ঘিঞ্জি এলাকার উন্নয়নে ডিএসসিসির প্রকল্প

রাজধানীর বিভিন্ন ঘিঞ্জি এলাকাকে চারটি ভাগে ভাগ করে নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ঢাকা নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’টির বাস্তবায়ন ২০২২ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিএসসিসি এলাকায় যেসব নদী, পুকুর বা ঝিল রয়েছে সেগুলোর পাড় বাঁধাই ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। এখানে অবসর সময় কাটাতে পারবেন নগরবাসী। প্রকল্পের আওতায় এসব এলাকায় পাবলিক টয়লেট, কমিউনিটি সেন্টার কাম মাল্টিপারপাস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে যার ওপরে জিমনেশিয়াম ও লাইব্রেরি থাকবে। ভাঙাচোরা ও ব্যবহার অযোগ্য রাস্তা-ঘাট ঠিক করার পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এসটিএস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজধানীর খিলগাঁও, বাসাবো এবং পুরান ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত নাজুক। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এসব এলাকার বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা ভালো নয়। নেই বর্জ্য ফেলার তেমন কোনো ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পার্ক, খেলার মাঠ। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের অবসর সময় কাটানো ও বাচ্চাদের খেলাধুলার স্থান নির্ধারণে এই পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএসসিসি। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর সুবিধার্থে এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজ চলছে। এছাড়া নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ঢাকার চারটি এলাকা চিহ্নিত করে নতুন একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার চিত্রও বদলে যাবে।’ এর আগে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকা আধুনিকায়নে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক)। আরবান রি-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ছোট ছোট বাড়ি ভেঙে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ ও ২০০ ফুট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলাসহ নানা পরিকল্পনা ছিল তাতে। সেই লক্ষ্যে জমির মালিকদের সমন্বয়ে ব্লক ভিত্তিক নগর গড়ার প্রাথমিক প্রকল্পের কাজের পরিকল্পনাও শেষ করেছিল রাজউক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়ি-জমির মালিকদের অনাস্থার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।