
৩২ দলের লড়াই এসে ঠেকেছে চারে। ৬৪ ম্যাচের বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দুই ম্যাচ। যে চার দল টিকে আছে, তাদের খেলা হয়ে গেছে ৫টা করে ম্যাচ। আসর সেরার লড়াইয়ের মাঠও তাই হয়ে এসেছে ছোট, এখন বাকি চার ম্যাচে লড়াইটা মূলত চারজনের ভেতরই সীমাবদ্ধ।
ইউরোপের দুই, দক্ষিণ আমেরিকার এক ও প্রথমবার আফ্রিকার এক দল নিয়ে চার দলের লড়াই থেকে টিকবে দুই। ফাইনালে সোনালি ট্রফি উঠবে কোনো এক দলের হাতে। বিশ্বকাপে শেষের এই সময়টা তাই সবচেয়ে আগ্রহের, সবচেয়ে উপভোগেরও। সোনালি ট্রফির জন্য মাস জুড়ে হওয়া লড়াইয়ের যতি পড়বে এই অর্ধে। দলগত প্রাপ্তির সঙ্গে থাকবে ব্যক্তিগত সেরার স্বীকৃতি। সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন শু, সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল ও সেরা গোলরক্ষকের গোল্ডেন গ্লাভসÑ যা একসময় পরিচিত ছিল লেভ ইয়াশিন পুরস্কার নামেও।
বলা হচ্ছে চারের লড়াই অথচ সামনে শুধু দুই। গোল ও টুর্নামেন্ট সেরা তারকার তালিকায় শুধু আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ফুটবলার। অবশ্যই লিওনেল মেসি আর ফরাসি দুজন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও অলিভিয়ের জিরু। মেসি একসঙ্গে দুই পুরস্কারের পিছে ছুটছেন। আসরে ৪ গোল তার। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে আরও পেলে এগিয়ে যাবেন লক্ষ্যের দিকে। ওদিকে এবারের সর্বোচ্চ ৫ গোল নিয়ে গোল্ডেন শু’র লড়াইয়ে একটু এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। মাত্র ২৩ বছরেই বিশ্বকাপে ৯ গোল করে ফেলা এই তরুণ মেসির মতোই আরও দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সুযোগ অলিভিয়ের জিরুরও। গত বিশ্বকাপে একটিও গোল করতে না পারা জিরু এবার ৪ গোলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ ৫৩ গোলের মালিকও এই পুরস্কারের দাবিদার। গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়েও তিনজন। তবে এবার ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোও আছে। ম্যাচ ও পেনাল্টি শুটে দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রোয়েশিয়ার ডমিনিক লিভাকোভিচ ও মরক্কোর ইয়াসিন বুনো তিনজনই সেরা গোলরক্ষক হওয়ার দাবি রাখেন। ফাইনাল শেষে যে তার পোস্টকে অক্ষত রাখবেন তার হাতেই উঠবে সুদৃশ্য ওই গ্লাভস।
ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কো দলগত চেষ্টায় উঠে এসেছে এই পর্যায়ে। কোনো একের ঝলক তাদের কাছে খুব একটা অর্থ রাখে না। তাই গোল্ডেন বল ও বুটে এই দুই দলের ফুটবলারের নাম নেই। এ নিয়ে আক্ষেপও নেই ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর। খেলাটা শেষ পর্যন্ত তো ওই দলগত ট্রফির জন্যই। ট্রফি জয়ের আনন্দে বাড়তি মাত্রা দিতে পারে ব্যক্তিগত সাফল্য। এই সাফল্যে ২০১৪ বিশ্বকাপের পর টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি। ৩৫ বছর বয়স তাকে যে সেই ২৫-এ নিয়ে যাবে কে জানত। হীরের মতো ঝলক দিয়েই ৭ বারের বর্ষসেরা জ্বলে উঠেছেন ফুল পাওয়ারে। গোল করছেন-করাচ্ছেনও। শেষ বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফির নেশায় মাতিয়ে চলেছেন আসর।
মেসির শ্রেষ্ঠত্ব বা সেরার প্রশ্নে সন্দেহ নেই কোনো। বিশ্বফুটবলে এখনকার সেরা তিনের দুজন বিদায় নিয়েছেন। আপন মহীমায় টিকে আছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪ গোলের পথে ছুঁয়েছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপে ৮ গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপে তার মোট গোল হয়েছে ১০টি। আর অ্যাসিস্টেও করেছেন রেকর্ড। এই বিশ্বকাপে দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। নকআউটে একটি অ্যাসিস্ট গ্রুপ পর্বের পর মোট ৫টি অ্যাসিস্ট করে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলেকে। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল হাতে উঠেছিল মেসির। যা তিনি নিজেই হয়তো চাননি। সেবার এই বিশ্বকাপের মতো উজ্জ্বল ছিলেন না। কিন্তু এই আসরের পারফরম্যান্স মেসিকে একটি ট্রফি তো এনে দেবেই। মেসি অবশ্যই সোনালি ট্রফিটাই চাইবেন। শীর্ষ পুরস্কারটি তার হাতে উঠলে গোল্ডেন বলও উঠবে। হতে পারে গোল্ডেন বুটও পেয়ে যাচ্ছেন। তখন ১৯৬২’র মানে গারিঞ্চা, ১৯৭৮’র মারিও কেম্পেস ও ১৯৮২’র পাওলো রসির পর এক আসরে বুট ও বলজয়ী চতুর্থ কিংবদন্তি হয়ে যাবেন তিনি।
গত বিশ্বকাপে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। এর মধ্যে পেলের পর কিশোর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলের রেকর্ডও ছিল। এবার সেই রেকর্ডকে যেন ছাড়িয়ে যেতে উঠে পড়ে লেগেছেন এই তরুণ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোল করেছেন। পরের ম্যাচে ডেনমার্কের জালে দুটি। নকআউটে পোল্যান্ডের জালে আবারও দুই গোল। এই ৫-এ মোট ৩১ গোল নিয়ে ছুঁয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানকে। কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছায়া হয়ে ছিলেন নিজের। কিন্তু সেমিফাইনালে এমন বিবর্ণ হতে চাইবেন না নিশ্চয়ই।
দিদিয়ের দেশমের জায়গায় ভিন্ন কেউ হলে জিরুকে এই বিশ্বকাপের দলেই রাখত না। গতবার শিরোপা জয়ের পথে একটিও স্কোর নেই এই নাম্বার নাইনের। অথচ দেশম বিশ্বাস রেখেছেন। বলেছিলেন তার দলে ফলস নাইন বলতে জিরু-ই আছে এবং সেই থাকবে। কোচের আস্থার প্রতিদান দারুণভাবে দিলেন জিরু। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন। নকআউটে টানা দুই ম্যাচে পোস্ট খুঁজে পেয়েছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তাই জিরুও ভালোভাবে আছেন।
ক্রোয়েশিয়া যদি শেষ পর্যন্ত দারুণ কিছু করে ফেলে, তাহলে গোল্ডেন বলটা উঠতে পারে লুকা মদ্রিচের হাতেও। মাঝমাঠের জেনারেল মদ্রিচ এবারও প্রায় একক কৃতিত্বেই বুড়িয়ে যাওয়া ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে এসেছেন সেমিফাইনালে। ব্রাজিলকেও হারিয়ে দেওয়া ক্রোয়েশিয়া যদি লাতিনের শেষ প্রতিনিধিকেও বিদায় করে দেয়, তাহলে নিঃসন্দেহে মদ্রিচই পাবেন সোনার বলটা।
২০০২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী ইতিহাসে একমাত্র গোলরক্ষক ছিলেন জার্মানির অলিভার কান। মার্তিনেজ, লিভাকোভিচ ও বুনো দুর্দান্ত খেললেও বল জয়ের সুযোগটা তাদের নেই। মেসি-এমবাপ্পেরা যে গোল-অ্যাসিস্টে তাদের চেয়ে এগিয়ে। তবে গ্লাভসের লড়াইটাও তো জমজমাট। সেমিফাইনালে মার্তিনেজ ও লিভাকোভিচের মুখোমুখি হওয়া এ লড়াই জমিয়ে তুলেছে আরও। এ দুজনের একজনকে গ্লাভসের মায়া ছাড়তে হবে পরের ম্যাচেই। তবে অন্যদিক থেকে বুনো হয়তো আশা টিকিয়ে রাখতে পারেন।
তবে বল, বুট ও গ্লাভসের এই সমীকরণে পরিসংখ্যান দিয়ে অঙ্কটাই শুধু মেলানো যায়। আসল লড়াই তো হবে মাঠে। ফাইনালের ফলের আগেই হয়তো স্পষ্ট হয়ে যাবে ব্যক্তিগত অর্জনের ট্রফি কোনটিতে কার নাম উঠছে।
খেলার সময় তখন গড়িয়েছিল ৮২ মিনিটে। ডি বক্সের ভেতরে মাউন্টকে তখন ফাউল করলেন থিও হার্নান্দেজ। ভিএআর চেক করে পেনাল্টি দিলেন রেফারি। কিন্তু ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন নার্ভ ধরে রাখতে পারেননি। শটটি মারলেন গোলপোস্টের ওপর দিয়ে। সুযোগ ছিল সমতায় ফেরার, কিন্তু ইতিহাসে আক্ষেপ হয়ে থাকার মতো পেনাল্টি মিসে যে ম্যাচটাই ফসকে গেছে। তাতে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় ইংলিশদের।
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপায় চোখ ছিল ইংল্যান্ডের। সেই আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল আগেরদিন ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনেও। কিন্তু পেনাল্টি মিসে যে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেছে তাদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। যেখানে আক্ষেপ হয়ে থাকবে ইংলিশ অধিনায়কের নাম।
