মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন সুবর্ণচরের গৃহবধূ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান এই আশঙ্কার কথা জানান।

ডা. খলিলুর রহমান জানান, নির্যাতিতা ওই গৃহবধূর পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) এর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এর ফলে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।

ডা. খলিলুর রহমান আরও জানান, অমানবিক নির্যাতন, অধিক রক্তক্ষরণ ও ভিজিটরদের অতিরিক্ত চাপে নির্যাতিতা গৃহবধূ পিটিএসডি’র শিকার হতে পারেন।

তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থায় কেবিন ব্লকের নার্সেস অফিসার সিক কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গাইনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বোর্ডের রিপোর্ট ও পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা দেয়া হবে। বোর্ড মনে করছে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মহা-পরিচালক স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে পরামর্শ করে ঢাকায় রেফার করা হবে।

হাসপাতালে অবস্থানরত নির্যাতিতার স্বামী সিরাজ মিয়া সাংবাদিকদের দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রীকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে জানালে জেলা প্রশাসক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন।

এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা রুহুল আমিনসহ সাতজন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। সবগুলো আবেদনের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রোববার দুপুরে নোয়াখালীর ২ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক নবনীতা গুহ শুনানি শেষে সাতজন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা ‘ঘটনার ইন্ধনদাতা’ রুহুল আমিন, প্রধান আসামি মো. সোহেল, বাদশা আলম ওরফে কুড়াইল্যা বাসু, মো. স্বপন, মো. বেচু, জসিম উদ্দিন ও হাসান আলী ওরফে বুলু।

চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।