা আছে। বরং হিসাব করলে বেশিই দেখা যায়।
সব মিলিয়ে একাদশ সংসদেই উত্তরসূরি বা পারিবারিক পরিচয়ে এমপি রয়েছেন শতাধিক। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। পারিবারিক সূত্রে রাজনীতিতে আসা সরকারি দলের এমপির সংখ্যা ৮৬। এর মধ্যে প্রায় ৭০ জনই মাঠের রাজনীতি করে আসেননি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ২৯ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ৭। এ ছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু নিজে ও তার স্ত্রী বেগম আফরোজা হকও এমপি।
একাদশ সংসদে বিএনপির সাতটি আসন ছিল। এর মধ্যে একটি সংরক্ষিত নারী আসন। তাদের মধ্যে রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত আসনে এমপি হন। তার বাবা অলি আহাদ আওয়ামী লীগের প্রথম প্রচার সম্পাদক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলের প্রভাব ধরে রাখতে নেতার পরিবারের সদস্যদের রাজনীতিতে আনা হয়। আবার অনেক সময় যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে না ওঠায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তবে উত্তরাধিকার চর্চার প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এমন চর্চার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়। সংসদে দেখা যায়, অনেকে বক্তব্য দিতে পারেন না। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিও বোঝেন না। আবার জনসমাবেশে অরাজনৈতিক আচরণ করেন, যা সরকার বা দলকে বেকায়দায় ফেলে দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উত্তরাধিকারের রাজনীতি গণতন্ত্র ও আধুনিক রাজনীতির বিরোধী। দলের জন্য ও রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।’ তিনি বলেন, ‘গত ১৫-২০ বছরে এ ধারার রাজনীতির চর্চা বেশি হচ্ছে বলেই দুর্বল হয়েছে রাজনীতি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা বা যোগ্যতা থাকলে এটা গ্রহণ করা যায়। উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদে এত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা অবশ্যই দুশ্চিন্তার। আমি মনে করি, এ সংখ্যা নিয়ে প্রত্যেক দলেরই চিন্তার ব্যাপার আছে। কারণ দাদা, বাবার যোগ্যতায় এসব পদ পেয়ে থাকলে গণতন্ত্র কতটা মজবুত করবে, সেটাও ভাবতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রে উত্তরাধিকারের সুযোগ নেই। আবার এটাকে ধর্মগ্রন্থের বাণী মনে করলেও চলবে না। কারও যদি যোগ্যতা থেকে থাকে, তাহলে বাবা-দাদা থাকলে আসতে পারবেন না সেটাও তো হতে পারে না।’
আওয়ামী লীগের যারা : এমপি ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন পঞ্চগড় থেকে নির্বাচিত। তার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ১৯৭০, ’৭৩, ’৭৯ ও ’৮৬ সালের এমপি। দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বাবা প্রয়াত আবদুর রউফ চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ সালের এমপি ও দলের নেতা ছিলেন। ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা। এ ছাড়া তিনবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
দিনাজপুরের আরেকটি আসন থেকে নির্বাচিত ইকবালুর রহিমের বাবা প্রয়াত আবদুর রহিম। তিনি সত্তরের এমপি ছিলেন। তবে ইকবালুর রহিম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দিনাজপুরের আরেকটি আসনের এমপি শিবলী সাদিক। তার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুও এমপি ছিলেন।
রংপুর-২ আসনের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরীর চাচা আনিসুল হক চৌধুরী এমপি ছিলেন। গাইবান্ধা-২ আসনের মাহাবুব আরা গিনি পারিবারিক বিবেচনায় এমপি হয়েছেন। বগুড়া-১ আসনের সাহাদারা মান্নান প্রয়াত এমপি আবদুল মান্নানের স্ত্রী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ১৯৭৩ সালের এমপি প্রয়াত মইন উদ্দীন আহমদের ছেলে। নওগাঁ-৫ আসনের নিজাম উদ্দিন জলিলের (জন) বাবা প্রয়াত আবদুল জলিল ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তানভীর শাকিল জয় প্রয়াত মন্ত্রী ও নেতা মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে। তার দাদা জাতীয় চার নেতার অন্যতম মনসুর আলী। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের ডা. হাবিবে মিল্লাত সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মেয়ের জামাই। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের তানভীর ইমাম প্রয়াত নেতা এইচ টি ইমামের ছেলে। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের মেরিনা জাহান দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রয়াত মযহারুল ইসলামের মেয়ে। তার ভাই চয়ন ইসলামও এমপি ছিলেন। পাবনা-২ আসনের আহমেদ ফিরোজ কবির প্রয়াত আহমেদ তফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১৯৭৩ ও ’৯৬ সালের এমপি ছিলেন। মেহেরপুর-১ আসনের ফরহাদ হোসেনের বাবা প্রয়াত মোহাম্মদ সহিউদ্দিন ছিলেন ১৯৭০, ’৭৩ ও ’৮৬ সালের এমপি। কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের দাদা গোলাম কিবরিয়া ছিলেন এমপি। ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকীর বাবা প্রয়াত নুরে আলম সিদ্দিকী ছিলেন দলের নেতা। ঝিনাইদহ-৩ আসনের এমপি শফিকুল আজম খান। তার বাবা প্রয়াত শামসুল হুদা জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন। যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্যের ভাই পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য দলের নেতা। অবশ্য রাজনীতিতে স্বপনেরও অবদান রয়েছে। রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর বাবা প্রয়াত রফিকুল্লাহ চৌধুরী ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। মাগুরা-১ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান শিখর। তার বাবা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান তিনবারের এমপি ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হেলালের ছেলে শেখ ফারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-২ আসনের এমপি। বাগেরহাট-৩ আসনের হাবিবুন নাহার খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের স্ত্রী। খুলনা-২ আসনের শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল শেখ নাসেরের ছেলে। খুলনা-৩ আসনের মন্নুজান সুফিয়ানের স্বামী আবু সুফিয়ান এ আসনের এমপি ছিলেন। তিনি নিজেও অবশ্য রাজনীতি করেছেন। ভোলা-২ আসনের আলী আজম মুকুল দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা। ভোলা-৪ আসনের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বাবা প্রয়াত এমএম নজরুল ইসলাম ১৯৭৯ ও ’৯১ সালের এমপি। টাঙ্গাইল-৬ আসনের আহসানুল ইসলাম সাবেক এমপি হাজি মকবুল আহমেদের ছেলে। টাঙ্গাইলের আরেক আসনের এমপি খান আহমেদ শুভ দলের জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুকের ছেলে। ফারুক ১৯৭৩ সালে এমপি ছিলেন। ময়মনসিংহ-১ আসনের জুয়েল আরেং সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের ছেলে। ময়মনসিংহ-২ আসনের শরীফ আহমেদের বাবা শামসুল হক চারবারের এমপি। ময়মনসিংহ-১০ আসনের ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের বাবা প্রয়াত এমপি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ। নেত্রকোনার এমপি সাজ্জাদ হাসানের বাবা প্রয়াত আখলাকুল হোসাইন আহমেদ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সৈয়দা জাকিয়া নূর চার জাতীয় নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে ও দলের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন। কিশোরগঞ্জের আরেক এমপি রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে। অন্য এমপি নাজমুল হাসান পাপনের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুুর রহমান। তার মা মহিলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আইভি রহমান। মানিকগঞ্জের নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বাবা প্রয়াত সায়েদুর রহমান এমপি ছিলেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত নসরুল হামিদের বাবা হামিদুর রহমান দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। মা হাসনা হামিদও রাজনীতি করতেন। গাজীপুরের জাহিদ আহসান রাসেল প্রয়াত নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। সিমিন হোসেন রিমি প্রয়াত জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে। মেহের আফরোজ চুমকির বাবা প্রয়াত ময়েজউদ্দিন ১৯৭০ ও ’৭৩ সালের এমপি। কাজী কেরামত আলীর বাবা কাজী হেদায়েত হোসেন গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) বাবা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়। তার আরেক ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরীও এমপি। ফরিদপুর-৩ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আত্মীয় পরিচয়ে এমপি হন। ফরিদপুরের আরেকটি আসনের এমপি শাহদাব আকবরের মা প্রয়াত এমপি দলের নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। নাহিম রাজ্জাকের বাবা প্রয়াত নেতা ও এমপি আবদুর রাজ্জাক। জয়া সেনগুপ্তা প্রয়াত এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী। এ কে আবদুল মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই। গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজের (মিলাদ গাজী) বাবা প্রয়াত এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজী। মাহবুব আলীর বাবা আছাদ আলী প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। আনিসুল হকের বাবা প্রয়াত সিরাজুল হক ১৯৭০ সালের এমপি ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা। রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বাবা এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী ছিলেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের এমপি। দীপু মনির বাবা প্রয়াত এমএ ওয়াদুদ ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। আয়েশা ফেরদাউসের স্বামী প্রয়াত এমপি মোহাম্মদ আলী। মাহফুজুর