২০১৮ সালে সড়ক রেল নৌপথে দুর্ঘটনা প্রাণ হারিয়েছে ৪ সহস্রাধিক

২০১৮ সালে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় চার হাজার ৪০২ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই)। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছে চার হাজার ২৫ জন। আহতের সংখ্যা তিন হাজার ৪৬৪।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ৪৬৪টি। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩১টি, আর নিহতের সংখ্যা ২৪২ জন। আহত হয়েছে ২১২ জন। তুলনামূলকভাবে নৌপথে দুর্ঘটনার হার কম। ২০১৮ সালে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। নিহত ১৭ ও আহতের সংখ্যা ৫৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে ১১৮ জন।

দুর্ঘটনা কমানোর ব্যাপারে এআরআইয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. শিফুন নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়কের দুর্ঘটনা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত, চালকের মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও যথাযথ মনিটরিং করতে হবে। বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ, রাস্তা-ঘাটের মানোন্নয়ন, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস করতে হবে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশকে মনিটরিং করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকই দায়ী না। বাসের প্রতিযোগিতা এবং এখানে সরকারের বড় একটা দায় নিতে হবে। বারবার বলা হচ্ছে, এক রুটে বহু বাসের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।’ পথচারীর যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়াও চালকের মনোযোগ নষ্ট করে বলে জানান তিনি। এই শিক্ষক বলেন, ‘রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির (আরটিসি) সদস্য যারা অনুমোদন দেবে, তাদেরই পরিবহন ব্যবসা রয়েছে। এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের জায়গা থাকে।’ এই কমিটিগুলো ঠিক করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ে শিফুন নেওয়াজ বলেন, ‘অপরিকল্পিত উপায়ে এ শহর গড়ে উঠেছে। একটা সুস্থ শহরে সবার আগে রাস্তার জায়গা বের করা হয়। আমাদের দেশে হয়েছে উল্টো, সবার আগে বাড়িঘর করা হয় তারপর রাস্তা। ঢাকায় গলি প্রচুর, পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। যা আছে সেগুলো সংকীর্ণ। আবার মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেশি। সারা বিশ্বে একটা শহরে একটি বা দুটি কোম্পানির বাস অপারেট করে। কিন্তু ঢাকায় একই রুটে অনেক কোম্পানির বাস। আবার এক কোম্পানিতে বহু মালিক, অর্থাৎ প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের প্রতিযোগিতা। এর ফলেই একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আবার বাসগুলো একেক জায়গায় থেমে যানজটের সৃষ্টি করে।’

রাজধানীতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নেই বলে দাবি করেন এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নিবন্ধনভুক্ত ১৩ লাখ যানবাহনের মধ্যে ৯ লাখের কাছাকাছি ব্যক্তিগত গাড়ি। গণপরিবহনের সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার, তাও দিন দিন কমছে। প্রতি ১২০০ অ্যাক্টিভ মানুষের জন্য মাত্র একটি বাস!’ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে সরকারের ইমেজ বাড়বে বলে মত দেন এই শিক্ষক।