কেইনের এই পেনাল্টি মিসই বিশ্বকাপে প্রথম নয়। এবারের বিশ্বকাপে তো এমন সুযোগ হাতছাড়া করার অসংখ্য নজির তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে এমন মিস মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেনাল্টি মিস করা ইতালির রবার্তো বাজ্জিওকে।
সেবার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল ইতালি। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতায় শেষ হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম চার শটে ৩ গোলে এগিয়েছিল ব্রাজিল। আর তিনটি শটের মধ্যে ২ গোল করেছিল ইতালি। চতুর্থ শট নিতে যান ইতালির রবার্তো বাজ্জিও। কিন্তু তিনিও যেন কেইনের মতোই নার্ভ হারিয়ে ফেলেছিলেন। শটটি ওপর দিয়ে মারলেন, ইতিহাসে আক্ষেপ হয়ে থাকার মতো এই পেনাল্টি মিসে শিরোপা নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের। ‘দ্য ডিভাইন পনিটেইল’ এর হতাশার ছবিটাও তাতে স্থায়ী হয়ে যায় ফুটবল ভক্তদের মনে।
পেনাল্টি অবশ্য ইংলিশদের পুরনো শত্রু। বিশ্বকাপে তিনবার ইংলিশরা বাদ পড়েছে টাইব্রেকে হেরে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকে হেরেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে টাইব্রেকে হারে ইংলিশরা। সেবার প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা। ২০০৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড পর্তুগালের কাছে হারে টাইব্রেকারে। তবে সবশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। রাশিয়াতে চতুর্থ হয়েছিল হ্যারি কেইন।
বাজ্জিওর মতোই হ্যারি কেইন ওপর দিয়ে শট মেরে গোলবঞ্চিত হন। একইভাবে ১৯৯৬ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে পেনাল্টি মিস করেছিলেন ইংলিশদের বর্তমান কোচ গ্যারেথ সাউদগেট। আবার তার অধীনেই ২০২০ ইউরোর ফাইনালে মার্কাস রাশফোর্ড, জেডন সানচো ও বুকায়ো সাকা টাইব্রেকারে পেনালটি শট মিস করেছিলেন। আর সবশেষটা শনিবার রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে করলেন কেইন।
কেইনের নার্ভ হারানোর অন্যতম কারণ তার টটেনহামের সতীর্থ বন্ধু হুগো লরি। এ দুজনে ২০১৩ সাল থেকে এক ক্লাবে খেলছেন। একসঙ্গে ৩২৭ ম্যাচ খেলেছেন, যা হয়তো জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গেও খেলা সম্ভব হয় না। কেইন বল পায়ে কীভাবে দৌড়ায়, তার শট নেওয়ার অ্যাঙ্গেল কেমন হতে পারে, তা লরিসের চেয়ে বেশি অন্য কোনো গোলকিপারের জানার কথা না। সেটা মনে করেই হয়তো কেইন বোকা বানাতে চেয়েছিলেন বন্ধুকে। প্রথম প্রচেষ্টায় কেইন সফল হলেও একই ম্যাচে দ্বিতীয়বার প্রিয় বন্ধুর বিপক্ষে পেনাল্টি নিতে গিয়ে আর পারেননি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটি পেনালটি পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সেখানে লরিসকে পরাস্ত করে গোলের দেখা পেয়েছিলেন কেইনই। কিন্তু শেষটা আর পারেননি। তাতে ২-১ গোলে পরাজিত হয় ফ্রান্সের কাছে। পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে নিতে পারলে ম্যাচের ভাগ্যটাও হয়তো পালটে যেত। আর সেটাই অন্তজর্¦ালায় পোড়াচ্ছে হ্যারি কেইনকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, ব্যথাটা তীব্র। সারা জীবন এই গ্লানি নিয়ে আমাকে বাঁচতে হবে। আমি প্রস্তুতি সব খেলার আগেই সমানভাবে নেই। আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু যেভাবে শটটা নিতে চেয়েছিলাম সেটা হয়নি। তবে এটা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। দল হিসেবে আমরা ভালো খেলেছি, অবশ্যই প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ে গর্বিত হতে হবে। এই দলটি ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সামর্থ্য রাখে।’
পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফিরিয়েছিলেন কেইন, তিনিই আবার পেনাল্টি মিস করে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করলেন, বিদায় নিল ইংল্যান্ড। বাজ্জিও’র মতো কেইনকেও হয়তো বাকি জীবনটা এই আক্ষেপ বয়ে বেড়াতে হবে, বিশ্বকাপ শেষে যখন ক্লাবের হয়ে খেলায় ফিরবেন প্রতিবার লরির সঙ্গে দেখা হলেই যে কেইনের মনে পড়বে বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের কথা!
পর্তুগাল ও মরক্কো ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে অশ্রুসিক্ত চোখে টানেলের দিকে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠের একপ্রান্তে দেখা গেছে পর্তুগিজ খেলোয়াড়দের হতাশা; আরেকদিকে প্রথমবার সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা মরক্কো। রোনালদোর সঙ্গে ৩৯ বছরের পেপেও কাতার বিশ্বকাপ রাঙাতে চেয়েছিলেন। সেটি হয়নি। অবশ্য ম্যাচের পর রেফারিকে নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন পেপে। আর্জেন্টাইন রেফারিকে এই ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া মানতে পারছেন না পেপে।
পেপে বলেন, ‘আমরা একটি গোল খেয়েছি, যা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে আগের রাতে যা হয়েছে এরপর এই ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। আমি যা দেখলাম তার প্রেক্ষিতে বলতে পারি, বিশ্বকাপটা তারা এখন চাইলে আর্জেন্টিনাকে দিয়ে দিতে পারে। আমি এটা এখন বলতেই পারি।’ নির্ধারিত সময়ের পর মাত্র ৮ মিনিট যোগ করা নিয়েও ক্ষোভ জানান পেপে। তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে কিছু দেওয়া হলো না। মাত্র ৮ মিনিট অতিরিক্ত সময়। দ্বিতীয়ার্ধে শুধু আমরাই খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা হতাশ। আমাদের জেতার মতো সামর্থ্য ছিল, তবে আমরা পারিনি।’
ব্রুনো ফার্নান্দেজও রেফারি নিয়ে সমালোচনা করেন। ‘এটি অদ্ভুত যে আমাদের ম্যাচে এমন এক রেফারি ছিলেন যার দেশ এখনো বিশ্বকাপে আছে। আমি কোনো পর্তুগিজ রেফারিকে দেখলাম না। তারা যদি চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য ভালো রেফারি হয়ে থাকে এখানের জন্যও তারা যোগ্য।’ ম্যাচে থাকা রেফারিরা বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য যোগ্য নন বলেও মনে করেন ব্রুনো। ‘তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নন, তারা এই ধরনের খেলায় অভ্যস্ত নন। এমন ম্যাচের জন্য তাদের গতি নেই। (তারা) পরিষ্কারভাবে আমাদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। প্রথমার্ধে আমাকে স্পষ্ট ফাউল করা হয়েছে, যেটা ছিল পেনাল্টি।’
এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রেফারিং নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা। সেই ম্যাচে ১৮টি কার্ড দেখান স্প্যানিশ রেফারি লাহোস। মেসি ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রকাশ্যে রেফারির সমালোচনা করেছিলেন।
আগস্টের শুরুতে ভাহিদ হালিদহোদিচ যখন বরখাস্ত হলেন, এর পর থেকেই উঠে যায় প্রশ্ন। তিন মাসেরও কম সময় পর কাতার বিশ্বকাপ। তার আগে বসনিয়ান কোচের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন? মরক্কোকে কে দেখাবেন দিশা? সংক্ষিপ্ত তালিকায় জাদরেল বেশ ক’জন ভিনদেশি কোচের সঙ্গে ছিল তার নাম। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ভিনদেশিতেই আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন মরোক্কান ফুটবল সংস্থাকে। তবে সে পথে না হেঁটে এমএফএ দায়িত্ব দিল ওয়ালিদ রেগরাগুইকে। মরক্কোর সাবেক ফুটবলারকে গুরুদায়িত্ব দেওয়াটা পছন্দ হয়নি ফুটবল ক্রিটিকসদের। অনেকেই হেয় করেছেন ৪৬ বছর বয়সী কোচকে। এমনকি একজন তো তাকে ‘অ্যাভোকাডো হেড’ নাম দিয়ে বসেছিলেন। সমালোচকদের কেউই ভাবেননি এই অ্যাভোকাডো হেডের ছোঁয়াতেই আমূল বদলে যাবে মরক্কো। ইতিহাস গড়ে তারা নাম লেখাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে!
