পাওয়ার ভয়েস প্রতিযোগিতা দিয়ে উঠে আসেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। প্লেব্যাক, অডিও গান আর স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তাকে নিয়ে লিখেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান। ছবি তুলেছেন নূর-এ-আলম
নতুন কাজের খবর
গত ১ জানুয়ারি প্রকাশ হয়েছে কর্নিয়ার নতুন গান ‘উড়ো উড়ো মন’। গানটির কথা লিখেছেন সজীব শাহরিয়ার, সুর-সংগীতায়োজন করেছেন রেজওয়ান শেখ। সিডি ভিশন মিউজিকের ব্যানারে আপাতত গানটির লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। কর্নিয়া বলেন, ‘সাধারণত আমার প্রতিটি গান মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু এই গানটির অডিও ভার্সন এসেছে। তবে গানটিতে শ্রোতাদের সাড়া আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ সময় ভিডিও ছাড়া একটি গান এতটা পছন্দ করবে তা একেবারেই ভাবিনি। আমি আবার প্রমাণ পেলাম, গানের কথা-সুর আর গায়কি ভালো হলে তা জনপ্রিয়তা পাবেই। অচিরেই গানটির ভিডিও প্রকাশ হবে।’
এদিকে, ৫ জানুয়ারি এ কণ্ঠশিল্পী অংশ নিলেন জেমস ও মমতাজের সঙ্গে একটি কনসার্টে। শিগগিরই প্রকাশ হতে যাচ্ছে তার দুটি নতুন গান। ‘ঢাকা তে জ্যাম’ গানটি সুদীপ কুমার দীপের কথায় সংগীতায়োজন করেছেন অম্লান চক্রবর্তী। প্রকাশ করবে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন। এ ছাড়া জুয়েল মোর্শেদের সঙ্গে গেয়েছেন ‘তুই তুকারি’ শিরোনামে একটি দ্বৈত গান। এর কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি। সুর-সংগীতায়োজনে নাভেদ পারভেজ। অতিসম্প্রতি বেলাল খানের সঙ্গে প্রথমবার গাইলেন যুগল পরিচালক অপূর্ব-রানার ‘দরদ’ সিনেমার জন্য। আসছে ভালোবাসা দিবসেও থাকবে নতুন একটি গান। জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের সঙ্গেও তার জুটি শ্রোতার বেশ পছন্দ। এই গায়কের সঙ্গেও একটি গান গেয়েছেন, যা প্রকাশের অপেক্ষায়। তার ইচ্ছা তাহসান আর মিনারের সঙ্গেও দ্বৈত গান করার।
ছোটবেলা
কর্নিয়ার জন্ম মাগুরায় হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। পড়ালেখাও ঢাকায়। ২০০০ সালে মারা যান বাবা। এরপর মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলছেন তিনি। এখনো মা-ই তার একমাত্র ভরসা। ছোটবেলাতেই গানে হাতে খড়ি। মায়ের অনুপ্রেরণাতেই শুরু করেন গান। স্কুল-কলেজের কনসার্টে কর্নিয়ার গান শুনে মুগ্ধ হতেন শিক্ষক ও বন্ধুরা। তবে গায়ক হবেন এমন স্বপ্ন দেখেননি তিনি।। কর্নিয়া বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন আমি কখনোই দেখিনি। আমাকে কণ্ঠশিল্পী বানানোর স্বপ্ন দেখতেন আম্মু। আম্মুই আমাকে সেভাবে গড়ে তুলেছেন।’
কর্নিয়ার স্বপ্ন
‘স্বপ্ন ছিল পাইলট হব। নীল আকাশে ভেসে বেড়াব। তা আর হয়ে ওঠেনি। হয়ে গেলাম গায়িকা’ বললেন কর্নিয়া। এ ছাড়া আরও কারণ ছিল! এলোমেলো কর্নিয়া কি অতটা নিয়মানুবর্তী হতে পারতেন? পারতেন না নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে। উড়ো উড়ো মনে যার দুষ্টুমি খেলা করে, সে কী করে নিয়মের মধ্যে আসবে। স্বীকারও করে নিলেন তিনি, ‘আমি তো বরাবরই দুষ্ট ছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকেই। বন্ধুদের সঙ্গে প্রচুর দুষ্টুমি করতাম। সেসব দুষ্টুমির কথা বলে শেষ করা যাবে না।’
প্রেম-ভালোবাসা
এই যার অবস্থা সে না জানি কতবার প্রেমে পড়েছে! কিন্তু মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন উল্টো, ‘না, এ সবের মধ্যে আমি নেই। আর এ সব নিয়ে কিছু বলতেও চাই না।’
নিজের প্রেমে পড়া নিয়ে মুখ না খুললেও এটা জানাতে ভুল করলেন না যে অনেক ছেলে ঘুরত কর্নিয়ার পেছনে। কতশত যে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।
এই শীতকাল যেমন স্টেজ শো’র সময়, তেমনি এটা বিয়ের মৌসুমেরও সময়। কর্নিয়ার অনেক সহকর্মীই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। তিনি কবে বিয়ে করবেন জানতে চাইলে একগাল হেসে বললেন, ‘বিয়ের সময় এখনো হয়নি। তবে খুব বেশি দেরিও নেই।’
নিজের পাত্র নিজেই ঠিক করে রেখেছেন কিনা জানতে চাইলে কর্নিয়া বলেন, ‘না। ভারটা পরিবারের লোকজনের ওপরেই। এখনো তারা পাত্র দেখা শুরু করেনি। আর এ সব ঝামেলায় এখনই জড়াতে চাইও না।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কর্নিয়া স্বপ্ন দেখেন একদিন কালজয়ী হবেন। তার গান বেঁচে থাকবে বছরের পর বছর। সেভাবেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
৫ বছরের ক্যারিয়ারে যা পেয়েছেন তাতে নিজেকে তৃপ্তই মনে করেন কর্নিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। যা পেয়েছি। তাই আমার কাছে অনেক।’