অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রয়াত হয়েছেন পরিচালক আমজাদ হোসেন, সাইদুল আনাম টুটুল ও চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন। এই রূপালি ফিতার সোনালি মানুষদের স্মরণে নাট্যদল প্রাচ্যনাট শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলের লবিতে পরিবেশন করবে মিউজিক্যাল ইম্প্রোভাইজেশন পারফরম্যান্স ‘খাঁচা ভাঙ্গার গান’।
এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে প্রাচ্যনাটের নাটক ‘সার্কাস সার্কাস’। এই প্রদর্শনীও তিন কীর্তিমানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে।
‘সার্কাস সার্কাস’ প্রাচ্যনাটের প্রথম মূলধারার নাট্য প্রযোজনা। প্রথম প্রদর্শনীর পর খুব শিগগিরই প্রযোজনাটি বছরের সেরা প্রযোজনাগুলোর একটি হিসেবে মর্যাদা পায়। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) ১৯৯৮ এর বাৎসরিক প্রতিবেদনে ‘সার্কাস সার্কাস’কে নতুন একটি দলের প্রযোজনা হিসেবে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
নাটকটির কাহিনি এমন- দ্য গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস নামে একটি সার্কাস দল তার প্রতিষ্ঠাতার হাত ধরে এক সময় প্রচুর খ্যাতি অর্জন করে। দলটি এখন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতার ভাই। তিনিই সার্কাস দলটিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ধ্বংসাবস্থা থেকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
ঘটনাক্রমে, সার্কাস দলটি একটি গ্রামে আসে শো করতে। দলটিতে সমস্যার অন্ত নেই। অদক্ষ খেলোয়াড়, সদস্যদের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যা আরও ঘনীভূত হয় যখন মৌলবাদের কালো থাবা এসে পড়ে। স্থানীয় ধর্মীয় প্রভাবশালী নেতারা সার্কাস শো বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। শুধু দলের বাইরে থেকে নয়, ভেতরেও কলহের সূত্রপাত হয়। এমনি এক সময়ে ধর্মান্ধরা ছোবল হানে ছোবলটির ওপর। দ্য গ্রেট বেঙ্গল সার্কাসে আগুন দেওয়া হয়। লাশ পড়ে তিন খেলোয়াড়ের, ভস্মীভূত হয় সার্কাসের সব পশু।