প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়ে মরক্কো গড়েছে ইতিহাস। একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে তারা পা রেখেছে শেষ চারে। ১৪ ডিসেম্বর তাদের সামনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেই ম্যাচে কী হতে পারে, তা সময় বল দেবে। কাতার বিশ্বকাপে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মরক্কো যেসব কীর্তি গড়ে চলেছে, তা তো সেই অ্যাভোকাডো হেডের ক্যারিশমায়। দলটিতে মেসি, রোনালদো, নেইমার, এমবাপ্পের মতো মহাতারকা নেই। এমনকি আফ্রিকার বড় বিজ্ঞাপন মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানের মতোও তারকা নেই। অথচ তারা একের পর এক চমক সৃষ্টি করে চলেছে। কীভাবে ভোজবাজির মতো বদলে গেল মরক্কো? কোন জাদুবলে তারা সেয়ানে সেয়ানে টেক্কা দিচ্ছে বিশ্ব ফুটবল শাসন করাদের সঙ্গে? সেই উত্তরটা খুঁজতে বেশ ক’জন মরক্কো সমর্থকের সঙ্গে কথা হলো। তাদের প্রায় প্রত্যেকের এক জবাব, এই বদলের নায়ক ওয়ালিদ রেগরাগুই।
আটলান্টিক মহাসাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা মরক্কোকে আর দশটি আফ্রিকান দেশের সঙ্গে ঠিক মেলানো যাবে না। একটা সময় মরক্কো ছিল ফরাসি কলোনি। তবে আরবের প্রভাব হাজার বছর ধরেই ব্যাপক। ফলে এক মিশ্র সংস্কৃতির মানুষের বাস সেখানে। তাদের ভাষাও আরবি। মুসলিম রাষ্ট্র হলেও মধ্যপ্রাচ্যের মতো তারা ততটা রক্ষণশীল নয়। বরং কৃষি ও পর্যটন খাতকে অধিক প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। এ সুবাদেই অনেক ভিনদেশি ঘাঁটি গেড়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে গড়ে ওঠা দেশটির মানুষ অত্যন্ত পরিবারমুখী। মরোক্কানরা সেই মিশ্র সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চলছেন দোহার স্টেডিয়াম, মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে। আরব ও আফ্রিকার সমান প্রভাব থাকায় সমর্থনটাই পাচ্ছে তারা। একে তো মুসলিম রাষ্ট্র বলে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ গলা ফাটাচ্ছে তাদের হয়ে। আবার আফ্রিকার নানা প্রান্তের মানুষও গর্বিত মরক্কোর কীর্তিতে। আর এই সীমাহীন আনন্দের উপলক্ষটা এনে দিয়েছেন রেগরাগুই মাত্র আড়াই মাস দলটির সঙ্গে কাজ করে।
এফ গ্রুপে মরক্কোর স্বপ্ন যাত্রার শুরুটা হয় গতবারের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়াকে রুখে দিয়ে। পরের ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে আরও বড় অঘটনের জন্ম দেয় তারা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে কানাডাকে ২-১ এ হারিয়ে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো গ্রুপের গেড়ো খুলতে পারে মরক্কো। সেটাও আবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। চমকের এখানেই শেষ নয় দ্বিতীয়পর্বে তারা টাইব্রেকারে ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে আর কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। এবার তাদের ফ্রান্সকে চমকে দেওয়ার পালা।
যে বিশ্বাসে তারা স্থানীয় একজন কোচকে দলের দায়িত্ব দিয়েছিল, সেই একই বিশ্বাসে ভর করে সমর্থকরা মনে করেন এই দলের আরও অনেক কিছু অর্জনের সামর্থ্য আছে। ৩০ বছরের আহমেদ যেমন বললেন, ‘আসলে বিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ওয়ালিদ রেগরাগুই সেই বিশ্বাসটাই বুকে ধারণ করে দলটাকে একেবারে বদলে দিয়েছেন। আমরা ১৯৭৬ সালে একবারই আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স জিতেছিলাম। সেই দলেরই এক সদস্য কোচ হয়ে ২০০৪ সালে মরক্কোকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। তবে তিউনিসিয়ার কাছে সেবার হেরে গিয়েছিলাম। সেই দলের সদস্য ছিলেন ওয়ালিদ। আপনি কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার খরচ করে হাই প্রোফাইল বিদেশি কোচ নিয়োগ দিতে পারতেন। তবে তার সবকিছু বুঝি নিতেই অনেক সময় লেগে যেত। ওয়ালিদের সেই সমস্যাটা হয়নি। মরক্কোর ফুটবলের নারীনক্ষত্র তার জানা। খেলোয়াড়দের মস্তিষ্ক পড়ে ফেলার অসামান্য শক্তি আছে তার। মাত্র আড়াই মাসে তিনি দল নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাতেই দলটা বদলে গেছে।’ পাস থেকে রাসুল খালিদ যোগ করলেন, ‘আমরা যে শীর্ষ পর্যায়েও লড়াই করতে জানি তা প্রথম বোঝা গেছে চার বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে। সেবার আমরা স্পেন আর পর্তুগালের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিলাম। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের সঙ্গে অনেক ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাই। সেবারের বুক চিতিয়ে লড়াইটাই আমাদের এবার অনেক উজ্জীবিত করেছে। আর আমাদের দলে বড় কোনো তারকা নেই। এ দলের সবাই রাজা। তাই দলটা অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।’ এই ঐক্যের সংগীতটা বেঁধে দিয়েছেন ওয়ালিদ, ঠিক করে দিয়েছেন সুর-তাল-লয়। সেটাই তটস্থ করে হাকিম জিয়েচ, ইয়াসিন বোনো, এন-নেসরিরা গেয়ে চলেছেন বিজয় সংগীত। তাতেই সমালোচকদের মুখে চুন-কালিটা লেপে দিতে পারছেন মরক্কো কোচ। অ্যাভোকাডো ফলের ভেতরে একটা ছোট্ট ফুটবল ঢুকিয়ে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোজও দিয়েছেন, ‘এই নামটা আমার বেজায় পছন্দ। তবে এই অ্যাভোকাডোর ভেতরে বীজ নেই, আছে শুধুই ফুটবল।’ ওয়ালিদের চুলহীন মাথায় এখন কাজ করছে জন্মস্থানকে হারানোর ভাবনা। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা, ফুটবল ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এবার কষছেন এমবাপ্পেকে থামানোর ছক। মোহাম্মদদের মতো তরুণদের বিশ্বাস এই ওয়ালিদই পারবেন, মরক্কোকে স্বপ্নের ফাইনালে নিয়ে যেতে।
প্রায় একমাস ধরে চলা বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসব শেষ হতে চলল। গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়া এখনো বিশ্বকাপে টিকে আছে। তাদের সঙ্গে ফেভারিট আর্জেন্টিনা আর আফ্রিকার ডার্ক হর্স মরক্কো আছে শেষ চারে। প্রথমবারের মতো কোনো আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে এসে ইতিহাস গড়েছে মরক্কো।
এই বিশ্বকাপে আমরা অনেক চমক দেখেছি। জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, উরুগুয়ের মতো দল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে গেছে। একে একে বিদায় নিয়েছে স্পেন, পর্তুগাল এবং তাদের পথ ধরে ব্রাজিলও। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের ছিটকে যাওয়া বিশ্বজুড়ে তাদের অনেক সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এখন বিশ্বকাপটা দক্ষিণ আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জটা আর্জেন্টিনার, ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়া চাইবে কাপটা ইউরোপেই রেখে দিতে আর মরক্কো চাইবে গোটা বিশ্বকেই তাক লাগিয়ে দিতে। ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম খেলে ১৯৯৮ সালে এবং এরমধ্যেই তারা দুইবার বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গেছে। আগের বিশ্বকাপে তারা রানার্স আপ, এইবার তারা ফেভারিট ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা দেখেছি ১২০ মিনিটের বাঁচামরার লড়াই। ওদের পরের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, যারা আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে এসেছে সেমিফাইনালে।
আর্জেন্টিনাও পৌঁছে গেছে শেষ চারে, আকাশি-নীলরা মেসির জন্য কাপটা জিততে চায়। এটাই মেসির জীবনের শেষ বিশ্বকাপ। তারা যদি শিরোপা জিততে পারে, তাহলে তারা হবে তিনটি বা তারও বেশি বিশ্বকাপ জেতা চতুর্থ দল।
আসরের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনা অনেক ভুগেছে। তবে সেসব ভুলিয়ে দিয়ে মেসির নেতৃত্বে একদল তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারকে নিয়ে দারুণ খেলে পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনার তরুণ কোচ লিওনেল স্কালোনি অভিজ্ঞ লুই ফন হালের বিপক্ষে একটা ট্যাকটিকাল লড়াই জিতেছে। তারা পেনাল্টি শুট আউটে আরও শক্তিশালী হয়েই মাঠে নেমেছিল আর নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে। এবার মেসির জন্য কাপ জেতার লক্ষ্য থেকে আর্জেন্টিনা মাত্র দুই ম্যাচ দূরে।
একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি চাইব লিওনেল মেসির হাতেই বিশ্বকাপটা উঠুক। সেটাই হবে দুই বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া ম্যারাডোনার প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি।
পর্তুগাল-মরক্কো ম্যাচ নিয়ে আমার কলামে লিখেছিলাম, ‘আরেকটা মরক্কো চমক হতেই পারে।’ হ্যাঁ, সেটাই হলো। তবে এবার আর চমক বলতে চাই না। যোগ্য দল হিসেবেই সেমিফাইনালে পা রাখল আফ্রিকার দেশটি। তাদের কৌশলের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো পর্তুগাল।
পর্তুগাল যত সুযোগই তৈরি করুক, মরক্কোর মিডফিল্ডার বা ডিফেন্ডাররা কখনোই তাদের জায়গা দেয়নি। পরাস্ত হলেও সঙ্গে সঙ্গে বল কাড়ার চেষ্টা করেছে। হাল ছাড়েনি। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় যখন পরাস্ত হওয়ার পর ছেড়ে দেয়, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় বল নিয়ে আমি কী করব। কিন্তু কেউ পরাস্ত হওয়ার পর পেছন পেছন আসতে থাকলে তখন আসলে পরের কাজটা ঠিকঠাক করা যায় না। সেই হিসাব করলে বলব মরক্কো সবসময় লড়াইয়ের মানসিকতায় ছিল। ওদের অধিনায়ক রোমান সাইস ব্যথা পাওয়ার পর বসে গেলেও খেলায় তার প্রভাব পড়েনি। সোফিয়ান আমরাবাত আবারও সবাইকে মুগ্ধ করেছে নিজের পারফরম্যান্সে।
এখন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে মরক্কোকে। রোমান সাইস খেলতে না পারলে দলের জন্য সেটা বড় ধাক্কা হবে। তবে এখন আর হারানোর কিছু নেই তাদের। তাই ফ্রান্সকেও পরাস্ত করার চেষ্টা করবে তারা। বলতেই হয়, এই মরক্কো ভয়ের ফ্রান্সের জন্যও।
তবে এমনিতে হিসাবে করলে ফ্রান্স অবশ্যই এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে। মরক্কোর ইতিহাস গড়া জয়ের দিনেই আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচের বিশ্লেষণে যদি আসি, ইংল্যান্ড বল পজিশন বেশি রেখেছে। দুটি পেনাল্টি পেয়েছে ইংল্যান্ড। আমি বলব দুটিই তাদের বোকার মতো উপহার দিয়েছে ফ্রান্স। এই মানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এটা আশা করার মতো না। হ্যারি কেইন অবশ্য দ্বিতীয় পেনাল্টিটা মিস করল। ওই মিসটা না হলে খেলা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াত।
ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যে ফাইনালে ওঠার লড়াই হবে। আরেক সেমিফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়াটদের বিপক্ষে ব্রাজিল তো প্রায়ই ম্যাচ বের করে নিয়েছিল। গত বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সসহ যদি চিন্তা করি, ফ্রান্সের মতো ক্রোয়েশিয়াও দারুণ পেশাদার নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশ্রণটা খুব ভালো। মিডফিল্ড তো বিশ্বমানের। তবে এবারের আর্জেন্টিনাও আবার একেবারে ভিন্ন দল। বিশেষ করে লিওনেল মেসি তো অপ্রতিরোধ্য। প্রতিপক্ষ দল কোনো প্ল্যানেই তাকে আটকাতে পারছে না। পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। তাই মেসির জন্য আর্জেন্টিনাই এগিয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এক বছরেরও কম। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচন হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সংসদ থেকে পদত্যাগ করা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো আন্দোলন করছে।
এ ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ রয়েছে বিদেশিদের। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে এই চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিদেশিদের মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অনেক বেশি। এর আলামত দেখা যাচ্ছে কয়েক মাস ধরে। নির্বাচন ছাড়াও দেশটি মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীন প্রশ্নে অনেক সোচ্চার। ২০২১ সালের ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি।
