নাজমুল হুদা কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ঘুষের মামলায় দন্ডিত তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতে নাজমুল হুদা আত্মসমর্পণ করলে তার জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক এইচ এম রুহুল ইমরান।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদক পক্ষে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত  বছরের কারাদ- দিয়েছিল বিচারিক আদালত। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদ- দেয়। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। তাতে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নাজমুল হুদাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। আজ (গতকাল) তিনি হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন। বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাপ্তাহিক একটি পত্রিকার জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির  কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা। ২০০৭ সালের আগস্টে এই মামলায় বিশেষ জজ আদালত নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদ- এবং আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদ- দেয় আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুজন আপিল করলে ২০১১ সালের মার্চে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাদের খালাস দেয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করলে শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের ওই রায় বাতিল করে মামলার পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। পুনঃশুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে নাজমুল হুদার সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদ- দেয়। আর তার স্ত্রী সিগমা হুদা যে সময়টুকু কারাগারে ছিলেন তা সাজা হিসেবে গণ্য করতে আদেশ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করে হেরে যান নাজমুল হুদা।