এখন ভোটের হিসাবনিকাশ

শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনেই ভোটের মাঠ এখন সরগরম। শেষমুহূর্তে এসে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে জয়ী আওয়ামী লীগ চাইছে আসনগুলো ধরে রাখতে। আর বিএনপি ব্যস্ত আসন পুনরুদ্ধার করতে। তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপির প্রার্থী একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে আরেকটি আসনে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী। অন্য একটি আসনে লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে চাচা-ভাতিজা। এসব আসনে প্রচার-প্রচারণা শেষ। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা।

শেরপুর-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গত চারটি নির্বাচনে জয়ী আতিউর রহমান আতিক। এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন সর্বকনিষ্ঠ ২৫ বছর বয়সী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। জাতীয় পার্টির ইলিয়াস উদ্দিন প্রার্থী হলেও পরে ভোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিগত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, বিভিন্ন কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর আতিকবিরোধী একটি বলয় তৈরি হয়। ওই বলয়ের নেতাকর্মীরা ‘আতিক ছাড়া নৌকা’র দাবি তুলে মাঠ গরম করলেও শেষ পর্যন্ত আতিকই দলীয় মনোনয়ন পান। প্রচার শেষে এখন আসনটিতে ভোটের হিসাব কষছে সব দলের প্রার্থী।

নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ আসনটি শেরপুরের সবচেয়ে আলোচিত। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। তিনি চারবার জিতেছেন। ২০০১ সালে কেবল হেরে যান আড়াই হাজারেরও কম ভোটে। তবে পরের নির্বাচনে জেতেন ৮১ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে। ২০০৮ সালে এক লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৩ ভোট পান মতিয়া। আর বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরীর পক্ষে পড়ে ৭৫ হাজার ৬২৭ ভোট। মতিয়ার বিরুদ্ধে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন ফাহিম চৌধুরী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেশি চিন্তিত দলের ঐক্য নিয়ে। এই আসনে বদিউজ্জামান বাদশার সঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর পুরোনো দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি বাদশা নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ায় জয় নিশ্চিতই মনে করছেন অনেকে। মতিয়াকে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখায় তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল। আসনটিতে মতিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই মনে করে তারা শেষমুহূর্তে ভোটের হিসাব নিয়ে এখন ব্যস্ত।

শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মানুষের কৌতূহল একটু অন্যরকম। এ আসনে লড়াই করছেন চাচা-ভাতিজা। নৌকা প্রতীক পেয়ে লড়ছেন চাচা ফজলুল হক চান। অপরপক্ষে ভাতিজা মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ধানের শীষ। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি উৎসাহ। ২০১৪ সালে বিএনপির বর্জনের মুখে নৌকা নিয়ে ৯৬ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে জেতেন ফজলুল হক চান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েতুল পেয়েছিল আট হাজার ৫৪৮ ভোট। ২০০৮ সালে এক লাখ ছয় হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে ভাতিজা রুবেলকে ৪০ হাজার ৮৭৮ ভোটে হারান ফজলুল। তার আগে ২০০১ সালে জিতেছিলেন ভাতিজা রুবেল। বস্তুত, আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে চাচা-ভাতিজার মধ্যে এমনটাই মনে করছেন ভোটাররা। প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন সেখানে চলছে ভোটের হিসাবনিকাশ।