সরকারের তরফ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য তারা বিদেশিদের উদ্যোগ নিতে বলছে। একই সঙ্গে সরকার যেকোনো চাপে নতি স্বীকার করবে না, সেটাও বলেছে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯০ সালে দেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি আসার পর থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানা সবক দিতে থাকে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
তাদের মতে, বরং নির্বাচন ঘিরে পরাশক্তিগুলোর প্রভাব লক্ষণীয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই প্রতিবেশী দেশ এবং বড় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সরকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়ে আসছিল ভারত। ১৯৯০ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমাদের প্রভাব। আর তিন দশক ধরে বিভিন্ন কূটনৈতিক জোট, আঞ্চলিক জোট এবং সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহ বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী দেশগুলোর নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ যতই থাক না কেন, এর মূল কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা। তারা মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমাধান যদি নিজেরা না করতে পারি, তাহলে বাইরের প্রভাব বাড়তে থাকবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালী উর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে তাদের প্রভাব বলয়ে রাখতে চায়। তাদের নিজেদের দেশেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকারও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করছে। তাদের এই চাপ কাজে দেবে না।’ আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিমত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ইন্দো প্যাসিফিক কৌশল এবং ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে এবং আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণও তাই। কূটনীতিকরা বলছেন, ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষণীয়। এ ক্ষেত্রে সরকারবিরোধী বিএনপির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বারবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি কিছুটা হলেও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতি এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি সোচ্চার হলেও তাদের কূটনীতি সরকারবিরোধী দলগুলোর পক্ষে যাবে এমন ধারণা করার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। এটা যেমন সত্য, তেমনি ইন্দো প্যাসিফিক এবং এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের বোঝাপড়াটা বেশি জরুরি। আর সে কারণেই বিএনপি যতই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলুক যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে না। তাদের বক্তব্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং নির্বাচনে বিরোধীপক্ষের জন্য সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশ তৈরি করা।
কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, আগের কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী থাকলেও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতা করে বা আলোচনা করে তাদের মতামত দিয়েছে। কিন্তু ইন্দো প্যাসিফিক কৌশল এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নির্বাচন নিয়ে পরামর্শ এবং তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে বেশি সোচ্চার।
বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে। এরপর থেকেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপও হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাদের সফরে আগামী নির্বাচন, বিরোধীপক্ষের প্রতি সরকারের আচরণ, মানবাধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকার, আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
গত ২১ মার্চ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃত করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয় দেখানোসহ গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত সম্মান ও অংশীদারিত্বের মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে মানবাধিকারের বিষয়গুলো উত্থাপন করে। এটা তারা চালিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রহের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বলয় বাড়াতে চায় দেশটি। এরই মধ্যে দেশটি এশিয়ায় তাদের বন্ধু দেশগুলোকে নিয়ে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ (আইপিএস) পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ইন্দো-প্যাসিফিক ফোরাম গঠন করা হয়েছে। একই কৌশলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারত সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে কোয়াড গঠন করেছে। এগুলোর লক্ষ্য হলো চীনের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলে একটি শক্তিশালী বলয় গঠন করা। ভারতের পাশাপাশি এ বলয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকেও চায়। বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই চীনের বলয়ে না যেতে পারে, সেই কৌশলের অংশ হিসেবেও আগামী নির্বাচন ঘিরে চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে দেশটি। যদিও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো জোটেই যায়নি। আবার ‘বার্মা অ্যাক্ট’ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবে তারা বাংলাদেশকে পাশে চায়। এসব কারণে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নানা ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুসহ ঢাকায় সফররত দেশটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক কথা বলেন। এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বিভিন্ন বক্তব্যেও নির্বাচনের পরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তারও বলেছিলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে তারা সরকারকে এবং এই দেশকে সহযোগিতা করেব। তিনি সেই সময় দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাস ও ইউএসএইডের বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব তুলে ধরেন।
গত বছরের অক্টোবরে ঢাকায় এসেই এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন দেখতে চায়। এরপর থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায় অভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো একটি দলকে সমর্থন করে না। তারা চান জনগণ তাদের পছন্দের সরকার নির্বাচন করবে।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ১৪টি দেশের কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন নিয়ে তাদের মনোভাব তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অভিনন্দন বার্তায়ও বাংলাদেশে সবার জন্য উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দিবসটি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শুভেচ্ছা বার্তায় অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে লেখা বাইডেনের এ বার্তায় বর্তমান সরকার ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসাও করা হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সিলর ডেরেক এইচ শোলে তার ঢাকা সফরে বলেছিলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, অর্থাৎ যারা পরাজিত হবেন, তারাও যেন মনে করেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হয়েছে এমনটাই তারা চান। তিনি বলেছিলেন, শক্তিশালী সুশীল সমাজ, মুক্ত গণমাধ্যম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে নেতিবাচক প্রশ্ন উঠবে না। এই পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও শোলে জানান।
ডেরেক শোলে চলে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, সরকারপক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে তারা অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। তারা সরকারের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত। তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী নির্বাচন নিয়ে তারা তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। যখনই প্রয়োজন হবে, তারা সেটা জানাবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ নেই। এই সুযোগটা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোই করে দিয়ে আসছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী অবস্থান চায়। এ জন্যই তারা কথা বলছে।’
রমজানের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষায় সবার দায়িত্ব রয়েছে। কারও কোনো অবহেলা কিংবা গর্হিত কাজে রোজাদারের রোজা পালনে অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি মুসলমানরা যেন নির্বিঘেœ ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা। মাহে রমজান ও রোজাদারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা। সকল প্রকার গোনাহ পাপাচার এবং অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা।
রোজাদারদের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা। তারা যেন সুন্দরভাবে মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারে, সে জন্য মসজিদের আশপাশের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করা। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাহরি ও ইফতারে পচা-বাসি খাবার বিক্রি না করার বিষয়ে নজরদারি করা। মশার কামড় রোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।
নানা কারণে অনেকে রোজা রাখতে পারেন না। এ কারণে ব্যক্তিভেদে মাসয়ালা প্রয়োগ হবে। কিন্তু রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করা, রোজা ও রোজাদারের প্রতি সম্মান না দেখানো অনেক বড় ধৃষ্টতা। এগুলো থেকে বিরত থাকা চাই। প্রকাশ্যে ইসলামের কোনো বিধানের অমর্যাদা, রোজার মূল চেতনা ক্ষুণœ হয় এমন বিষয়ে লিপ্ত থাকা নাফরমানির অন্তর্ভুক্ত। জেনেবুঝে সংঘবদ্ধভাবে এমন নাফরমানি আল্লাহর ক্রোধ বাড়িয়ে দেয় এবং অনেক বড় দুর্গতি ডেকে আনে। আল্লাহর ওয়াস্তে রমজানের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এসব গর্হিত আচরণ থেকে নিবৃত্ত থাকা চাই।
মনে রাখতে হবে, রমজান তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জনের মাস। এ মাসে করণীয় হলো তাকওয়া অর্জনে এগিয়ে আসা। কিয়ামুল লাইলের (তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ) প্রতি যতœবান হওয়া। কোরআন নাজিলের মাস হিসেবে তেলাওয়াতে কোরআন, তাদাব্বুরে কোরআন (কোরআনের আয়াত ও হেদায়েত নিয়ে চিন্তাভাবনা) এবং আমল বিল কোরআনের (কোরআনের আমল) প্রতি মনোযোগী হওয়া। যাদের কোরআন তেলাওয়াত সহিহ নেই তেলাওয়াত সহিহ করা। বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া-দরুদ, তওবা-ইস্তিগফার, জিকির-আজকার ইত্যাদিতে সময় ব্যয় করা। সর্বাবস্থায় সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ব চর্চায় মনোযোগী হওয়া। অধিক পরিমাণে দান-সদকা করা এবং সব ধরনের কল্যাণকর কাজে এগিয়ে আসা। সংযম বজায় রাখা। প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের আত্মিক উৎকর্ষের প্রতি মনোনিবেশ করা।
রমজানের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলোর ব্যাপারে যতœবান হওয়া। যেমন সাহরি, ইফতার, তারাবি, তাহাজ্জুদ, শবেকদর ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর ব্যাপারে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা। এ মুহূর্তগুলোর যে বিশেষ আমল রয়েছে তাতে আত্মনিয়োগ করা। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালতে ইবাদতের পরিবেশ গড়ে তোলা। মসজিদগুলো ইবাদতের মাধ্যমে আবাদ রাখা। মোদ্দা কথা, এই এক মাসে তাকওয়ার মেহনতের মাধ্যমে গোটা বছরের ইমানি, আমলি এবং রুহানি জিন্দেগির পাথেয় সংগ্রহ করা।
