একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিল করে আবার তফসিল ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপ্রধান সরকারবিরোধী নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল রবিবার রাতে বেইলি রোডের বাসায় বিএনপিসহ জোটের নেতাদের পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশের সব আসন থেকে একই রকম ভোট ডাকাতির খবর এসেছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের শতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশনকে বলছি, এই নির্বাচন বাতিল করা হোক। আমরা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবি করছি।
ড. কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করে অতীতের শত তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থাকার পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অনেক আশা নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ‘আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হবে না। মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের কিংবা গ্রেপ্তার করা হবে না।’ প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সমগ্র দেশবাসী যখন প্রস্তুত, তখনই আমরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে একের পর এক খবর পাই যে, গতকাল রাতেই আওয়ামী দুর্বৃত্তরা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহায়তায় নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখে। আজ (রবিবার) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে এবং বেশ ক’জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
সামনের দিনের করণীয় নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামীকাল বৈঠবে বসবে জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি নির্বাচন নয়, প্রহসন। অনেকে বলেছে, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছিলাম। এই নির্বাচন প্রমাণ করছে, ২০১৪ সালে নির্বাচনে না যাওয়াটা সঠিক ছিল। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এই নেতাদের নিয়ে কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও জেএসডির সভাপতি আ স ম রব ছিলেন।
বিএনপির বৈঠক আজ
নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের পর করণীয় নির্ধারণে আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। আজ বিকেল ৩টায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে বলে দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন।
দিদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ২০-দলীয় জোটেরও বৈঠক হবে।