রহমানের বাবা মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৯১ ও ’৯৬ সালের এমপি ছিলেন। এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বাবা প্রয়াত ফজলুল কবির চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। মহিবুল হাসান চৌধুরীর বাবা চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বাবা প্রয়াত এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরী। সাইমুম সরওয়ার কমলের বাবা প্রয়াত ওসমান সরওয়ার চৌধুরী ছিলেন ১৯৭৩ সালের এমপি। শাহিনা আক্তার চৌধুরীর স্বামী সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি। শিরীন আহমেদের স্বামী প্রয়াত বজলুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। নাহিদ ইজাহার খানের বাবা খন্দকার নাজমুল হুদা পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর নিহত সেনা কর্মকর্তা। খাদিজাতুল আনোয়ারের বাবা প্রয়াত এমপি রফিকুল আনোয়ার। ওয়াসিকা আয়শা খানের বাবা প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সার দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। কানিজ ফাতেমা আহমেদের স্বামী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগ নেতা। আঞ্জুম সুলতানা সীমার বাবা কুমিল্লার প্রয়াত নেতা আফজল খান। উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমের (শিউলী আজাদ) স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আজাদ। রুমানা আলীর বাবা প্রয়াত এমপি রহমত আলী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের এমপি বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। তার মামা খালেদ মোশাররফ। পারিবারিক পরিচয়ে এমপি হলেও সংগ্রাম এমপি হওয়ার আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। সুলতানা নাদিরার স্বামী প্রয়াত নেতা গোলাম সবুর টুলু। হাবিবা রহমান খান শেফালীর বাবা প্রয়াত ফজলুর রহমান খান তিনবারের এমপি ছিলেন। জাকিয়া পারভীন খানমের বাবা সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান খান চুন্নু মিয়া। তার স্বামী আওয়ামী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। অপরাজিতা হকের বাবা প্রয়াত খন্দকার আসাদুজ্জামান ছিলেন তিনবারের এমপি। তামান্না নুসরাত বুবলীর স্বামী প্রয়াত লোকমান হোসেন ছিলেন নরসিংদীর মেয়র। জাকিয়া তাবাসসুমের বাবা প্রয়াত আজিজুর রহমান দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ফরিদা খানম নারী মুক্তিযোদ্ধা। তার স্বামী নোয়াখালী জেলা মুজিব বাহিনী প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত। রাজবাড়ীর সালমা চৌধুরীর বাবা প্রয়াত আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী ছিলেন এমপি। সৈয়দা রাশিদা বেগমের স্বামী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত সৈয়দ নিজাম উদ্দিন লাইট। ফেরদৌসী ইসলাম জেসীর বাবা প্রয়াত ভাষাসৈনিক ও সংসদ সদস্য আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু। পারভীন হক সিকদারের বাবা প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদার। জামালপুরের আবুল কালাম আজাদ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভায়রা। এ ছাড়া শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল উদ্দীন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও শামীম ওসমানের পারিবারিক পরিচয় থাকলেও তারা এখন প্রত্যেকে রাজনীতিতে স্বনামে প্রতিষ্ঠিত।
জাতীয় পার্টি : বিরোধী দলনেতা রওশন এরশাদ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী। তাদের ছেলে সাদ এরশাদও এমপি। আহসান আদেলুর রহমান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের ভাগ্নে। জিএম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরও এমপি। নীলফামারী-৪ আসনে আদেলুর রহমান আদেল, তার বাবা ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি ছিলেন। নাসরীন জাহান রত্না দলের কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী। আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান।
অন্যান্য : ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান সংরক্ষিত নারীর আসনে এমপি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু নিজে ও তার স্ত্রী বেগম আফরোজা হকও এমপি। মাহী বি চৌধুরীর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সেলিনা ইসলামের স্বামী পদচ্যুত এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল।
সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ৫টি রোডমার্চসহ টানা ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করবে দলটি। তবে মাঝে তিন দিন ২০, ২৪ ও ২৮ সেপ্টেম্বর কোনো কর্মসূচি নেই। বিএনপির নতুন ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাবেশ, রোডমার্চ ও দোয়া মাহফিল।
গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। আমাদের অনেক রাজনৈতিক জোট ও দল যুগপৎ আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে আমরা কতগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