আলেমরা বলে থাকেন, রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে গেলে প্রয়োজনে বিশ্রাম করুন। কিন্তু অনর্থক গল্পে লিপ্ত হবেন না। কারণ কথায় কথা টানতে থাকে এবং আল্লাহ না করুন, বেশি কথা বললে তা ধীরে ধীরে মিথ্যা, গীবত-শেকায়েত ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকে।
রমজানে গোনাহের ধারা অব্যাহত রাখা খুবই খারাপ কথা। যেখানে ঘোষণা হতে থাকে নেকির কাজে অগ্রসর হতে, অনিষ্ট থেকে নিবৃত্ত হতে, সেখানে গোনাহের ধারা অব্যাহত রাখা অনেক বড় বঞ্চনার কারণ। বিশেষ করে অনাচার-পাপাচার ও অশ্লীলতা এবং এমন গোনাহ, যা আল্লাহর ক্রোধকে বাড়িয়ে দেয়, এমনসব বিষয় পুরোপুরি বর্জন করা। কারণ ফিরে আসার এটাই মোক্ষম সময়। কিন্তু ফিরে না এসে এর অনুভূতিও জাগ্রত না হওয়া বহুত বড় ক্ষতির বিষয়।
আজ রমজানের ৯ তারিখ। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাচ্ছে রমজান মাস। এভাবে মানুষের জীবনও একদিন শেষ হয়ে যাবে। বুদ্ধিমান তো সে, যে আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। কাজে লাগায় রমজানের বরকতময় প্রতিটি মুহূর্ত। সে অগ্রগামী হয় নেকি ও কল্যাণের পথে, তাকওয়া হাসিলের পথে এবং ব্রত হয় গোনাহ থেকে পাক-পবিত্র হয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মেহনতে।
লেখক : খতিব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ
রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা স্থানীয় যুবদলের নেতা। শুক্রবার ইফতারের আগে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।
হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইমরুল আহসান জনি, চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদক আখতার হাবিবসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন আহত হন। দুটি ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জানা গেছে, ইফতার অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে দলের কিছু কর্মী কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, যুবদল নেতাদের হামলা থামাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চ থেকে নেমে এলেও তাদের নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। পরে তিনি নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায় হামলায় অংশ নেন পল্লবী থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, পল্লবী থানা যুবদলের পিয়াস, পল্লবী থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব হোসেন পিন্টু, রূপনগর থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. আসিফ, পল্লবী থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ এবং পল্লবী থানা ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মো. মনির।
নেতাকর্মীরা জানান, এসব নেতা যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টনের অনুসারী। তবে এ বিষয়ে জানতে মিল্টনের মোবাইলে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হকের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও সাড়া দেননি তিনি।
তবে ঘটনার পর সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর আমিনুল হক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা চান। মিল্টন ও আমিনুল উভয়ই ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী।
এ ঘটনায় সংবাদকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির প্রায় অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের হেনস্তা হতে হয়। ক্ষমতায় না আসতেই সাংবাদিকদের এ অবস্থা। ক্ষমতায় আসলে তো আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি নির্যাতন করবে। এমন কোনো প্রোগ্রাম নেই যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়নি।
তারা আরো বলেন, ‘এর আগে বিএনপির কর্মীরা মাই টিভির সাংবাদিক ইউসুফের ওপর হামলা করেছে। আজকের (শুক্রবার) ঘটনা যে ঘটিয়ে থাকুক, এর দায় উত্তরের শীর্ষ দুই নেতার। আপনারা নিজেরা নিজেরা মারামারি করেন, কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলা বরদাশত করা যায় না। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন, ব্যাখ্যা দিন, ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে আর এমন হবে না, সেটি প্রকাশ্যে বলুন। মনে রাখবেন, এই সাংবাদিকরাই আপনাদের বছরের পর বছর সার্ভ করছে। তারা এভাবে মার খেলে আখেরে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সব হারাবেন’।
এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির ভাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনি ভাইসহ আহত সাংবাদিকদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিএনপির মহাসচিব মহোদয়ের প্রতি তিনি নিজে গিয়ে জনি ভাইকে উদ্ধার করেছেন। তবে ফুটেজে দেখলাম হামলাকারীদের ছবি আছে। তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দলের না হলেও চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা উচিত তারা কারা’।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে হামলায় আহত সাংবাদিকদের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক।
এ ঘটনায় মির্জা ফখরুল এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে হয় না তারা (নেতাকর্মীরা) দলকে ভালোবাসে। তারা অতিথিদের সম্মান রক্ষা করতে জানে না।’
এ সময় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আসার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের দালালেরা অনুষ্ঠানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।’
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর সমাধান করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।’
এ বছর ভারতের মাটিতে বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। তবে পাকিস্তান নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতে না খেলে বাংলাদেশে খেলতে চায় বলে খবর প্রকাশিত ছড়িয়েছিল। যে খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নাজাম শেঠি।
এমন কোনো আলোচনাই হয়নি বলে দাবি করে শেঠি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে কোনো পর্যায়ে আমি আইসিসির প্রসঙ্গ কিংবা অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ২০২৩ বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি। এখন পর্যন্ত আইসিসির কোনো সম্মেলনে এই বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিশ্বকাপের আগে সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে বসবে এশিয়া কাপ। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে খেলতে প্রতিবেশী দেশে যেতে রাজি নয় ভারত। তাই তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের কথা ভাবছে এসিসি। নাজাম জানিয়েছেন এখনো বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আছে।
এদিকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচ বাংলাদেশে হওয়ার খবর প্রসঙ্গে শুক্রবার মুখ খুলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। আসলে আমি এটা টিভিতে দেখেছি। আইসিসি বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেউ আমাদের কিছু বলেনি।’
রুতুরাজ গয়কোয়াডের দাপুটে ব্যাটিংয়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ল চেন্নাই সুপার কিংস। যা তাড়া করতে নেমে শুভমন গিলের পর রাহুল তেওয়াতিয়া ও রশিদ খানের নৈপুণ্যে জয় তুলে নিল গুজরাট টাইটান্স।
আহমেদাবাদে শুক্রবার আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন গুজরাট। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তারা ৪ বল হাতে রেখে ছুঁয়েছে।
গিল সর্বোচ্চ ৩৬ বলে ৬৩ রান করেছেন ৬ চার ও ৩ ছক্কায়। শেষ দিকে তেওয়াতিয়ার ১৪ বলে অপরাজিত ১৫ ও রশিদ খানের ৩ বলে অপরাজিত ১০ রান দলকে জয় এনে দেয়।
চেন্নাইয়ের পক্ষে রাজবর্ধন হাঙ্গার্গেকর ৩৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চেন্নাই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। রুতুরাজ সর্বোচ্চ ৯২ রান করেন। তার ৫০ বলের ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ৯ ছক্কা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তাকে প্রায়ই বিভিন্ন ভাইরাল ইস্যু নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলতে দেখা যায়। যুবলীগে পদ পেয়েও পরে অব্যাহতি পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেশ রূপান্তরের সাথে মুখোমুখী হয়েছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল।
সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে আপনি যে ভিডিও আপলোড করেন এর প্রধান উদ্দেশ্য কি টাকা ইনকাম করা?
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে টাকা ইনকামের সুযোগ আসার কয়েক বছর আগে থেকেই আমি ভিডিও আপলোড করি। আমার প্রথম যে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল তখন মনিটাইজেশন নামে কোন শব্দের সাথে আমরা পরিচিত ছিলাম না। আমার ফেসবুক থেকে যে ইনকাম হয়, ব্যারিস্টারি থেকে যে আয় হয় এবং বিদেশে থাকা আমার পরিবারের মানুষেরা যে টাকা পাঠান তার সব আমি মানুষের জন্য খরচ করি। এর প্রমাণ হিসাবে দেশে বিদেশে আমার নামে কিংবা আমার পরিবারের কারও নামে কোন ফ্ল্যাট নেই।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া স্যার ইস্যু নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
স্যার ম্যাডাম মহোদয় এইগুলো নাম নাম মাত্র। আমার প্রশ্ন হচ্ছে কাজে কতটুকু এগোলাম আমরা। একজন মানুষ যে কাজে সরকারী অফিসে যান সেই কাজ টা যদি ঠিক মত হয় তাহলে কি নামে ডাকলেন সেটা কোন সমস্যা বলে আমার কাছে মনে হয়না। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কেবল সময়ের অপচয় মাত্র।
আপনি নমিনেশন চাইবেন আওয়ামী লীগ থেকে?
আমি আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন চাইব। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় আমি নির্বাচন করব। না হলে দল যাকে নমিনেশন দেবে আমি তার হয়ে কাজ করব।
যুবলীগ থেকে আপনাকে বহিষ্কারের পর আপনার কেমন লেগেছিল, আপনার অবস্থানে কি আপনি অনড়?
আমার কাছে একদম খারাপ লাগেনি। নেতা যাকে ইচ্ছে নিতে পারেন, আবার প্রয়োজন না হলে ফেলে দিতে পারেন। আমাকে যখন যুবলীগে নেওয়া হয়েছিল, তখন হয়তো আমাকে প্রয়োজন ছিল, এখন মনে হয় হয়তোবা আমি যেভাবে কাজ করি তা উনাদের পছন্দ না। তবে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম সে বিষয়ে আমি অনড়। একজন ওসি কখনো নির্দিষ্ট এমপি কে খুশি করার জন্য স্লোগান দিতে পারেন না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আপনাকে কথা বলতে কম দেখা যাচ্ছে কেন ?
দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি তা বিশ্ব পরিস্থিতির অংশ। শ্রীলংকা, পাকিস্তানের মত দেশ দেউলিয়া হয়ে গেছে। আমরা টিকে আছি। আমাদের অধিকাংশ জিনিস আমদানি করতে হয়। তাই এ সমাধান আমাদের হাতে নেই। তবে আমি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি নিয়ে কথা না বললেও দুর্নীতি নিয়ে কিন্তু প্রতিদিন কথা বলতেছি। দুর্নীতি আর টাকা পাচার যদি বন্ধ করা যেত তাহলে জিনিস পত্রের দাম এত বাড়ত না। তাই বলতে পারেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা আমার অন্য সবকিছুকে কাভার করে।
শোনা যায় অনেকেই রাজনীতি করে কানাডায় বাড়ি কিনছেন, এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
রাজনীতিকে এখন ওনারা ধারণ করেন না। এমপি পদ টাকে তারা আরও সম্পদ উপার্জনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওনারা মনে করেন পরেরবার এমপি মন্ত্রী হতে পারেন বা না পারেন টাকা বানিয়ে ফেলি যাতে আর অসুবিধা না হয়।
আব্দুস সালাম মুর্শেদিকে নিয়ে বানানো ভিডিও সরিয়ে ফেলতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন।এটা কি আপনার পরাজয়?
