প্রতিবছর একটি করে দেশকে পেছনে ফেলতে পারলেই আমরা ২০তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হব নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী
২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির দেশে পৌঁছতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য প্রতি বছর অন্তত একটি করে দেশকে পেছনে ফেলে এগোতে হবে দেশকে। নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত সোমবার সন্ধ্যায় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ লক্ষ্যের কথা জানান।
লক্ষ্যে পৌঁছাতে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের উন্নয়নচিত্র সামনে রেখে বাংলাদেশ এগোবেÑ এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া উন্নয়নের জন্য মাত্র ২৫ বছর সময় নিয়েছে। চীনের লেগেছে ৩০ বছর। ২০৪১ সালে পৌঁছতে আমাদের ২২ বছর সময় রয়েছে। এই সময়ে প্রতিবছর একটি করে দেশকে পেছনে ফেলতে পারলেই আমরা ২০তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হব’।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০৩২ সালে বিশ্বের বড় ২৫টি দেশের একটি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ১২টি দেশকে টপকে গেছে। আগামী ১৫ বছরে টপকে যাবে আরও ১৭টি দেশ। এই যাত্রার প্রথম পাঁচ বছরে ৫টি দেশকে টপকে যাবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ হবে ৩৬তম অর্থনীতির দেশ। আরও ৯টি দেশকে পেরিয়ে ২০২৮ সালে হবে ২৭তম বড় অর্থনীতির দেশ। ২০৩৩ সালে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে টপকে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বড় অর্থনীতির দেশ।
সিইবিআরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আড়াই গুণের বেশি বাড়বে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি হবে (স্থিরমূল্যে) ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালে তার আকার হবে ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপারস (পিডব্লিউসি) এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৫০ সালে জিডিপির আকার বিবেচনায় বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ। সংস্থাটি বলছে, ক্রয়ক্ষমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে ২৮তম অর্থনীতির দেশ। তবে বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত অক্টোবরে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম বড় অর্থনীতির দেশ হবে।