কর্মসূচি ঘোষণার সময় অসুস্থতার কারণে মহাসচিবের অনুরোধে সেটি পড়ে শোনান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
পাঁচটি রোডমার্চ : ২১ সেপ্টেম্বর ভৈরব থেকে সিলেট (সিলেট বিভাগ), ২৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে পটুয়াখালী (বরিশাল বিভাগ), ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগ, ১ অক্টোবর ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ (ময়মনসিংহ বিভাগ) এবং ৩ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম (কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকায় হবে সমাবেশ : ১৯ সেপ্টেম্বর জিঞ্জিরা/কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরের টঙ্গী; ২২ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা; ২৫ সেপ্টেম্বর নয়াবাজার, আমিনবাজার; ২৭ সেপ্টেম্বর গাবতলী এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। ঢাকায় ২৯ সেপ্টেম্বর মহিলা সমাবেশ, ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রমজীবী সমাবেশ এবং ২ অক্টোবর কৃষক সমাবেশ হবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
তবে ২০, ২৪ ও ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির কোনো কর্মসূচি না থাকলেও যুগপৎ আন্দোলনের অংশীজনদের কর্মসূচি রয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে যে জোট ও দলগুলো আছে, তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থান থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তারা হয়তো সবগুলো করবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকাকেন্দ্রিক সমাবেশ-পদযাত্রার কর্মসূচি গণতন্ত্র মঞ্চের : এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের দারুস সালাম ভবনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করে গণতন্ত্র মঞ্চ। নতুন এই কর্মসূচি হচ্ছে ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সমাবেশ ও পদযাত্রা; ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার সামনে সমাবেশ ও পদযাত্রা; ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে সমাবেশ ও পদযাত্রা এবং ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও পদযাত্রা।
সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির বাইরে জোটের নিজস্ব কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। তারা বলছে, গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে সেমিনার ও আলোচনা সভাও হবে। সেসবের তারিখ-স্থানসহ বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম।
গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টির কর্মসূচি: ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা জিঞ্জিরা/কেরানীগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে, ২১ সেপ্টেম্বর ভৈরব-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রোডমার্চ, ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পেশাজীবী সমাবেশ, ২৩ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় সমাবেশ, ২৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-পটুয়াখালী রোডমার্চ, ২৫ সেপ্টেম্বর নয়াবাজার ও ঢাকা জেলার আমিনবাজারে সমাবেশ, ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগ রোডমার্চ, ২৭ সেপ্টেম্বর গাবতলী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় জনসমাবেশ, ঢাকায় ২৯ সেপ্টেম্বর মহিলা সমাবেশ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কৃষক-শ্রমিক সমাবেশ, ১ অক্টোবর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রোডমার্চ, ৩ অক্টোবর কুমিল্লা-ফেনী-মিরসরাই-চট্টগ্রাম রোডমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির নেতারা। এ ছাড়া আইনজীবীদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং আন্দোলনরত সব দল সমর্থন জানাবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দলটি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০-৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির অঙ্ক কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রমুখী করতে পারলে নির্বাচন বিতর্ক সামাল দিতে কোনো বেগ পেতে হবে না।
আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেওয়া নানা পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো। এ ছাড়া জনআকাক্সক্ষা পূরণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে নির্বাচন নিয়ে জনমত আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর আওয়ামী লীগ এ তিন পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান।
চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেন। এর আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল সফর করে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আওয়ামী লীগে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে দাবি করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।
তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিগত দুই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আওয়ামী লীগ তথা সরকারকে দেশ-বিদেশে বেশ বিপাকে ফেলেছিল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায় না সরকারি দল। সেজন্য আগে থেকেই আটঘাট বেঁধে নামতে চায় ক্ষমতাসীনরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে না ধরেই কমপক্ষে ৪০ ভাগ ভোটার উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়ে যাবে। সেই নির্বাচনে এ সংখ্যক ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রে এলে ভোটের পরে ভোট প্রশ্নবিদ্ধ করার যে চক্রান্ত বিএনপির রয়েছে, সেটি ব্যর্থ হয়ে যাবে। এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করার অন্যতম কারণ হলো এটি।
সরকারের ওপর অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের চাপ রয়েছে বিদেশিদের। গত আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরার পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণ ভোট দিতে পারলেই সেটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, ৫০-৪০ শতাংশ ভোট কাস্টিং করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ। তা সম্ভব হলেই ভোট বিতর্ক এড়ানো যাবে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পরে সব নির্বাচনেই ভোটার উপস্থিতি হতাশাজনক ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। কোনো কোনো ফোরামে আলোচনায় সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে কম ভোটার উপস্থিতির উদাহরণ। তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
দলের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না এটা ধরে নিয়েই তিন পরিকল্পনায় সফল হতে পারবেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষে আওয়ামী লীগ মনে করে নির্বাচন পর্যন্ত জনআকাক্সক্ষা পূরণ ও দ্রব্যমূল্য বেঁধে রাখা পারলেই নির্বাচন পর্যন্ত আর সমস্যাগুলো বড় বাধা হয়ে আসবে না সরকারের সামনে। বাকিটা হলো ভোটের দিন লক্ষ্য অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ঘটানো।
ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তেমন আধুনিক উদ্যোগ নেই। কম ভোট উপস্থিতির এটিও একটি কারণ। প্রত্যেক ভোটারকে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে হবে এমনকি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, সেটি ইসিকে ভাবতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোও কেন্দ্রে ভোটার আনতে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন না। এ নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে কী কী উপায় নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা বলেন, স্বল্প সময়ে যে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা যায়, সেগুলো আগামী নির্বাচনে করা হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষের কর্মব্যস্ততা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনে সময় পেলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার চেয়ে পরিবারকে একটু সময় দেওয়াকে বেশি গুরুত্বের মনে করেন ভোটাররা।’ ভোট দেওয়ার প্রবণতা পৃথিবীর অনেক দেশেই কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি দল নির্বাচনে না যাওয়ায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে মনে করে না ভোটাররা। ফলে নির্বাচন বর্জন করা দলের ভোটাররা কেন্দ্রে যান না এবং দলের প্রার্থী বিজয়ী হবেন এ ভেবে আওয়ামী লীগের ভোটাররাও যান না। গত নির্বাচনগুলোতে ভোট কম পড়ার বড় কারণ এগুলো। তবে আগামী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন তারা। জাফরউল্যাহ আরও বলেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাবে।’
আওয়ামী লীগের হিসাবে মোট ভোটারের প্রায় ৩৫ শতাংশই তাদের ভোটার। এবার দলীয় ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় দলটি।
সরকারি দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভোটার কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ সফল হলে ভোট নিয়ে সব প্রশ্নই দূর করতে পারবে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ ও ’১৮ সালের দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে কম ভোটার উপস্থিতিও অন্যতম। তারা চান না এবার সেই প্রশ্ন উঠুক।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছোট ছোট কিছু জনআকাক্সক্ষা পূরণেও ঘাটতি রয়েছে। ফলে সরকার বড় বড় কাজ করছে ঠিকই, ছোট কিছু জনআকাক্সক্ষা পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে সাধারণ জনগণের একটি অংশ সরকারের প্রতি পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না, এমনটাই মনে করছেন তারা। তাই ভোটের আগে বাকি সময়ে ছোট বিষয়গুলো আমলে নিয়ে তা পূরণ করা হলে সাধারণ জনগণের ওই অংশটি আওয়ামী লীগের ওপরই আস্থা রাখবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
