পুত্রের স্বীকারোক্তি বন্ধুদের সহযোগিতায় ফেনীতে বাবাকে খুন

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় তিন বন্ধুকে নিয়ে বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কালামকে (৫২) খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ছেলে আবুল হাসান (১৮)। গতকাল শুক্রবার রাতে ছাগলনাইয়া ওসি এম এম মোর্শেদ ও পরিদর্শক (তদন্ত) সুদ্বীপ রায়ের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। আবুল হাসানের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তার বাবা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পশ্চিম মধুগ্রামের মিদ্দা বাড়ির সাবেক সেনাসদস্য আবুল কালামের দুই সংসার। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী হাসানের মা রেখা আক্তারের সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো কালামের। গত ৪ জানুয়ারি ঝগড়ার এক পর্যায়ে হাসানের মাকে মারধর করেন তার বাবা। মা হাসানের ভাইবোনদের নিয়ে নানাবাড়ি চলে যান। এ সুযোগে ছেলে আবুল হাসান তিন বন্ধুসহ রাত ১০টার দিকে বাবার কক্ষে ঢুকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে আবুল কালামের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করেন। এরপর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ছেলে বাবাকে সজাগ করা চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও চেতনা না ফেরায় তিনি মারা গেছেন বুঝতে পেরে বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে বাবার লাশ রেখে দেয় আবুল হাসান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে আবুল কালামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার ও ছেলে আবুল হাসানকে থানায় নেয় পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হাসানের আরেক বন্ধুকে আটক করলেও অন্য দুজন পলাতক। আবুল কালাম সেনাবাহিনীর অসামরিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। তিনি সেখানে বাবুর্চির কাজ করতেন।