লক্ষ্মীপুরে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নৌকা ও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগকালে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পৃথক স্থানে এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পৌর শহরের ১১নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু হিন্দু বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে রাত ৮টার দিকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ চলাকালে নৌকা সমর্থকরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

এ সময় যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন, বাঙ্গাখা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ মিয়া, যুবদল নেতা সহিদ, আব্দুল করিমসহ সাত নেতাকর্মী আহত হন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশাপাশি এলাকায় নৌকার প্রচারণায় পাল্টা বিএনপি সমর্থকরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ।

এতে জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ ভূঁইয়া ও নজরুলসহ তিনজন আহত হন বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে পৌর শহরের ১১নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণ কুমারের বাড়ির একটি রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। পরে টের পেয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ওই বাড়ির ৩৬টি পরিবার আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের প্রধান সমন্বয়কারী সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এসময় আমাদের সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”

জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ ভূইয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “রাত ৯টায় গণসংযোগ শেষ করে বাঙ্গাখা থেকে ফেরার পথে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকলে আমিসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত হয়।”

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে শুনেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।