কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবি ও প্রত্যাশা অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন থেকে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হলে বাঙ্গরা ও মুরাদনগর জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা অনুমোদনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় অনেকেই এটিকে বাঙ্গরা অঞ্চলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাঙ্গরাকে উপজেলা করার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে ১০টি ইউনিয়নের জনগণ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সভা ও সমাবেশ এবং গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপজেলা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বিষয়টি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অবশেষে নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, এতদিন প্রশাসনিক সেবা নিতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর সদরে যেতে হতো। একটি কাজ সম্পন্ন করতেই অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় হয়ে যেত। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি বিভিন্ন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বাঙ্গরার সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা জানান, বাঙ্গরাকে উপজেলা করা ছিল আমাদের বহু বছরের স্বপ্ন। ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
তারা জানান, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের এই অবদান বাঙ্গরার মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।