সরকারি দলের নীতিনির্ধারকরা বলেন, নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষকে। সংসার জীবনের কশাঘাতে পড়ে সরকারের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন ওই শ্রেণির মানুষের কাছে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। সংসার সামলাতে যে বিষয়গুলো বেশ বেগ পেতে হচ্ছে সেগুলোকে নির্বাচন পর্যন্ত কড়া মনিটরিংয়ে রেখে সামাল দেওয়া সম্ভব হলে মধ্যবিত্ত/নিম্নবিত্ত অংশের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলে তারা মনে করছেন। আর আস্থা অর্জন করতে পারলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে তাদের বিশ্বাস।
জনআকাক্সক্ষা পূরণের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বারবার একই চেহারা দেখছেন এলাকার মানুষ। অন্যদিকে জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে প্রতিবারই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন নির্বাচিত ওই জনপ্রতিনিধি। তাতে মানুষ বিরক্ত হন। এলাকার ভোটাররা মনে করেন, একজনকে কতবার ভোট দেব? এটি হলো জনআকাক্সক্ষা। এ জায়গায় নতুন মুখ নিয়ে আসা সম্ভব হলে মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা জাগবে। রাজনীতিতে সক্রিয় নন, এমন লোকজনও আগ্রহী হবেন। নতুন প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে ভোটাররা আসবেন।
এদিকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি বিপাকে পড়েছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুব ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হয়ে যাবে এ বিষয়টি বিএনপির কাছেও পরিষ্কার হয়ে গেছে। নির্বাচন সময়মতো হয়ে যাবে এটা এখন বিএনপিও বিশ্বাস করে। দলটি ভাবছে, আন্দোলন জমছে না, নির্বাচনও ঠেকানো যাবে না। আর সেটাই তাদের বিপাকের কারণ।’
রুবেলা বা জার্মান মিজেলস একটি সংক্রামক রোগ। এটি রুবেলাভাইরাস থেকে হয়ে থাকে। একে জার্মান হাম বা তিন দিনের হামও বলা হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। করোনা ভাইরাসের মতই আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকেই এই রোগ ছড়ায়। গর্ভাবস্থায় এই রোগ গর্ভস্থ শিশুর নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
রুবেলা সাধারণত ভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ড্রপলেটসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় এবং পরবর্তীতে শ্বাসপ্রশ্বাসের মধ্যে দিয়ে আরেকজনকে আক্রান্ত করে। এ ছাড়া গর্ভবতী মা থেকে গর্ভস্থ সন্তানের রুবেলাভাইরাস হতে পারে।
তবে একবার এই রোগটি হয়ে গেলে সাধারণত স্থায়ীভাবে আর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
রুবেলার লক্ষণ বোঝা করা কঠিন, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। কারণ রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগে ভাইরাসটি রোগীর দেহে সাত থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে।
এই রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গ সাধারণত ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেখা যায় এবং সাধারণত ১ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হয়।
হালকা জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮.৯ C) বা তার কম
মাথাব্যথা
নাকে সর্দি বা বন্ধ নাক।
চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চুলকানি হওয়া।
মাথা ও ঘাড়ের পেছনের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং ব্যথা হওয়া, কানের পিছনের লিম্ফ নড পিণ্ডর মতো ফুলে যাওয়া
লাল বা গোলাপি ফুসকুড়ি যা মুখে শুরু হয় এবং দ্রুত ঘাড়, শরীর, বাহু ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে
জয়েন্টগুলোতে ব্যথা, বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে
হাঁচি-কাশি এবং নাক দিয়ে পানি পড়া
শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা
ক্ষুধা মন্দা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা
রুবেলাভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। এটি সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।
এমনকি গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে মা বা শিশুর ও কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভবতী নারী রুবেলা আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এলে তাকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়া যেতে পারে। তাই রুবেলাকে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা খুব জরুরি।
তবে একবার আক্রান্ত হলে সে সময় যা যা করতে হবে,
১. যেহেতু রোগটি অনেক ছোঁয়াচে তাই আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলতে হবে।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং আক্রান্ত হলে কঠোর পরিশ্রমের কাজ না করাই ভালো
৩. সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে
৪. ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ যুক্ত ফলমূল খেতে হবে বেশি করে।
৫. প্রতিদিন গোসল করাতে হবে, শরীরে জ্বর থাকলে ভেজা কাপড় একটু পর পর শরীর মুছতে হবে।
৬. কোনও ওষুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
কেউ যদি গর্ভাবস্থায় রুবেলায় আক্রান্ত হন তবে রুবেলা অনাগত শিশুর ক্ষতি করার পাশাপাশি গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এ ছাড়া শিশুর জন্মের পরে তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
হার্টের ত্রুটি
ছানি
বধিরতা
বিলম্বিত শেখা
লিভার এবং প্লীহার ক্ষতি
ডায়াবেটিস
থাইরয়েড সমস্যা
রুবেলার সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা না থাকায় টিকা হলো উত্তম প্রতিষেধক। এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল হাম-মাম্পস-রুবেলা (এমএমআর) টিকার দুই ডোজ টিকা প্রয়োগ। সব বয়সেই এই টিকা নেয়া যায়।
টিকার প্রথম ডোজটি সাধারণত শিশুর নয় থেকে ১৫ মাসের মধ্যে দেয়া হয় এবং দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয় শিশুর সাড়ে তিন থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্করা এই টিকা নিতে পারেন। সাধারণত প্রথম ডোজ নেয়ার কমপক্ষে এক মাস থেকে তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়।
কিশোরীদের ১৫ বছর বয়সে টিটি টিকার সঙ্গে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দিতে হয়। এ ছাড়া গর্ভধারণে ইচ্ছুক নারীদের রুবেলা অ্যান্টিবডি টেস্ট করে প্রয়োজন হলে ৩ মাস ব্যবধানে ২ ডোজ টিকা দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা পরবর্তী এক মাসের মধ্যে সন্তান নিতে নিষেধ করা হয়।
১. অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। কেউ হাঁচি-কাশি দিলে তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে।
২. হাত সবসময় সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার রাখতে হবে।
৩. নাকে, চোখে, মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. কাশি বা হাঁচি আসলে সে সময় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহৃত টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
৫. যাদের শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যাশ জাতীয় আছে তাদের সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
৬. অতিরিক্ত ভীর বা জনসমাগম এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে।
পুলিশের পদোন্নতির তালিকায় থাকা পদ কাটছাঁট করায় অসন্তোষ কমছে না। এ নিয়ে পুলিশ কর্তারা একাধিক বৈঠক করছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে এলে পদোন্নতি নিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। পুলিশের অসন্তোষ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে পদোন্নতির পদ আরও বাড়াতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠি পেয়ে জনপ্রশাসনও কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, পদোন্নতির সংখ্যাটি প্রধানমন্ত্রী ঠিক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে পুলিশকে বিব্রত করেছে। অন্য ক্যাডাররা একের পর এক পদোন্নতি পেলেও পুলিশ পিছিয়ে আছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
এদিকে ক্যাডারদের পাশাপাশি নন-ক্যাডারদেরও পদোন্নতির বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। ইতিমধ্যে সাব-ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টরদের পদোন্নতির উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। পদোন্নতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিন দিন আগে পদোন্নতি পেতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। ওই সময় রাজধানীর ৫০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্সপেক্টর থেকে এএসপি পদে পদোন্নতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের ক্যাডার ও নন-ক্যাডারদের পদোন্নতির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। যাদের পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা আছে তারা অবশ্যই পদোন্নতি পাবেন। বিসিএস পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পদ বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগির বিষয়টি সুরাহা হবে। নন-ক্যাডারদের কর্তারাও কিছুদিন আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের বিষয়টিও সমাধান হবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশের জন্য যা করেছে, অতীতের কোনো সরকারই তা করেনি। পুলিশের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুুলিশের পদোন্নতির তালিকা কাটছাঁটের বিষয়ে গত মঙ্গলবার আইজিপিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওইদিন বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পুলিশের পদোন্নতির বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুর-এ- মাহবুবা জয়া।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাবাহিনী প্রধানতম বাহিনী, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত। নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পেশাদায়িত্ব ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তদারকি ও ব্যবস্থাপনা এ বাহিনীর নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব প্রদানে পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পদে পর্যাপ্তসংখ্যক পদ এবং দক্ষ জনবল থাকা বাঞ্ছনীয়। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (গ্রেড-৩) ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গ্রেড-২) তুলনামূলক কম। বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর আলোকে (বিদ্যমান পদে অতিরিক্ত) অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হতে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক হতে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদোন্নতি দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হবে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদানের জন্য পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিদ্যমান পদের অতিরিক্ত সুপারনিউমারারি পদ রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনের প্রস্তাবে পদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যন্ত ৭২০ কর্মকর্তার পদোন্নতি পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। তালিকাটি সংশোধন করতে ফেরত পাঠায় মন্ত্রণালয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তর ৫২৯টি পদ চূড়ান্ত করে আরেকটি তালিকা পাঠায়। সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দিতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ১ আগস্ট এ প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় তালিকা কাটছাঁট করেছে। অতিরিক্ত আইজিপি পদে দুজন, ডিআইজি পদে ৫০ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ১৪০ ও পুলিশ সুপার পদে ১৫০ জনকে পদোন্নতি দিতে ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন। পুলিশের তালিকায় ছিল অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-১) ১৫, অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) ৩৪, ডিআইজি ১৪০, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৫০ ও এসপি ১৯০ পদে পদোন্নতি দিতে। এ তালিকা কাটছাঁট হওয়ায় পুলিশে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ অসন্তোষ এখনো অব্যাহত আছে। অসন্তোষ ঠেকাতে আবার জনপ্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশে সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদোন্নতিতে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদে পদোন্নতির নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫২৯টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করতে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। পদোন্নতির বিষয়ে সিগন্যাল আসার পর ২০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এ-সংক্রান্ত একটি সভা হয়েছিল। সভায় অতিরিক্ত সচিবসহ (পুলিশ ও এনটিএমসি) পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, পুলিশে বর্তমানে একজন অতিরিক্ত আইজিপির পদ খালি রয়েছে। সুপারনিউমারারি পদে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে ১৫ ও ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম ব্যাচের প্রায় সবাই ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি ২৭, ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের এসপি হিসেবে পদোন্নতির বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নন-ক্যাডাররা পদোন্নতি পাবেন। সাব-ইন্সপেক্টর থেকে ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টর থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সুপারনিউমারারি পদে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতোই নন-ক্যাডারদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। ইন্সপেক্টর থেকে এএসপি পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কারা পাবেন তার তালিকা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো ছিল পুলিশ পরিদর্শকদের (ইন্সপেক্টর) ১০ বছর পূর্তিতে ষষ্ঠ গ্রেড দেওয়া। ১০ বছর পূর্তিতে ব্যাজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেড পরিবর্তন করা। ১০ বছরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া। সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) ক্ষেত্রেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে এসআই/সার্জেন্ট পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাদের র্যাংক ব্যাজের নীল বা লাল ফিতা তুলে নেওয়া। কনস্টেবলদের বিভাগীয় পরীক্ষায় একবার পাস করলে সেখান থেকে প্রমোশন লিস্ট করে ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে মন্ত্রীর কাছে।’