আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক সমঝোতার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সমন্বয়কদের মধ্যে হান্নান মাসউদ সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে হান্নান মাসউদের বিভিন্ন সময়ে বৈঠক হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

রাশেদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্যকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা চলে। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ তার সহযোগী আব্দুল গাফফার জিসানকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চাইলেও চুক্তিটি ৩ কোটি টাকায় চূড়ান্ত করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে এবং বর্তমানে অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী বিএনপি নেতা আরও জানান, হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান নিজেই হান্নান মাসউদের এসব কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। গত ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিসান সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের পাশাপাশি হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে জিসান তার থেকে দূরে সরে যান।

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালী-৬ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার দাবি, হান্নান মাসউদ মোহাম্মদ আলীকে নিজের রাজনৈতিক পথের প্রধান বাধা মনে করতেন। আর এ কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে।

রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত বিভিন্ন আলোচনায় হান্নান মাসউদ বলতেন যে নোয়াখালীর অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, বিরোধ কেবল মোহাম্মদ আলীর সাথেই। একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়া প্রয়োজন-এমন মনোভাবও তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত