দখল-দূষণে আন্ধারমানিকের মরণদশা

একের পর এক স্থাপনা তুলে দখল করা হচ্ছে পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদী। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নদী দখল করে ভবন গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। দখলের পাশাপাশি দূষণের কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিরন দেখা যায়, বহুতল পাকা-আধাপাকা ভবনসহ টিনশেড স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। সবচেয়ে বেশি স্থাপনা তোলা হয়েছে এর উত্তর পাড়ে। কলাপাড়া পৌর শহর এলাকার নাচনাপাড়া ফেরিঘাট থেকে ফিশারিঘাট পর্যন্ত নদীর তীর দখল করে তোলা হয়েছে এসব স্থাপনা।  আবর্জনা ফেলায় নদী ভরাট করা হচ্ছে। আন্ধারমানিকের লঞ্চঘাট এলাকায়। আবর্জনা ফেলায় দূষণের কবলে পড়ে বিপর্যয় নেমে আসছে আশপাশের এলাকায়। এছাড়াও বালু ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা। আবার নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অন্তত ১০টি ইটভাটা। এছাড়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চাষযোগ্য খাস কৃষিজমি দেখিয়ে অনেকেই বন্দোবস্ত নিয়ে রেখেছেন।

আন্ধারমানিক নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সংযুক্ত সাতটি খাল এখন মৃতপ্রায়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজে। নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, তালতলীর চাউলাপাড়া, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার একর জমি চাষাবাদে ভয়াবহ সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পৌর এলাকার কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, এক সময় আন্ধারমানিকের বুকে দোতলা লঞ্চসহ স্টিমার চলাচল করত। জোয়ার-ভাটার সময় প্রবলবেগে এসব শাখা নদী কিংবা খালে পূর্ণ জোয়ারের প্রবাহ ছিল। নদীটি তার চিরচেনা বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। 

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশ জানান, নদী-খাল কিংবা সরকারের খাসজমি উদ্ধারে দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। আন্ধারমানিক নদীরক্ষায় এসব দখলদারদেরও উচ্ছেদ করা হবে।