নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হলেও চালু হয়নি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ভোলা সদর হাসপাতাল। ধীরগতিতে চলা নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চিত কর্তৃপক্ষ। ফলে পুরোনো ১০০ শয্যার হাসপাতালেই প্রতিদিন চলছে ৩০০ থেকে চার শতাধিক রোগীর চিকিৎসা। ভাঙা দরজা-জানালা আর শয্যাসংকটের কারণে তীব্র শীতে মেঝেতে থেকে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোনো কোনো রোগী। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। দ্বীপ জেলা ভোলার ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ভোলা সদর হাসপাতাল। অন্যত্র যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ না হওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলা থেকে প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন কয়েক শ রোগী। হাসপাতালটি পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কখনো কখনো মেঝেতে জায়গা পেতেও কষ্ট হয় রোগীদের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, শয্যাসংকট আর অব্যবস্থাপনা সব মিলে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১৪ সালে শুরু হয় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ। ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাততলা ভবনটিতে থাকবে স্বাস্থ্যসেবার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুুবিধা। ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০১৭ সালে কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, নির্মাণকাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ কাজ না হওয়ায় প্রায় ছয় মাস ধরে ভবনটি পড়ে আছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মা সালেহা বেগম গত রোববার বলেন, ঠা-াজনিত কারণে শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া আরো অনেকে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তিন দিন মেঝেতে শুয়ে থেকেও শয্যা না পাওয়ার কথা জানান কহিনুর বেগম।
ভোলার আলীনগর থেকে আসা রোগীর স্বজন সোহেল বলেন, কয়েক বছর ধরে নির্মাণাধীন হাসপাতালের নতুন ভবনটি এখনো চালু না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত ভবনটি চালুর দাবি করেন তিনি।
সিভিল সার্জন রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ না হতেই ভর্তি থাকা রোগীদের নাম কেটে দিয়ে শয্যা খালি করেও কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। নির্মাণকারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি হস্তান্তর করলে অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালটির ভবন নির্মাণকারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইম খান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঠিকাদারের মৃত্যুসহ বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হলেও ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। খুব শিগগিরই বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হলে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।