সালাম মুর্শেদিকে নিয়ে আমি অনেকগুলো ভিডিও বানিয়েছি। এর মধ্যে মাত্র ২টা ভিডিও সড়াতে হয়েছে। মামলা চলাকালীন সময়ে মামলার মেরিট যেন নষ্ট না হয় এর জন্য ভিডিও সড়াতে বলা হয়েছে। এটাকে আমি পরাজয় মনে করি না।
বর্তমান সরকারকে অনেকে অনির্বাচিত বলেন, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?
সংবিধান মেনে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে। রাজনৈতিক বিষয়ে যা ঘটেছে বা ঘটছে তা সবাই দেখতে পাচ্ছেন। এ নিয়ে আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে আপনার অবস্থান কি?
পারস্পরিক আস্থার অভাব হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর বিশ্বাস কতটুকু সেটাও ভেবে দেখতে হবে। একটা সময় আওয়ামী লীগ এই দাবিতে আন্দোলন করেছিল তখন কিন্ত বিএনপি এই দাবি মেনে নেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বিষয়টা এমন নয়।
রাজনীতির চেয়ে সামাজিক ইস্যুতে আপনাকে বেশি কথা বলতে দেখা যায়। এটা কি সুবিধাজনক অবস্থান?
একজন সাধারণ মানুষ হিসাবেই আমার রাজনীতিতে আসা। আমার বাবা বা অন্য কেউ এমপি মন্ত্রী নয়। যে আমি এমনি এমনি রাজনীতিতে আসছি। আমি সামাজিক কাজ করতে করতে এ জায়গায় আসছি। আমি যদি রাজনীতিতে পুরোদমে প্রবেশ করি তখনও দেখবেন আমি সামাজিক বিষয় নিয়ে কথা বলব কাজ করব।
সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আপনার অবস্থান?
একটা ভিডিওতে তিন লাখ টাকা সাকিবকে দেওয়া নিয়ে আমার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সোনারগাঁ হোটেলের লবিতে সাকিব আমাকে মারতে আসেন। আমি মনে করি, সাকিবকে কোটি মানুষ অনুসরণ এখন তিনি যদি জুয়ার এম্বাসেডর হন টাকার লোভে মার্ডারের আসামীর দাওয়াতে যান তাহলে আমাদের দুর্ভাগ্য।
ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
আমি সরাসরি বলব বাংলাদেশের ফুটবল ধ্বংস করার কারিগর কাজী সালাউদ্দীন ও আব্দুস সালাম মোর্শেদি। তারা ফুটবল কে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলেও নিজেরা এগিয়ে গিয়েছেন। ফুটবলকে সিঁড়ি করে তারা নিজেকে সমৃদ্ধ করছেন।
ফুটবল নিয়ে অনেক আগ্রহ আপনার , অগ্রগতি কতদূর?
আমার ক্লাবের অগ্রগতি অনেক। গত দেড় বছরে ১২ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন লীগে খেলছেন। ৩ জন খেলোয়ার ব্রাজিলে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি সি টিমে থাকা ২/৩ জন ( যাদের বয়স ১২-১৩) আগামীতে জাতীয় দলে খেলবেন এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে দিতে পারি।
বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় বিদ্যুৎ বিভাগের ১২টি প্রতিষ্ঠান নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের ‘ইনসেনটিভ বোনাস’ প্রদান করলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ক্ষেত্রে এ সুবিধা দিতে অপারগতা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কী কাজ করবে তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে অন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা দলিল হলো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ চুক্তি করা হয়।
সূত্রমতে, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানির ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য গত ২৯ ডিসেম্বর এক সভায় ইনসেনটিভ বোনাসের সুপারিশ করা হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী তা অনুমোদন দেয়। গত ২ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী সচিব মোহাম্মদ লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এপিএ অর্জনের সামগ্রিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ইনসেনটিভ বোনাস প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শতকরা ৯৯ দশমিক ৩২ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটিকে তার কর্মীদের ১ দশমিক ৫টি ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ডিপিডিসি এবং ওজোপাডিকোকে ১ দশমিক ৫টি ইনসেনটিভের সুপারিশ করা হয় যাদের প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৯৬ দশমিক ৬৯ এবং ৯৫ দশমিক ২৩। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং পিজিসিবি এ চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১ দশমিক ২৫টি ইনসেনটিভ বোনাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১টি ইনসেনটিভ বোনাসপ্রাপ্তরা হলো বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ড (৯২.০৮), নেসকো (৯২.২৫) এবং আরপিসিএল (৯৩)। এ ছাড়া ডেসকো, ইজিসিবি এবং বি-আর পাওয়ারজেন শূন্য দশমিক ৫টি ইনসেনটিভ বোনাসের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে সুপারিশ অনুযায়ী কর্মীদের বোনাস প্রদান করে। তবে পিডিবির কর্মীরা এখনো ইনসেনটিভ বোনাস পাননি। আদৌ তা পাবেন কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইনসেনটিভ বোনাস পরিশোধের অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ২ জানুয়ারি পিডিবির সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, ১টি ইনসেনটিভ বোনাস হিসেবে পিডিবির প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পিডিবির রাজস্ব বাজেটে সংস্থান আছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর পর গত ২১ মার্চ তা নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগ তাদের চিঠিতে বলেছে, এপিএ অর্জনের জন্য কর্মসম্পাদন সূচক রয়েছে, যা সরকারের প্রতিটি সংস্থার ‘রুটিন’ কাজ। রুটিন কাজের জন্য ইনসেনটিভ বোনাস দাবি করা যৌক্তিক নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশে অনেক সংস্থা আছে, যাদের বেতনভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকারের অনুদানে পরিচালিত হয়। এসব সংস্থা বা দপ্তরগুলো এপিএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে থাকে। এখন যদি পিডিবিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বোনাস দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিটি সংস্থা থেকে একই দাবি আসবে। এতে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বিঘিœত হতে পারে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবির ২০২১-২২ অর্থবছরের এপিএর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে ইনসেনটিভ বোনাস প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা হলো।
বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ফাওজুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি সন্তোষজনক না। তারপরও এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কোম্পানি বা সংস্থাকে ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া যেতে পারে তাদের কাজের পারফরম্যান্স বিবেচনায়। শুধু পুরস্কার দিলেই হবে না। পাশাপাশি কেউ যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় তাহলে শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কাজের গতি বাড়বে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে যদি ইনসেনটিভ বোনাসের কথা উল্লেখ থাকে তাহলে তারা যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে তবে এটা তাদের প্রাপ্য।
এ বিষয়ে পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগেও তারা এপিএর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বোনাস পেয়েছেন। এবারও বোনাসের আশায় বাড়তি কাজ করেছেন। হঠাৎ বোনাস না পাওয়ার খবর শুনে সবার ভেতর চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সব কোম্পানি এমনকি পিডিবির সমমনা প্রতিষ্ঠান আরইবি তাদের পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্তে অন্তত এক মাস আগে এ বোনাস প্রদান করেছে। তাদের কর্মীদের ওই টাকা খরচও হয়ে গেছে। আর আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমোদন চাওয়ার নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছি। অন্যরা পেলেও পিডিবির কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবে? সবার জন্য একই নিয়ম থাকা দরকার।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অনেক সময় অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কাজ করতে হয়। এ জন্য অনেক সময় পরিবারকে সময় দিতে পারি না। এরপরও যদি বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হয় তাহলে কর্মীরা বাড়তি কাজ করতে উৎসাহ হারাবে।’
ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভাড়া ৫৩ হাজার টাকা। এ রুটের অন্যসব এয়ারলাইনস আরও কম দামে যাত্রী বহন করলেও বিমান করে না। খালি যাবে, তাও কম ভাড়ায় যাত্রী নেয় না বিমান।
ঢাকা থেকে বিমান কত বেশি ভাড়া নেয় তা স্পষ্ট বোঝা যায় নিকটতম প্রতিবেশী শহর কলকাতার দিকে চোখ বোলালে। কলকাতার নেতাজি সুভাষ বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের তিন ভাগের এক ভাগ ভাড়া দিয়ে কুয়ালালামপুর যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে উড়ে যাওয়া এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমানের ভাড়া বেশি। বিমানের ভাড়া শুধু বেশিই নয়, এই এয়ারলাইনস ভাড়া বাড়ানোর নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে বিমান ভাড়া বাড়ায় পরে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য এয়ারলাইনসগুলো সেই সুযোগ নেয়।
অন্য এয়ারলাইনসের তুলনায় বিমানের ভাড়া বেশি এ অভিযোগ ছিল মূলত জনশক্তি রপ্তানিকারক ও ট্রাভেল এজেন্টদের। তাদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। কুয়ালালামপুর, রিয়াদ বা জেদ্দার মতো বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রবণ শহরগুলোতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দেশের বেসরকারি টেলিভিশন এমনকি খবরের কাগজগুলোতে যেচে এসে বলে যাচ্ছেন বিমান অনেক বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
কীভাবে বিমান ভাড়া বাড়ায় জানতে চাইলে একজন জনশক্তি রপ্তানিকারক জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে কী ভূমিকা রাখে তা নতুন করে বলার দরকার নেই। তাদের কর্মস্থলে পাঠাতে বা ফিরিয়ে আনতে বিমানের বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। বিমান কোনো দিন কোনো ঘোষণায় বলেনি ‘এ উদ্যোগটি শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য’। এই শ্রমজীবীদের জন্য বিমানের কোনো ছাড় নেই। বরং যখন যে ‘আদম বাজার’ চাঙ্গা হয় তখন সেখানে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় বিমান। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রচুর শ্রমিক যাচ্ছে। সেখানে ভাড়া বাড়িয়েছে সংস্থাটি। শ্রমিক এবং ওমরাহর কারণে জেদ্দার টিকিটই পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও তা অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।
এ অবস্থা থেকে বিমান কীভাবে বের হয়ে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিমান নানা পলিসি নিতে পারে। বিকল্প রুট চালু করতে পারে। ট্রানজিট দিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে নিতে পারে। এতে যাত্রীরা কম দামে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ যাত্রী যেহেতু শ্রমজীবী তাই তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। কত সময় ট্রানজিট নিয়ে গেল তা মুখ্য নয়। ঠিক এ জায়গাটিতেই এগিয়ে আছে আমাদের নিকটবর্তী শহর কলকাতা। ঢাকার তুলনায় অনেক কম দামে কলকাতার যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। সেখান থেকে পরিচালিত এয়ারলাইনসগুলো সরাসরি বা এক-দুটি ট্রানজিট দিয়ে অনেক কমে যাত্রী বহন করে। বিমান কেন পারে না সেই প্রশ্নটি কেউ তুলছে না।
এক সপ্তাহ পর আগামী ৪ এপ্রিল ফ্লাই (যাত্রা) করার জন্য গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা কুয়ালালামপুর রুটের বিমান টিকিটের দাম ছিল ৫৩ হাজার ২৭ টাকা। থাই এয়ারওয়েজ ৪১ হাজার ৭৬ টাকায়, ইন্ডিগো এয়ার ৪৩ হাজার ৬৪৪, ইউএস-বাংলা ৪৭ হাজার ১৯, এয়ার এশিয়া ৪৯ হাজার ৪৪৫, মালিন্দো এয়ারওয়েজ ৫৯ হাজার ১৯০ এবং মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ভাড়া ছিল ৬১ হাজার ৪৭২ টাকা।
অথচ কলকাতা থেকে এয়ার এশিয়া একই দিনে একই গন্তব্যে নন-স্টপ ফ্লাইটে মাত্র ১৭ হাজার ৩৭৯ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার অফার ছিল অনলাইনে। এয়ারক্রাফটের মানভেদে একই দিনে বিভিন্ন সময়ে টিকিটটির দাম ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। ইন্ডিগো এয়ার চেন্নাইয়ে একটি স্টপেজ দিয়ে ২০ হাজার ৩৩৭ টাকায় অফার দেয়। কলকাতা থেকে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটের দাম ছিল ২৯ হাজার ৬৩৯ টাকা। মুম্বাই এবং সিঙ্গাপুরে দুই স্টপেজ দিয়ে এয়ারলাইনসটি এ ভাড়া নির্ধারণ করে। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস মুম্বাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে কলকাতা থেকে ৫৪ হাজার ৩২৬ টাকায় যাত্রীদের নিয়ে যায় কুয়ালালামপুর।
ঢাকা রিয়াদ রুটে আগামী ৩ এপ্রিলের এয়ার অ্যারাবিয়ার ভাড়া ৫৪ হাজার ৯৫১ টাকা। শারজায় একটি স্টপেজ দিয়ে তারা যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কলম্বোতে একটি স্টপেজ দিয়ে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস রিয়াদ নিয়ে যাবে ৫৬ হাজার ৫৪৫ টাকায়। জাজিরা কুয়েত সিটিতে এক স্টপেজ দিয়ে ৬৫ হাজার টাকায়, গালফ এয়ার বাহরাইনে এক স্টপেজ দিয়ে ৬৭ হাজার ৬৭৭ টাকায়, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৭১ হাজার ৭১১ টাকায় সরাসরি, কুয়েত এয়ারওয়েজ কুয়েত সিটিতে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৩ হাজার ২৪৭ টাকায়, ওমান এয়ার মাস্কটে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৪ হাজার ২৩২ টাকায়, ফ্লাই দুবাই দুবাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে ৭৪ হাজার ২৬৩ টাকায়, কাতার এয়ারওয়েজ দোহায় এক স্টপেজ দিয়ে ৮২ হাজার ৫৫৭ টাকায়, এমিরেটস দুবাইয়ে এক স্টপেজ দিয়ে ৮৪ হাজার ২৩১ টাকায় রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে। আর ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ভাড়া ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৭ টাকা। ৩ এপ্রিল কলকাতা থেকে রিয়াদ যাওয়ার ভাড়াও ঢাকা রিয়াদের তুলনায় অনেক কম।
কলকাতা থেকে মাত্র ৩৫ হাজার ৩২৪ টাকায় রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। মুম্বাইতে মাত্র একটি স্টপেজ দিয়ে তারা যাত্রীদের সেখানে পৌঁছে দিচ্ছে। ওইদিন সময়ভেদে তাদের ভাড়া ৪১ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এক স্টপেজ দিয়ে ফ্লাই দুবাই নিয়ে যাচ্ছে ৪১ হাজার ৫৬০ টাকায়। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ভাড়া ৪১ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা। এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লিতে একটি স্টপেজ দিয়ে ভাড়া নিচ্ছে ৪১ হাজার ৪১৯ টাকা। গালফ এয়ার মুম্বাই এবং বাহরাইনে দুই দফা স্টপেজ দিয়ে নিচ্ছে ৪৫ হাজার ৫৮৭ টাকা। ইন্ডিগো এয়ার দিল্লিতে এক স্টপেজ দিয়ে ভাড়া নিচ্ছে ৪৮ হাজার ১৮৭ টাকা। দুবাইতে এক দফা বিরতি দিয়ে এমিরেটস কলকাতা থেকে রিয়াদের ভাড়া নিচ্ছে ৫৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। কাতার এয়ারওয়েজ ৫৯ হাজার ১৩৮ টাকায় এবং এমিরেটস ৬০ হাজার ১০৮ টাকায় একটি বিরতি দিয়ে কলকাতা থেকে রিয়াদ নিয়ে যাচ্ছে।
এসব রুটে বিমানের উচ্চমূল্য নির্ধারণই ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এর সঙ্গে আছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট কমানো এবং উচ্চ দামের সুযোগ নিতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং ২০২৩ সালে ডলারের বর্ধিত বিনিময় দর। জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিও টিকিটের দাম বৃদ্ধির কারণ।
বিমানের এমডি শফিউল আজিম বিমান ভাড়া বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি না মানলেও রিক্রুটিং এজেন্ট, ট্রাভেল এজেন্ট বা হজ এজেন্সির তরফ থেকে বরাবরই এ অভিযোগ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সাবেক মহাসচিব মাজহার ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, যখন বিমান ভাড়া বাড়ায় তখন অন্য এয়ারলাইনসগুলোও ভাড়া বাড়ায়। বিমান যখন বাড়ায় তখন কোনো সীমা মানে না। তারা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ায়।
৩৫ বছরের পেশাজীবনের কথা উল্লেখ করে মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিমানের ভাড়ার সঙ্গে কুলাতে পারছি না। একজনকে বাইরে পাঠানোর সব খরচ অনুমান করা যায়, বিমান ভাড়া ছাড়া। কারণ ৫ ডলারের ভিত্তিভাড়া তারা ৩০ ডলার থেকে শুরু করে। বিমান ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কথা বলে। কিন্তু জ্বালানি খরচ কমছে। যখন কমে তখন বিমান ভাড়া কমায় না। বিমান যেভাবে ভাড়া বাড়ায় তাতে ব্যবহারকারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ অবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার বলে তিনি মনে করেন।
বিমানের ভাড়া প্রায় মহামারীর সময়ের মতো অবস্থায় চলে গেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্টরা । বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে শ্রম আমদানিকারক দেশের গন্তব্যগুলোতে ভাড়া বেড়েছে। ঢাকা-জেদ্দা রুটে টিকিট পাওয়াই সৌভাগ্য। এ মাসের শুরুতে যে ভাড়া ছিল ৫০ হাজার তা এখন ৮০ হাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিমান ভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি খেসারত দিচ্ছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি)-ওয়েবসাইট তথ্য দিচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ২ লাখ ১৩ হাজার শ্রমিক বিদেশে গেছে। যাদের বেশিরভাগই গেছেন মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
গত বছরের শেষদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা হয়। বাজার নতুন করে শুরু হওয়ার পর ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে টিকিটের দাম আকস্মিকভাবে বেড়েছে। ব্যাংকক, কলম্বো বা অন্যান্য শহরে ট্রানজিট ফ্লাইট দিয়েও অনেক এয়ারলাইন কুয়ালালামপুরে যাত্রী বহন করছে। এতে টিকিটের দাম কমেছে ৩০-৪০ হাজার টাকা।
এবার হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ টাকা বাড়িয়ে হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হজযাত্রী এবং হাবের ধারাবাহিক বিরোধিতা উপেক্ষা করে বিমান ভাড়া বাড়িয়ে যচ্ছে। এবারও বাড়িয়েছে। গত ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হজবিষয়ক এক সভায় হাবের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াকুব শরাফতি হজে বিমান ভাড়া কমানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বিমানের এমডি ভাড়া কমানোর সুযোগ নেই বলে জানান। বৈঠকে হজে কেন বিমান ভাড়া বাড়নো হলো তার যৌক্তিকতা জনসমক্ষে তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয় এমডিকে।
ইয়াকুব শরাফতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি হজের বিমান ভাড়া কমানোর জন্য। বিমান কোনোভাবেই কমাতে রাজি হয়নি।’
বিমানের বর্ধিত ভাড়ার সুযোগে সৌদিয়া দেশ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কারণ বিমান যে ভাড়া নির্ধারণ করে সৌদিয়াও একই ভাড়ায় হজযাত্রী বহন করে। হজের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অর্ধেক বহন করবে সৌদি আরবের এয়ারলাইনস।
আটাবের সাবেক মহাসচিব মাজহার ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রধান এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি এয়ার অ্যারাবিয়ান, ফ্লাই দুবাই, সালাম এয়ারের মতো বাজেট ক্যারিয়ার বলে পরিচিত সংস্থাগুলো তাদের প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের তুলনায় কম ভাড়া নেওয়ার কথা। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে বেশি নিচ্ছে। বাজেট ক্যারিয়ার বলে পরিচিত সংস্থাগুলোও তাদের প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের চেয়ে মাত্র ৫০০ বা ১০০০ টাকা কম নিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। অথচ সরকারের কাছে তাদের প্রজেকশন ছিল তারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে অর্ধেক মূল্যে যাত্রী নেবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং কম থাকায় তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। একাধারে উপস্থাপিকা, নায়িকা এবং সংগীতশিল্পীও। সিনেমার বাইরে তিনটি গান প্রকাশ পেয়েছে তার। সে ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে নতুন গান নিয়ে আসছেন তিনি।
গানের শিরোনাম ‘বুঝি না তো তাই’। বাঁধনের লেখা এ গানটির সংগীতায়োজন করেছেন বলিউড র্যাপার মুমজি স্ট্রেঞ্জার। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফারিয়া। বাবা যাদবের কোরিওগ্রাফিতে ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন ফারিয়া ও মুমজি। আসছে ঈদে উন্মুক্ত হবে গানটি। গানটি প্রকাশ করবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।
সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে গানটির টিজার, যা দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এরমধ্যে সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে গান ভিডিওর দৃশ্যের একটি ছবি পোস্ট করেন এ গায়িকা। সেখানে ক্যাপশনে লিখেন, মাই হাইট ইজ ৫' ৩'' বাট অ্যাটিচিউড ৬' ১''।
গানটি প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছিলেন, ‘নতুন এ গানটি বেশ আনন্দের সঙ্গে করেছি। আমার আগের তিনটি গানের মতো এটিও বেশ মজার। আমার বিশ্বাস এটি সবার পছন্দ হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ‘পটাকা’ গানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঘরানার গানে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন নুসরাত ফারিয়া। এরপর ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রকাশ পায় ‘আমি চাই থাকতে’ ও ‘হাবিবি’। আসছে ঈদুল ফিতরে এ অভিনেত্রী গায়িকা হিসাবে চতুর্থবার হাজির হচ্ছেন দর্শক শ্রোতাদের সামনে।
দেশে ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি ইন্টারনেট সেবা চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। অন্য অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক একই সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সব মোবাইল অপারেটরই দেশের বেশিরভাগ স্থানে ফোরজি সেবা চালু করেছে। আর সে হিসেবেই তারা ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু গ্রাহকরা ফোরজি ইন্টারনেট কিনলেও দেশের অনেক এলাকায় টুজি-থ্রিজি’র সেবা পাচ্ছেন। তারা অপারেটর কোম্পানিগুলোকে এ ব্যাপারে বারবার অভিযোগ জানালেও এর সুরাহা হচ্ছে না।
জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে মোটামুটিভাবে গ্রাহকরা ফোরজি সেবা পাচ্ছেন। তবে এসব এলাকায়ও অনেক সময় ফোরজি থাকে না, থ্রিজিতে নেমে আসে নেটওয়ার্ক। তবে জেলা পর্যায়ে বেশিরভাগ সময়েই থাকে থ্রিজি। আর মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ সময় সেই থ্রিজিও থাকে না, তখন টুজি নেটওয়ার্কই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ইন্টারনেট প্যাকেজ যথাযথভাবে থাকার পর তা কাজ করে না, বাফারিং হয়। এতে গ্রাহকরা ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো সারা দেশের ব্যবসা একত্রে হিসাব না করে এলাকাভিত্তিক ব্যবসার হিসাব-নিকাশ করার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দেখেন, কোন এলাকায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা কত, সেখানে কত সিমে ইন্টারনেট চালু আছে। যদি দেখা যায়, তাদের হিসাব মতে তা সন্তোষজনক আছে তাহলে সেখানে ফোরজি সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বহাল রাখে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক টাওয়ার নির্মাণ করে। কিন্তু যদি দেখে সন্তোষজনক গ্রাহক নেই তাহলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় না, এতে সেই এলাকায় ফোরজি পাওয়া যায় না। অথচ শহর এলাকাগুলোতে তারা বেশি ব্যবসা করলেও সেটাকে হিসাবে ধরে না। কিন্তু মফস্বল এলাকা থেকে কল বাবদ প্রয়োজনের বেশি ব্যবসা হলেও তা ইন্টারনেটের সঙ্গে সমন্বয় করে না।
মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর ফেসবুক পেইজে প্রতিনিয়ত অসংখ্য অভিযোগ জানান গ্রাহকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেটরদের মধ্যে টেলিটকের নেটওয়ার্কই বেশি দুর্বল। টেলিটকের ফেসবুক পেজের এক পোস্টে মো. ফয়জুল ইসলাম লেখেন, ‘ভাই, নেটওয়ার্ক পাই না সকাল থেকে। মিরপুর-২ নম্বরে বাসা স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে। আর আমার গ্রামের কথা না হয় বাদ দিলাম।’ আরাফাত আলী লেখেন, ‘২জিবি নেট কিনলে দেড় জিবি নষ্ট হয়। মেয়াদ ১৫ দিন তাও ফুরাতে পারি না। তাহলে বুঝেন নেটওয়ার্ক কত ভালো।’ কার্জন চাকমা লেখেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় ফোরজি নিশ্চিত করুন। আমাদের পার্বত্য এলাকাগুলোতে টেলিটকের গ্রাহক সবচেয়ে বেশি, কিন্তু শুধু থ্রিজি-টুজিতে সীমাবদ্ধ।’ রাসেল আহমেদ লেখেন, ‘গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাংগা গ্রামে থ্রিজি নেটওয়ার্ক তো নেই-ই। মাঝেমধ্যে টুজি’ও নেই। বুঝুন অবস্থাটা। আমাদের থ্রিজি সেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন।’
টেলিটকের মহাব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) নুরুল মাবুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ফাইভজি রেডিনেস প্রজেক্ট শুরু করেছি। যা শেষ হতে এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় লাগতে পারে। এর ফলে আমাদের কাভারেজ এলাকাগুলোতে ফোরজি সেবা নিশ্চিত হবে। এছাড়া আমাদের কাভারেজ বাড়ানোরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাংলালিংকের পেজের একটি পোস্টে মাহাদী হাসান তালহা লেখেন, ‘আমার এলাকায় আপনাদের সিম ব্যবহার করতে হলে ফোন গাছের ডালে বেঁধে লাউডস্পিকার দিয়ে কথা বলা লাগে। এত্তো ফাস্ট কেন আপনাদের নেটওয়ার্ক।’ আকরাম হোসাইন লেখেন, ‘ভাই আপনাদের সবই ঠিক, তবে নেটওয়ার্ক সেøা।’
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অফিসার তৈমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফোরজি সেবার জন্য ২৩০০ মেগাহার্জের স্পেকটার্ম প্রয়োজন হয়। কিন্তু টুজিতে তা লাগে মাত্র ৯০০ মেগাহার্জ। আমরা ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ কাভারেজ এলাকায় ফোরজি সেবা নিশ্চিত করেছি। তবে আমাদের আরও বেশি সাইট লাগবে। যদি সব অপারেটর মিলে আমরা টাওয়ার শেয়ার করতে পারি, তাহলে সব গ্রাহকের কাছে ভালো সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।’
রবির পেজে এক পোস্টে তানভীর আহমেদ লেখেন, ‘কলাপাড়া থানা শহরে যদি থ্রিজি নেটওয়ার্ক না পাওয়া যায়, এরচেয়ে দুঃখজনক কিছুই হতে পারে না।’ এইচএমএম ইসমাঈল লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার চম্পকনগর ইউনিয়নে রবি সিমের থ্রিজি নেই। অথচ অনেক বছর আগে রবি টাওয়ার বসানো হয়েছে। আমরা রবি সিম দিয়ে ইন্টারনেট চালাতে অক্ষম।’
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলটরি অফিসার শাহেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাভারেজ এলাকায় ফোরজি সেবা রয়েছে। তবে দেখা যায়, অনেক ফোন ফোরজি সাপোর্ট করে না। আর কাভারেজ এলাকা থেকে যতদূরে যাওয়া যাবে, নেটওয়ার্ক তত কমতে থাকবে। এছাড়া আমাদের কিছু জায়গায় নেটওয়ার্কের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন কিছু টাওয়ার তৈরির কাজও আমাদের চলছে।’
গ্রামীণের পেইজে একটি পোস্টে রহিদুল ইসলাম লেখেন, ‘ভাই আমি যখন গ্রামে যাই তখন নেটওয়ার্কের ঝামেলা হয়।’ সাইদুর রহমান লেখেন, ‘এমন সার্ভিস হলে চলবে? কলরেট, ইন্টারনেটের দাম তো ঠিকই বেশি আপনাদের, বাকি সব অপারেটরদের থেকে।’
গত বছরের ২৮ এপ্রিল টেলিকম অপারেটররা বহুল প্রতীক্ষিত ‘আনলিমিটেড’ ও ‘মেয়াদবিহীন’ ইন্টারনেট ডাটা প্যাক চালু করেছে। তবে এতে গ্রাহকদের খুব বেশি সুবিধা হচ্ছে না। কারণ এজন্য প্যাকেজের দাম বাড়িয়েছে অপারেটররা। আর মেয়াদহীন ইন্টারনেট পেতে প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাকেজ চালু করতে হবে। কিন্তু গ্রাহকের সব সময় একই ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে অব্যবহৃতই থেকে যাচ্ছে গ্রাহকের কেনা ইন্টারনেট। এছাড়া মেয়াদবিহীন হিসেবে মোবাইল অপারেটররা যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে গ্রাহকদের।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সচল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার। এরমধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার, রবির ৫ কোটি ৫০ লাখ ১৪ হাজার, বাংলালিংকের ৪ কোটি ৮৫ হাজার এবং টেলিটকের ৬০ লাখ ৬৭ হাজার। আর গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৫০ লাখ। এরমধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১১ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি ও পিএসটিএন)-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ১১ লাখ ৮৭ হাজার গ্রাহক।