ঘানার শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা গান্ধীকে ঘানার রাজধানী আক্রার ওই শিক্ষার্থীরা কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন।
দুই বছর আগে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ঘানায় গান্ধীর এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করেন। এটিকে এতদিন দুই দেশের বন্ধনের প্রতীক হিসেবে মনে করা হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকরা সম্প্রতি এই ভাস্কর্য সরাতে অনলাইনে একটি পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশনে তারা গান্ধীর একটি লেখার কথা উল্লেখ করেন।
গান্ধীর ওই লেখায় কৃষ্ণাঙ্গদের চেয়ে ভারতীয়দের ‘উঁচু স্তরের’ বলা হয়েছে। এমনকি ‘কাফির’ও বলা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের অবহেলা করে ‘কাফির’ বলে সম্বোধন করতো।
বিংশ শতাব্দীতে যে কজন ব্যক্তিত্ব আঞ্চলিক রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন, গান্ধী তাদের মধ্যে অন্যতম। অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন।
১৮৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করা গান্ধী যুবক বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করতেন। ১৮৯৩ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় কৃষ্ণাজ্ঞদের প্রতি তার কিছু বক্তব্য নিয়ে সব সময় সমালোচনা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশিক্ষা এবং সাহিত্য বিভাগের প্রধান ওবাডেলে কামবোন আলজাজিরাকে বলেন, আত্মসম্মান বোধ থেকে তারা গান্ধীর ভাস্কর্য সরিয়েছেন।
“যদি আমরা নিজেদের প্রতি কোনো সম্মান না দেখাই, যদি দেশের নায়কদের বাদ দিয়ে অন্যের প্রতি সম্মান দেখাই, তখন সেটি দৃষ্টিকটু” মন্তব্য করে কামবোন বলেন, “কৃষ্ণাজ্ঞদের সম্মান রক্ষায় এটি একটি বিজয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি। ঘানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, “বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।”