পঞ্চগড়ে আলোচনায় হুক্কা

নির্বাচনী মাঠে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার হুক্কা প্রতীক নিয়ে পঞ্চগড়ে চলছে সরব আলোচনা। এখানকার প্রবীণরা প্রতীকটাকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও এই প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা হুক্কা মার্কা নিয়ে খানিকটা মজা করছেন।

জাগপার প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের ছেলে প্রকৌশলী আল রাশেদ প্রধান পঞ্চগড়-১ আসনে হুক্কা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এখন দলটির সহসভাপতি। তার বোন জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুই পঞ্চগড়-২ আসনে একই প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন।

এদিকে হুক্কা মার্কা প্রতীক নিয়ে প্রবীণ-নবীন ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। সদর উপজেলার মীরগড় এলাকার ভোটার মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী (৭০) বলেন, ‘এক সময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে হুক্কা থাকত। এখন হুক্কার প্রচলন না থাকলেও হুক্কা মার্কা আমার পছন্দ।’ একই উপজেলার রাজনগর এলাকার প্রবীণ ভোটার মজিবর রহমান (৮০) বলেন, ‘শফিউল আলম প্রধান ও তার স্ত্রী রেহেনা প্রধান এলাকায় জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। জয়-পরাজয় বলতে পারছি না। তবে বাবা-মায়ের পরিচয়ে দুই সন্তান হুক্কা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছে। আশা করছি নির্বাচনে ভালো করবে।’ এবারের নির্বাচনে হুক্কা প্রতীক দেখে তার ভালো লাগার কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে সদরের ডোকরোপাড়া এলাকার ভোটার এস. এম. মুনিম (২২) বলেন, ‘হুক্কা একটা ধূমপানের মাধ্যম। যদিও এটার এখন আর প্রচলন নেই। তারপরও এমন একটা মার্কা আমার পছন্দ না।’ একই উপজেলার রামেরডাঙ্গা এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার (২০) এবার নতুন ভোটার। তিনি বলেন, ‘এমন মার্কা থাকা ঠিক না। এই মার্কা মানুষকে ধূমপানে উৎসাহিত করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে রাশেদ ও তাসমিয়া এ দুটি আসনে ধানের শীষ প্রতীক চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো আসনেই জোটের মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় প্রতীক হুক্কা নিয়ে তারা প্রার্থী হয়েছেন। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘জোট থেকে কোনো আসন না পেয়ে দলীয় প্রতীক হুক্কা নিয়ে পঞ্চগড়ের দুটি আসনে ভাই-বোন নির্বাচন করছি।’ নির্বাচনে তারা জয়ের জন্যই লড়ছেন বলে জানান তিনি।