বঙ্গভবন প্রস্তুত

নবনির্বাচিত সাংসদরা শপথ নিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেদিনই মন্ত্রিসভা গঠনের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আগামীকাল সোমবার গঠন হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। সেদিন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করবে আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে সবার লক্ষ্য এখন সেদিকেই। কে হচ্ছেন মন্ত্রী, বাদ পড়ছেন কারা, নতুন মুখ হিসেবেই বা কাকে দেখা যেতে পারেÑ এ আলোচনা চারদিকে। বিশেষ করে মন্ত্রী হতে চান এমন নেতাদের অধীর অপেক্ষা কেবল একটি ফোনের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আসা ওই ফোনে সংশ্লিষ্ট নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

মন্ত্রীদের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব এখন রাষ্ট্রপতির দপ্তর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুলে। বিশেষ করে বঙ্গভবন সাজছে নতুন সাজে। বঙ্গভবনের দরবার হলেই শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা। রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় কাটছে মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। মন্ত্রীদের বাসভবনগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়ামোছা। রং করার কাজ। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর এখানেই এসে উঠবেন মন্ত্রীরা। একইভাবে ব্যস্ত পরিবহন পুলের কর্মকর্তারাও। সরকারি পরিবহন পুলে নতুন করে আরও ২০-২৫টি গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজন হোক আর না হোক পরিবহন পুলের এসব গাড়ি ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এসব গাড়ির চালকদেরও নির্বাচিত করা হয়েছে। পরিবহন কমিশনার সৈয়দ আবদুল মমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের যানবাহন ও চালক নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। আশা করছি, সোমবার সকালের মধ্যে সব চূড়ান্ত হবে।’

এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশা করছি সোমবার বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বঙ্গভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রীদের গাড়ির জন্য পরিবহন পুলও প্রস্তুত।

গণভবন, সচিবালয়, দলীয় কার্যালয় ও নেতাদের কার্যালয়সহ সব জায়গায় এখন একই গল্পÑ কে হচ্ছেন মন্ত্রী, বাদ পড়ছেন কারা। ঘুরেফিরে আলোচনায় দলের ত্যাগী ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এ সবই গল্প। কেননা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ছাড়া কেউই জানেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন নেতারা।

নতুন মন্ত্রিসভায় কতজন সদস্য থাকবেন তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছেন, গতবারের চেয়ে মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বাড়তে পারে। ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা হতে পারে। পরে যুক্ত হতে পারেন আরও ছয় মন্ত্রী। প্রথম দফায় পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন মোট ৩৫ জন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন এবং ৫-৬ জন উপমন্ত্রী। কিন্তু সবকিছুই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর। মন্ত্রী করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার তার। ফলে কে মন্ত্রী হচ্ছেন, তা ফোন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারছেন না কেউ।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কে মন্ত্রী হচ্ছেন, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ধারণা নেই। প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সব জানেন।

এর আগে ২০১৪ সালের সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৪৮ জনের। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং ২ জন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যে। পাশাপাশি মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে পাঁচজনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়।

মন্ত্রীদের শপথকে কেন্দ্র গত গতকাল শনিবার বন্ধের দিনও ব্যস্ত ছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ ছাড়াও এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেখা গেছে। তারা নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণের ফাইল তৈরির কাজসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। তাই এ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো গুছিয়ে রাখার জন্যই আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করেছি।

নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারাই যোগাযোগ করে আমন্ত্রণ জানাবেন। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ তালিকা গতকাল পর্যন্ত তাদের কাছে আসেনি।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, সৎ, সাহসী, দক্ষ ও পরীক্ষিতদের নিয়েই এবার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এমন নেতাদের মন্ত্রী করতে চান যারা শিক্ষিত তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির, কোথাও কোনো বদনাম নেই। সংসদ সদস্য হিসেবেও যাদের কোনো দুর্নাম নেই। এমন কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রথমবার নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যারা দলের জন্য বিভিন্ন সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এমন কয়েকজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার কথা শোনা যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নতুন সাংসদ এবারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন।