ডাকাতির দল চালায় স্বর্ণের দোকান মালিক

গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার র‌্যাবের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের প্রধান টঙ্গীর আফতাব প্লাজার পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের কর্ণধার। চক্রে জড়িত ছিলেন একজন ভ্রাম্যমাণ কাপড় বিক্রেতা এবং কাঠমিস্ত্রিও। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সম্প্রতি ঢাকা ও গাজীপুরের সংঘদ্ধ ডাকাতদল বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে আসছিল। র‌্যাব-১-এর একটি দল গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো প্রদীপ পোদ্দার, দুলাল হোসেন, মো. রাসেল, জাকির হোসেন, কোকিলা বেগম ও হাজেরা বেগম। তাদের কাছ থেকে ৫ ভরি ৬ আনা স্বর্ণের অলংকার, চারটি মোবাইল সেট, ১১ হাজার টাকা, দুই বোতল স্বর্ণ যাচাই কেমিক্যাল, ১১ জোড়া সিটি গোল্ডের চুড়ি, সাত জোড়া সিটি গোল্ডের কানের দুল ও দুটি নেকলেস এবং একটি কষ্টিপাথর উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ডাকাতদলের মূল হোতা প্রদীপ পোদ্দার। সে টঙ্গীর আফতাব প্লাজার দ্বিতীয় তলার পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের কর্ণধার। তার ছত্রছায়ায় একটি চক্র ডাকাতির মাল অল্প মূল্যে তার কাছে বিক্রি করে থাকে। যখন ডাকাতচক্রের কাজ বন্ধ থাকে তখন প্রদীপ পোদ্দার ডাকাতদলের সদস্যদের সংসারের খরচ দিয়ে থাকে। কোনো ডাকাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে সে টাকা দিয়ে উকিলের মাধ্যমে ছাড়ানোর ব্যবস্থাও করে। পরবর্তী সময়ে ডাকাতির মাল ক্রয়ের সময় সমন্বয় করে নেয়। গত তিন বছর ধরে প্রদীপ জুয়েলারি সরঞ্জামাদির ব্যবসা করছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামি দুলাল হোসেন পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। সে তৈরি পোশাক উত্তরার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। কাপড় বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন বাসার বাসিন্দাদের গতিবিধি লক্ষ্য করত। অন্য আসামি জাকির হোসেন একজন কাঠমিস্ত্রি। সে চার বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে গেলে দুলাল হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে থেকেই ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে জাকির।